Homeওয়েবসাইটওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে - বিস্তারিত পড়ুন

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে – বিস্তারিত পড়ুন

আপনি কি জানতে চান ওয়েবসাইট তৈরি করতে ঠিক কি কি জিনিস লাগে?

সমস্যা নেই।

আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের আর্টিকালে আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন হয় তা সম্পর্কে একটি পরিপূর্ন গাইডলাইন পেতে যাচ্ছেন।

আমরা অনেকে মনে করি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে কোডিং জানা লাগে কিংবা ওয়েব ডেভেলোপার হতে হয়। কিন্তু আজকে কোনো প্রকার কোডিং ছাড়া ওয়েবসাইট তৈরির প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিশ্চিত হয়ে গেলে ঘরে বসে আপনি নিজে নিজেই ওয়েবসাইট তৈরি করুন খুব সহজে। কোনো ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভেলোপার ভাড়া করার প্রয়োজন নেই।

শুরু করছি আমাদের আজকের বিষয়- ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে কি কি জিনিস লাগেঃ

১। ডোমেইন নাম

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি লাগে তা হলো একটি ডোমেইন নাম।

আপনি যেই ডোমেইন নাম দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তা যদি কোনো ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তাদের ব্রাউজারে লিখে সার্চ করে তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি খুজে পাবে।

এ কারনে ডোমেইন নামকে ওয়েবসাইটের ওয়েব এড্রেস বলা হয়।

ডোমেইন নাম আপনার পছন্দমতো আপনি যেকোনো কম্পানি থেকে কিনতে পারবেন। তবে ডোমেইন নেম হচ্ছে একটি একক নাম। তার মানে হলো কেউ যদি একটি ডোমেইন নাম কিনে নেয় পরবর্তিতে সেটি কেউ কিনতে পারে না যদি না ডোমেইনের মেয়াদ শেষ হয়।

যেমনঃ Techbdtricks.com

আমাদের ডোমেইন নামটি ১ বছরের জন্য ৮০০ টাকা দিয়ে কেনা আছে। পৃথিবীর আর কেউ এটি কিনতে পারবে না। তবে এক বছর পর যদি আবার ৮০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করি, তাহলে যে কেউ আবার এই ডোমেইন নামটি কিনে নিতে পারবে।

তো আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার কথা ভাবেন তাহলে প্রথমেই আপনাকে একটি ভালো মানের ডোমেইন নাম খুজে বের করতে হবে।

যেহেতু আপনার ওয়েবসাইটের নাম আপনার একটি ব্র্যান্ড তাই ডোমেইন খুব সতর্কতার সাথে বাছাই করা উচিত। তাই আগে এটি পড়ুন- ডোমেইন নেম কি এবং কিভাবে ডোমেইন কিনতে হয়

২। হোস্টিং সার্ভার

হোস্টিং হচ্ছে এক ধরনের অনলাইন স্পেস বা জায়গা, যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে লাইভ করাতে পারবেন।

এটি একটি অনলাইন মেমুরীর মতো। তবে মেমুরী আর হোস্টিং এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আপনার মেমুরী আপনি ছাড়া আর কেউ এক্সেস করতে পারে না কিন্তু হোস্টিং এ কোনো ওয়েবসাইট রাখলে সেটি পৃথিবীর সবাই এক্সেস করতে পারে। অর্থাৎ, ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারে।

হোস্টিং বিভিন্ন কম্পানি থেকে কিনে নিতে হয়। এবং এটিও বছরে বছরে ভাড়া দিতে হয়। একটি ভালো মানের হোস্টিং কিনতে হলে আপনাকে প্রতিবছর ২০০০-৩০০০ টাকার আশেপাশে খরচ করতে হবে।

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হোস্টিং অবশ্যই থাকা লাগে। হোস্টিং ছাড়া কখনই কোনো ওয়েবসাইট ইন্টারনেটে লাইভ করানো যায় না।

নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে কমপক্ষে ১ জিবি কিংবা ২ জিবি হোস্টিং নেওয়ার চেষ্টা করবেন। দেখে নিন বিস্তারিত – হোস্টিং কি এবং হোস্টিং কেনার গাইডলাইন

৩। সি এম এস-(CMS)

সি এম এস একটি ইংরেজী শব্দ Content Management system এর সংক্ষিপ্ত রূপ যথা CMS.

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে দরকার হয় একটি কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে কন্টেনগুলো খুব সহজভাবে ম্যানেজ করা যায়।

এই কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যাবহার করে কোডিং ছাড়া ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এবং ওয়েবসাইট যেকোনো ধরনের ডিজাইন করা যায় এবং নতুন নতুন বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করা যায়।

সি এম এস ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সুবিধা হলো এখানে পোস্ট করা অত্যন্ত সহজ। এবং প্রকাশিত পোস্টগুলো লিস্ট আকারে পাওয়া যায় এবং যেকোনো সময় ইডিট করা যায়।

পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় সি এম এস (CMS) হলো ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress)

ওয়ার্ডপ্রেস কি, কেন শিখব, কিভাবে শিখব

ওয়ার্ডপ্রেস হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এটি একটি অপেন-সোর্স সফটওয়ার, তাই বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।

বর্তমানে ইন্টারনেটে যত ওয়েবসাইট দেখতে পাচ্ছেন এর ৪০% ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি।

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে একটি সি এম এস লাগে, আর আপনি সি এম এস হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেসকে বাছাই করতে পারেন।

যদিও আরো অনেক সি এম এস রয়েছে যেমনঃ Joomla, Drupal, Magento, Wix এবং ইত্যাদি।

তবে, নতুনদের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস ব্যাবহার করা সবচেয়ে সহজ এবং প্রস্তাবিত। মনে রাখবেন, ওয়েবসাইট তৈরি করতে একটি সি এম এস লাগবেই।

আরো পড়ুন- ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরির পরিপূর্ন গাইডলাইন

৪। ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার দক্ষতা

একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার মতো দক্ষতা থাকা লাগে।

আসলে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করা অনেক সহজ। হোস্টিং ক্রয় করার পর আপনাকে একটি সি-প্যানেল তথা কন্টোল প্যানেল দেওয়া হবে।

সেখান থেকে আপনি কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে পারবেন।

কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন আপনি ভিন্ন ভিন্ন কম্পানি থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করে থাকেন।

সেক্ষেত্রে আপনার হোস্টিং সিপ্যানেলে প্রথমে ডোমেইন যুক্ত করতে হয়। এবং ডোমেইন প্যানেলে নেমসার্ভার আপডেট করতে হয়।

তারপর, ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হয়। তাই, আলাদা আলাদা হোস্টিং প্রোভাইডার থেকে ডোমেইন-হোস্টিং ক্রয় করলে আপনার এডভান্স লেভেলের কিছু দক্ষতা লাগবে।

৫। ওয়ার্ডপ্রেস থিম

ডোমেইন-হোস্টিং কিনলাম, এবং ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করলাম, তাহলে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে আর কি কি লাগে?

থামুন!

এখনও আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্পূর্ন হয় নি। আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার পরে ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারবেন। ভিজিট করলে দেখতে পাবেন, আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন ঠিক নেই।

কারন, আপনি সেখানে কোনো ওয়ার্ডপ্রেস থিম ইন্সটল করেন নি।

ওয়েবসাইটের সঠিক ডিজাইন করার জন্য আপনাকে ওয়েব ডিজাইনার হতে হবে না। শুধুমাত্র একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম ইন্সটল করলেই আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন করা হয়ে যাবে।

ওয়ার্ডপ্রেস থিম হচ্ছে মূলত ওয়েবসাইটের রেডি-মেইড ডিজাইজ যা কোনো ডেভেলোপার কতৃক তৈরি হয়ে থাকে।

কিছু থিম ডেভেলোপাররা ফ্রিতে দিয়ে থাকে। আবার কিছু থিম ব্যবহার করতে হলে আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেসে অনেক ধরনের ফ্রি থিম আছে। ফ্রি থিম ইন্সটল করার জন্য আপনাকে WordPress Dashboard থেকে Appearance অপশনে যেতে হবে এবং সেখানে Theme নামক একটি অপশন থাকবে।

আপনার পছন্দমতো থিম বাছাই করে সেখান থেকে ইন্সটল করে নিন। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রি থিম হচ্ছে Astra

৬। ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন

যদিও ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন ওয়েবসাইট তৈরির জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ন না, কিন্তু ওয়েবসাইট সুন্দরভাবে ম্যানেজ করার জন্য প্লাগিন ব্যবহার করা লাগে।

যেমন, আপনি একটি থিম ইন্সটল করলে আপনার সাইট থিমের মতো দেখতে হয়ে যাবে। কিন্তু, সেখানের Text বা লেখাগুলো আপনার মতো করে সাজিয়ে নেওয়ার জন্য দরকার হবে একটি পেইজ বিল্ডার প্লাগিন (Elementor)

আপনি যদি আপনার সাইটের এসইও করে গুগল সার্চ রেজাল্টে আসতে চান তাহলে তাহলে দরকার হবে একটি এসইও প্লাগিন (Yoast SEO)

আপনি যদি আপনার সাইটের পারফর্মেন্স বাড়াতে চান অর্থাৎ সাইট আরো ফাস্ট করতে চান তাহলে দরকার হবে Cache প্লাগিং (Litespeed)

তাছাড়া, ওয়েবসাইটকে আরো সয়ংক্রিয় করে তোলার জন্য অনেক ধরনের প্লাগিনের ব্যবহার করতে হয়।

তো এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়ে গেলে আপনি নিজেই ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন।

আশা করি, ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে এই বিষয়ে আপনার আর কোনো প্রশ্ন নেই। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।

আজ এই পর্যন্তই রইলো।

Tech BD Trickshttp://techbdtricks.com
তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর সবার আগে পেতে চাইলে Tech BD Tricks এর সাথেই থাকুন। দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং টেকনোলজি বিষয়ক তথ্য মানুষের কাছে সঠিকভাবে পোছে দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recenty published

error: Content is protected !!