সবচেয়ে জনপ্রিয় ও চাহিদাসম্পূর্ন ফ্রিল্যান্সিং কাজ ২০২৪

যারা কঠোর কর্পোরেট পরিবেশ পছন্দ করেন না, তাদের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি প্রমাণ করে যে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক।  যারা বাড়ি থেকে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং পেশা একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে।  

ইন্টারনেটে বর্তমানে সারা বিশ্ব থেকে প্রচুর ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারফলে  বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ব্যবসায় এখন কর্মী প্রয়োজন যারা নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করতে পারে। 

এই কারণে অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং পেশাটিতে আসতে চায়। তাই অনেকেই জানতে চায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো কী কী? তাই আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাহলে এইসব সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্য থেকে যে কোনো একটি কাজ বেছে নিতে পারেন। 

আর এথেকে আপনি  সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি কাজ করেন তাহলে খুব ভালো আয় করতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো কী কী। Top Freelancing Jobs in Bengali

সবচেয়ে জনপ্রিয় ২০ টি ফ্রিলান্সিং কাজ

ফ্রিল্যান্সিং খুব বড় একটি সেক্টর। সারা বিশ্বে ফ্রিলান্সিং এর বহু কাজ রয়েছে। অসংখ্য সে ফ্রিল্যান্স জব থেকে বাছাই করা সবচেয়ে জনপ্রিয় সেরা ২০ টি ফ্রিল্যান্সিং কাজ সম্পর্কে নিচে তুলে ধরা হলো।

কন্টেন্ট রাইটিং 

কন্টেন্ট রাইটিং হল অন্যতম সেরা ফ্রিল্যান্স চাকরির ক্যারিয়ারের একটি। আর তাই সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্যে সবার আগে এগিয়ে আছে কন্টেন্ট রাইটিং কাজটি।

বিভিন্ন জায়গা এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে ক্রমাগত তাদের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক মিডিয়ার জন্য নিবন্ধ, ব্লগ, ইবুক, বক্তৃতা, প্রেস রিলিজ এবং অন্যান্য ধরণের উপাদানগুলির সন্ধান করে থাকে৷ একজন ফ্রিল্যান্স কনটেন্ট রাইটার হওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই চমৎকার লেখার দক্ষতা থাকতে হবে।

কন্টেন্ট রাইটিং শেখার উপায় নিয়ে Linked In একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ফ্রিল্যান্স জব হল ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট। প্রতিটি ব্যবসা এবং এন্টারপ্রাইজের একটি ওয়েবসাইট প্রয়োজন, যার অর্থ হল লক্ষ লক্ষ ব্যক্তির একজন ওয়েব ডিজাইনারের সহায়তা প্রয়োজন। আর এই কারণে প্রচুর পরিমাণ ওয়েব ডেভেলপার প্রয়োজন।

আর তাই সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্যে ওয়েব ডিজাইনার বা ওয়েব ডেভেলপারের কাজটিও রয়েছে। একজন ফ্রিল্যান্সার ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করার জন্য আমাদের  ডিজাইন এবং কোডিং এর সাথে পরিচিত হতে হবে। আমরা যদি কোডিং ভাষা না জানি তাহলে আমরা একজন ভালো ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার হতে পারবো না।

ডিজিটাল মার্কেটিং

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং আরেকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সারই ডিজিটাল মার্কেটিং এ কাজ করছে। এই কাজের জন্য আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে। এটা একটু চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। 

তাই আপনি যদি এই কাজটা সুন্দর করে করতে পারেন তাহলে অনলাইনে প্রচুর কাজ রয়েছে আপনার জন্য। তাই সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজের তালিকায় ডিজিটাল মার্কেটিং কেও স্থান দিতে হয়েছে।

অনলাইন টিউটরিং

বর্তমান সময়ে অনলাইনে টিউটরিং সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর একটি। আর তাই আমাদের দেশে অনেকেই অনলাইন টিউটরিং এর কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কারণে অনেক ছাত্র ছাত্রীরাই আজকাল সরাসরি প্রাইভেট টিউটরের কাছে না পড়ে অনলাইনে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আর এই জন্য আমাদের দেশে এই ফ্রিল্যান্সিং কাজের চাহিদা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে।

যদিও করোনাকালীন সময় অধিকাংশেরও বেশী শিক্ষার্থী অনলাইনেই পড়াশোনা করেছিল। সেই কারণে এখনো এই অনলাইন টিউটরিং কাজটি চলমান রয়েছে। যেকারণে অনেকের কাছে এই ফ্রিল্যান্সিং কাজটির জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। 

এছাড়াও ফ্রিল্যান্স টিউটর হিসাবে কাজ করা অনেক সহজ, এবং এটি প্রচলিত শিক্ষার চেয়েও বেশি অর্থ প্রদান করতে পারে। এর পাঠদানের সময় সীমাও থাকে নিজের স্বাধীন মতো। তাই নিজের ব্যক্তিগত সময়সূচীর চারপাশে সেশনের পরিকল্পনা করতে পারা যায়। অনলাইন টিউটররা সাধারণত জুম, হোয়াটসঅ্যাপ বা গুগল মিটের মাধ্যমে তাদের ছাত্রদের শেখান।

ব্লগিং

ব্লগিং হলো অনলাইনে সবচেয়ে বেশী আয়ের একটি পথ। যেখান থেকে একজন ফ্রিল্যান্সার বেশ ভালো একটি ইনকাম করতে পারে। তাই যারা এই কাজে পারদর্শী তাদের উচিত ব্লগিং করে আয়ের পথ সৃষ্টি করা। আমাদের দেশে প্রায় স্মার্ট তরুণই ব্লগিং পেশায় ঝুকছে। তার কারণ এখানে একটু কষ্ট করলে ব্যাপক ইনকাম সম্ভব।

যেকারণে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে ব্লগিং সবচেয়ে সেরা। তাই অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সাররাই অন্যান্য কাজ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলেও, একটা সময় তারা সবাই নিজেদের একটি ব্লগ তৈরি করে সেখান থেকে ইনকাম শুরু করেন। আর তাই এযাবতকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে ব্লগিং একটি।

ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হওয়া একটি শীর্ষ ফ্রিল্যান্সিং কাজের গুলোর মধ্যে একটি। ফটোগ্রাফির প্রতি অনুরাগী এবং বিভিন্ন ধরনের ফটোগ্রাফির পোর্টফোলিও তৈরি করেছেন এমন একজন ব্যক্তির জন্য ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারের কাজটি খুবই যুতসই।

যে কারণে আমাদের দেশে দিনদিন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারের সংখ্যা বাড়ছে। আর তাই ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। 

একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার ফটোগ্রাফি দক্ষতার পাশাপাশি, যদি পোস্ট-প্রসেসিং, এডিটিং এবং রিটাচিংয়ের দক্ষতা অর্জন করতে পারে তাহলে এই ফ্রিল্যান্সিং জগতে সে আরো ভালো কাজ এবং আয় দুটোই করতে পারবে।

আফিলিয়েট মার্কেটিং 

দিনদিন অনলাইন থেকে ইনকাম করার পথ বাড়ছে। আর তাই এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সবচেয়ে বেশী অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা সম্ভব। যদি আপনি যদি ভালোভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং কে আপনি ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন। আর বর্তমান সময়ে অধিকাংশ চৌকস ফ্রিল্যান্সার শুধুমাত্র এফিলিয়েট মার্কেটিং করেই এখান থেকে প্রচুর টাকা আয় করছেন। যেকারণে এফিলিয়েট মার্কেটিং সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং একটি কাজ। 

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর

ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ফ্রিল্যান্স কাজের সবচেয়ে সহজ ধরনের একটি। ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের কাজ করার জন্য কারো কোনো বিশেষ দক্ষতা থাকতে হয় না। যে কেউ  শুধুমাত্র এমএস-অফিস বা স্প্রেডশীটে টাইপিংয়ে যদি দক্ষ হয়, তাহলে তার কাজ করতে কোনো অসুবিধা হয় না।

আর এই কারণেই আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণ ফ্রিল্যান্সার শুরু থেকেই শুধু ডাটা এন্টির কাজই করতে থাকে। যারফলে আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্যে ডাটা এন্টি কাজটি সবার উপরে রয়েছে।

ক্রিয়েটিভ ডিজাইনিং

ডিজাইনিং হল একটি খুব বিস্তৃত একটি বিভাগ। যেখানে একটি মৌলিক পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা থেকে শুরু করে অ্যাডোব ফটোশপে একটি ডেস্কটপ তৈরি করা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনসহ অন্তর্ভুক্ত থাকে।  

যাইহোক আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণ ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে, যেখানে অনেক প্রশিক্ষণার্থী এইসব ক্রিয়েটিভ ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ফলে এই কাজটিও আমাদের দেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 

যদিও এটি দ্রুত এবং সহজে করতে একজন ফ্রিল্যান্সারকে প্রচুর অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে। এছাড়াও একটি পোর্টফোলিও প্রস্তুত করতে হবে যাতে ক্লায়েন্টদের কাছে কাজ উপস্থাপন করা যায়।  এটি অন্যান্য ডিজাইনারদের তুলনায় একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং হল সবচেয়ে জনপ্রিয় ধরনের ফ্রিল্যান্স কাজ। যেখানে অনলাইন বাজারে  ফ্রিল্যান্স কর্মীদের ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টার থেকে বিশাল বিলবোর্ড পর্যন্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় গ্রাফিক্স তৈরি করে।

একজন ভালো গ্রাফিক ডিজাইনার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই পেশাদার প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করার আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। আর আমাদের দেশে প্রায় জায়গাতেই এখন গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

যে কারণে প্রচুর পরিমাণ যুব শক্তি এই কাজে নিয়োজিত। আর সেইজন্য আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্যে গ্রাফিক্স ডিজাইনও রয়েছে।

ই-মেইল হ্যান্ডেলিং 

দিনদিন অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে। একইসাথে তাদের কাজও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণে তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ইমেইল আসা-যাওয়া করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মী দ্বারা এতগুলো ইমেইল হ্যান্ডেলিং করা সম্ভব নয়। 

তাই সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আপনি যদি ইমেইল হ্যান্ডেলিং এর কাজ করেন তাহলে ইমেইল হ্যান্ডেলিং এর কাজ করেও বেশ ভালো একটি আয় করা যাবে। এই কারণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্যে ইমেইল হ্যান্ডেলিংও রয়েছে।

ফ্রিল্যান্স এসইও বিশেষজ্ঞ

এসইও বিশেষজ্ঞ হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সার্চ ইঞ্জিন অ্যালগরিদম বোঝেন এবং যেকোন ব্যবসা বা কন্টেন্টকে  একটি নির্দিষ্ট সার্চ কোয়েরির জন্য Google-এ হাই ক্লাস র‍্যাংক  পেতে সাহায্য করেন।

যদিও একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্স এসইও বিশেষজ্ঞ হতে হলে আমাদের অবশ্যই ক্রলার, কীওয়ার্ড, সার্চ ইঞ্জিন অ্যালগরিদম এবং এসইও কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। আমাদের দেশে এই ফ্রিল্যান্স এসইও কাজটির জন্য ব্যাপক দক্ষ জনবল নেই। তাই এই কাজটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ হলেও অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে এইসব কাজ বুঝে না। তাই আমাদের উচিত এসইও কাজ গুলো ভালোভাবে শিখে কাজে লাগানো।

কপি টাইপিং

আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে অন্যতম হলো কপি রাইটিং। আর কপি টাইপিং হলো পিডিএফ থেকে ডকুমেন্টে টাইপ করা বা ওয়েবসাইট থেকে ডকুমেন্টেকে সুন্দর করে টাইপ করে গ্রাহককে পৌঁছে দেওয়া। বর্তমান সময়ে অনলাইনে যত ধরনের সহজ কাজ আছে তার মধ্যে অন্যতম একটি সহজ কাজ হলো কপি টাইপিংকরা। 

যেকারণে আমাদের দেশে অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সারই তাদের কাজ শুরু করে কপি রাইটিং করে। আর তাই এই কাজটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে একটি।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার খুবই দুর্দান্ত একটি ফ্রিল্যান্স চাকরি, যা সময়ের প্রয়োজনে আজকাল ব্যাপকভাবে সমাদৃত। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে পারেন। তাই এখানে একজন ফ্রিল্যান্সারকে অনেক প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করতে হবে যেমন Facebook, Instagram, Twitter, LinkedIn, WhatsApp, এবং অন্যান্য। 

অর্থাৎ সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে চমৎকার গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জন করাই সোস্যাল মিডিয়া ম্যাজারের কাজ। আর এই কাজটি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর কারণ অধিকাংশ গ্রাহকই আজকাল অনলাইন থেকেই পণ্য ক্রয় করছে। যেকারণে সবাই অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে।

কিন্তু সবাই অনলাইনে দক্ষ নয়। যেকারণে এইসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ ম্যানেজার। আর তাই দিনদিন সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ হিসাবে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার খুবই পরিচিতি লাভ করছে।

কাস্টমার সাপোর্ট 

এখন ডিজিটাল যুগে সবাই পণ্য ক্রয় থেকে শুরু করে অধিকাংশ যাবতীয় কাজই অনলাইনে করতে পছন্দ করে। আর তাই বিভিন্ন কোম্পানির তাদের কাস্টমারদের সাথে কথা বলার জন্য এক্সপার্টদের প্রয়োজন হয়। আর এই কাজটি একটি ফ্রিল্যান্সিং কাজ।

তাই বর্তমানে যারা ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় দক্ষ, তারা এই পেশাকে খুব পছন্দ করছে। যে কারণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে কাস্টমার সাপোর্ট কাজটিও উঠে এসেছে। 

অডিও-ভিজ্যুয়াল এডিটর

অডিও-ভিজ্যুয়াল এডিটরের অবশ্যই ভিডিও এবং অডিও রেকর্ডিং, সম্পাদনা এবং তৈরি সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এই কাজটি মূলত হচ্ছে, ক্লায়েন্ট থেকে এডিটিং করার জন্য অডিও বা ভিডিও নেওয়া হয়। আর এইসব অডিও বা ভিডিও গুলো ক্লায়েন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পাদনা করাই হচ্ছে অডিও-ভিজ্যুয়াল এডিটরের কাজ।

আর বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনেক বেশী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অনলাইনে কাজ করছে। নতুন চ্যানেল, পেইজ ইত্যাদি আসার কারণে এই লাইনে কাজের চাহিদা বেড়ে গেছে। যারফলে সবাই অডিও-ভিজ্যুয়াল এডিটরের খোঁজ করে। বিশেষ করে ইউটিউব, ফেইসবুক, টিকটক প্লাটফর্ম গুলোতে এই ফ্রিল্যান্স কাজের চাহিদা ব্যাপক।

সেকারণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ হিসাবে অডিও-ভিজ্যুয়াল এডিটরের যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যারা প্রশিক্ষণ এবং ব্যাক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে নিজের প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে, তারা এখান থেকে খুব ভালো একটি ইনকাম করছে। 

লোগো ডিজাইন

আমাদের দেশে অধিকাংশ ইয়াং জেনারেশনই হচ্ছে আপডেট। আর তাই তারা নিজের দক্ষতা দিয়ে এমন এমন সব কাজ করতে পারে, যা অনেক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও পারে না। এমন একটি কাজ হচ্ছে লোগো ডিজাইন।

কিন্তু লোগো ডিজাইন বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্রিল্যান্সিং কাজ। তাই অনেকে শুরুর দিকে নিজের চেষ্টায় ছোটখাটো কাজ করার চেষ্টা করে। যখন কাজ আসতে শুরু করে তখন অনেকেই লোগো ডিজাইন শিখে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।

এছাড়া আজকাল প্রতিটি জায়গায় লোগোর প্রয়োজন হয়। অনেকেই নিজের ফেইসবুক প্রোফাইলেও লোগো দিয়ে থাকে। তাই বর্তমান সময়ের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে লোগো ডিজাইনও রয়েছে। 

অনুবাদক

একজন অনুবাদক হলেন যিনি এক ভাষার বিষয়বস্তু অন্য ভাষায় অনুবাদ করেন। বর্তমান আধুনিক সমাজে অনুবাদের কাজ বেশ মূল্যবান। বিশ্বায়নের কারণে আমরা এখন নানান দেশ ও জাতির সাথে মিলিত হচ্ছি প্রতিনিয়ত। এরফলে আমাদের নিজস্ব সভ্যতার বাইরেও অন্যান্য দেশ ও জাতির প্রতি আমাদের আগ্রহ বাড়ছে দিনদিন।

যেকারণে আমরা নিজের ভাষায় অন্যের ইতিহাস ঐতিহ্য সহ সাহিত্য চর্চা করতেও আগ্রহী। এই কারণে দিনদিন অনুবাদকের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর তাই ফ্রিল্যান্স কাজ হিসাবে অনুবাদকের চাহিদাও বাড়ছে। তাই যারাই ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় লিখতে পারদর্শী, তাদের জন্য অনুবাদকের কাজটি খুবই সামাঞ্জস্যপূর্ণ। যেকারণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ হিসাবে দিনদিন অনুবাদকের চাহিদা এবং আয়ের পথ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট

দিনদিন তথ্যপ্রযুক্তির আপগ্রেডের কারণে অনলাইন ভিত্তিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর প্রচুর চাহিদা দেখা যাচ্ছে। তাই কেউ যদি ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে চায় তাহলে সামান্য প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং নিজের যোগ্যতা দিয়ে এই পেশায় ভালো একটি অবস্থান করে নিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে তাকে ভালো ইংরেজি জানতে হবে এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

আর যেহেতু আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম ইংরেজীতে খুব দক্ষ, তাই এই পেশায় কাজ করে দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে ভালো একটি ইনকাম করা যাবে। সেকারণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলোর মধ্যে দিনদিন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টেরও চাহিদা বাড়ছে। 

শেষ কথা

উপরোক্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো থেকে যে কেউ চাইলে যেকোনো একটি কাজ শুরু করতে পারেন। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং কেই আপনার পেশা হিসাবে বেছে নিতে চান তাহলে  এখনই শুরু করুন।  কেননা  কোম্পানীগুলি খরচ কমাতে এবং যুগের প্রয়োজনে ব্যাপকভাবে ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ দিচ্ছে। আর তাই চাইলে আপনিও এইসব সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো থেকে যেকোনো একটি শুরু করে আপনার ক্যারিয়ার গঠন করতে পারেন। 

Leave a Comment