Homeওয়েবসাইটওয়ার্ডপ্রেস কি? WordPress শিখে আয় করার উপায়

ওয়ার্ডপ্রেস কি? WordPress শিখে আয় করার উপায়

ওয়ার্ডপ্রেস হলো বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগ পাবলিশিং অ্যাপলিকেশন এবং শক্তিশালী কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যার মাধ্যমে ৫-১০ মিনিটের মধ্যেই যেকোনো ধরনের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়

২০২১ সালে আমাদের দেশের অনেক মানুষ এই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যাবহার করে ব্লগ তৈরি করছে এবং সেই ব্লগ থেকে প্রচুর টাকা উপার্জন করে সাবলম্ভী হয়ে উঠছে।

আপনি যদি আগে থেকে ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে আজকের পর্যালোচনাটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

কারন, আজকে আলোচনা করবো ওয়ার্ডপ্রেস কি (what is WordPress Bangla), এবং এই সম্পর্কে বিস্তারিত।

চলুন শুরু করি,

ওয়ার্ডপ্রেস কি? (What is WordPress)

সহজ কথায় কথায় বলতে গেলে, ওয়ার্ডপ্রেস হলো ওয়েবসাইট তৈরি করার একটি প্লাটফর্ম। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে ৪০% এর বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস ধারা নির্মিত।

ওয়ার্ডপ্রেস অসাধারন, কারন এর অনেক ফিচার রয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট বানানো যায়। মোবাইলে এটি ব্যাবহার করার জন্য প্লে স্টোরে অ্যাপ পাওয়া যায়।

নির্মাতাঃ Matt Mullenweg.

কয়েকবছর আগে, একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে তাকে ২-১ বছর সময় নিয়ে কোডিং শিখতে হতো। আর না হয় ২-১ লাখ টাকা খরচ করে কোনো ডেভেলপার ভাড়া করতে হতো।

কিন্তু যখনই ওয়ার্ডপ্রেস আবিষ্কৃত হলো তখন এই কাজ গুলো আমাদের জন্য অনেক সহজ হয়ে গেছে।

এখন আমরা চাইলেই একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে ৫-১০ মিনিটের মধ্যে ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারি। কোনো ঝামেলা ছাড়া ফেসবুকে যেমনটা পোস্ট করা যায় ঠিক সেরকমভাবে ওয়েবসাইটেও আর্টিকাল পাবলিশ ও ম্যানেজ করতে পারি।

শুধু তাই নয়, ওয়ার্ডপ্রেস শিখে আয় করার অনেক পদ্ধতিও রয়েছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশের বেকারত্বের হার দিন দিন কমে যাচ্ছে।

ওয়ার্ডপ্রেস কি এই সম্পর্কে তো মোটামোটি প্রাথমিক ধারনা পেলাম, এখন চলুন জানা যাক যে কেনো ওয়ার্ডপ্রেস শিখবো-

ওয়ার্ডপ্রেস কেন শিখব?

আপনি যদি ইন্টারনেটে ভালো কিছু করতে আগ্রহী থাকেন। অর্থাৎ, একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে সেখানে অন্যদের পরামর্শ দিয়ে উপকার করতে চান এবং নিজের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে চান, তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস এর কাজ শিখা আপনার জন্য জরুরী।

ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে একটি ব্লগ অথবা ওয়েবসাইট ম্যানেজ করার মাধ্যমে আপনি অনেক বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবেন। যেমন- এসইও(খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়), ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং এবং ইত্যাদি।

একদিকে এই বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জন করে ফাইবার কিংবা আপওয়ার্কে অন্য মানুষদের সার্ভিস দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন আবার অন্যদিকে নিজের ওয়েবসাইট বানিয়ে বিভিন্ন উপায়ে সেই ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারবেন।

তো, বুঝতেই পারছেন যে ওয়ার্ডপ্রেস এর গুরুত্ব কি। যদি, অনলাইন থেকে তারাতারি ইনকাম করার পরিকল্পনা না থাকে এবং ভবিষ্যতে চাকরী-বাকরীর চেয়েও ভালো কিছু করতে চান, তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস দক্ষতা অর্জন করা আপনার জন্য জরুরী।

কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা উচিত?

ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজলভ্য। এটি ব্যাবহারের অনেক সুবিধা রয়েছে। নিচে কিছু সুবিধার করার উল্লেখ করা হলো।

  1. ওয়ার্ডপ্রেস হলো ওপেনসোর্স সফটওয়্যার তাই এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।
  2. এটি ব্যবহার করে ৫ মিনিটেই ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় এবং কোনো প্রকার কোডিং নলেজের প্রয়োজন হয় না।
  3. খুব সহজেই ওয়েবসাইটে পোস্ট করা যায় এবং সেগুলোকে ক্রমান্বয়ে সাজানো যায়।
  4. যেকোনো ধরনের ওয়েব- পেইজ তৈরি করার যায় আবার চাইলে ডিলিট করে দেওয়া যায়।
  5. এখানে পোস্ট করা অত্যন্ত সহজলভ্য।
  6. প্লাগইন ব্যবহার করে ওয়েবসাইটকে আরো বেশি সয়ংক্রিয় করে তোলা যায়।
  7. বিনামূল্যে ওয়েবসাইটের প্লাগইন এবং থিম পাওয়া যায়।
  8. ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার বান্ধব। অর্থাৎ আপনি চাইলে সহজেই এখানে যেকোন তথ্য পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবেন।
  9. তাছাড়া এটি এসইও (Search engine optimization) বান্ধব। অর্থাৎ আপনি চাইলেই আপনার ওয়েবসাইটটি কে গুগল সহ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে প্রদর্শন করতে পারবে।
  10. ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখান থেকে প্রচুর অর্থ আয় করা যায়।

এইগুলোই ছিল এর প্রধান সুবিধা। তাছাড়াও এর আরো অনেক সুবিধা রয়েছে। মোটকথা, এটি ব্যবহারে আপনি তৃপ্তি পাবেন এবং নানান উপায়ে সেখান থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস কিভাবে শিখব?

ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে হলে আগে থেকে তেমন কোনো জ্ঞান থাকার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি না। যেমনঃ আমি যদি প্রশ্ন করি যে কিভাবে ফেসবুক চালানো শিখেছেন তাহলে এর উত্তর আপনি কি দিবেন?

অবশ্যই বলবেন ফেসবুক আমি ব্যবহার করতে করতে শিখে ফেলেছি। আসলে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা ফেসবুক এর থেকেও অনেক সহজ। তাই এটি শিখা আহামরি তেমন কিছু না। তবুও যদি মোবাইল কিংবা কম্পিউটার বিষয়ে আপনার জ্ঞান অল্প হয় তাহলে বিভিন্ন ইউটিউবের ভিডিও কিংবা গুগলের সাহায্য নিতে পারেন।

তাছাড়া আমাদের এই ওয়েসাইটে ওয়ার্ডপ্রেস নামক একটি মেনু রয়েছে, সেখান থেকে ওয়ার্ডপ্রেসের বিভিন্ন জিনিস দেখে শিখে নিতে পারেন।

সবাই নতুন অবস্থায় একটু ভয় পায়, কিন্তু যদি কেউ মন থেকে ভালোবেসে ইন্টানেটে কিছু করতে চায় তাহলে আর স্বপ্নই তাকে পথ দেখিয়ে দেয়।

ওয়ার্ডপ্রেস শিখে আয় করার উপায় কি?

ওয়ার্ডপ্রেস শিখে অনেক উপায়ে আয় করা যায়। বর্তমান সময়ে ওয়ার্ডপ্রেসের অনেক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এবং এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই এর চাহিদাও ব্যাপক। তো চলুন নিচে ওয়ার্ডপ্রেস শিখে আয় করার প্রক্রিয়াগুলো বর্ণনা করি-

নতুন ব্লগ তৈরি করে আয়

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেসের কাজ জানেন তাহলে নিজে নিজেই একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে সে ওয়েবসাইট থেকে আয় করতে পারবেন বিভিন্ন উপায়ে।

আশা করি, ওয়েবসাইট থেকে আয় করার উপায় উপরে দেওয়া লিংক-এ ক্লিক করে পড়ে নিয়েছেন।

ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয়

আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে কিছুদিন কাজ করে সেই ওয়েবসাইটটি চাইলেই আবার বিক্রি করে দিতে পারেন। যেমনঃ আমি চাইলে আমার Techbdtricks.com ওয়েবসাইটটি ২০-৩০ হাজার টাকাইয় বিক্রি করে দিতে পারি। অবশ্যই ইংরেজী সাইট হলে এটি ২-৩ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম।

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়

আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখালেখি করে প্রচুর ভিজিটর সাইটে আনতে পারেন তাহলে গুগল এডসেন্স কিংবা অন্যসব কম্পানির বিজ্ঞাপন দিয়ে আয় করতে পারেন।

ক্লায়েন্টের কাজ করে দিয়ে আয়

আপনি অনেকদিন যাবত ওয়ার্ডপ্রেসে কাজ করার ফলে ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে যাবেন। তাই অন্য কারো সমস্যা হলে তা সমাধান করে দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

নিজের দক্ষতা বিক্রি করে আয়

অনেকদিন যাবত ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে জড়িত থাকার ফলে আপনার যেই দক্ষতা অর্জন হবে সেই দক্ষতা বিক্রি করে আপনি আয় করতে পারবেন।

অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটে আপনি বিভিন্ন সার্ভিস দিতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে কোন ধরনের সাইট বানানো যায়?

বর্তমান সময়ে ৪০% এর বেশি সংখ্যক ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে চালানো হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন ফেসবুকের কিছু অংশ ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমেই ম্যানেজ করা হয়। সত্যি কথা বলতে এর মাধ্যমে প্রায় অনেক ধরনের ওয়েবসাইট বানানো যায়। নিচে এর কয়েকটি উদাহরন তুলে ধরা হলোঃ

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যে সকল ওয়েবসাইট বানানো যায়ঃ

  • ব্লগ
  • পার্সোনাল ওয়েবসাইট
  • পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট
  • ব্যাবসায়িক
  • ই-কমার্স
  • প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক
  • সামাজিক যোগাগের মাধ্যম
  • বিভিন্ন প্রশ্ন-উত্তর সাইট বা ফোরাম
  • ভিডিও এবং স্ট্রিমিং ওয়েবসাইট
  • অনলাইন স্টোর
  • এজেন্সি এবং ইত্যাদি

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি প্রয়োজন?

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ভালো মানের একটি ওয়েবসাইট বানাতে প্রথমে ২ টি জিনিসের প্রয়োজন হয়। যথাঃ ডোমেইন এবং হোস্টিং

ডোমেইন হলো কোনো ওয়েবসাইটের নাম। যেমন আমাদের এই ওয়েবসাইটের নামটি হলো Techbdtricks.com এবং কেউ যদি আমাদের ডোমেইন লিখে সার্চ করে তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসবে।

হোস্টিং হলো ইন্টারনেটে কোনো ওয়েবসাইটকে প্রদর্শিত করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা কিংবা স্পেস। এটি অনলাইন ভার্চুয়াল মেমোরী কার্ডের মতো কাজ করে। যেমনঃ আপনার মোবাইলেই মেমোরী কার্ডের ভেতরে বিভিন্ন জিনিস রাখতে পারেন। হোস্টিং এর ভেতরেও বিভিন্ন কন্টেন্ট রাখা যায় এবং তা সকল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেখতে পারে।

এই ডোমেইন এবং হোস্টিং নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে ভাড়া নিতে হয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ডোমেইন-হোস্টিং কম্পানি রয়েছে। আপনি তাদের কাছ থেকে বিকাশে টাকা পেমেন্ট করে হোস্টিং ভাড়া নিতে পারবেন। এর জন্য হয়তো আপনাকে বছরে ৩০০০-৪০০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরির নিয়মঃ

বিভিন্ন উপায়ে ওয়েবসাইট বানানো যায়। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা । ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার পর সি-প্যানেল থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল দিতে হয়।

এখানে বলে রাখা ভালো, সি-প্যানেল হলো ওয়েব সার্ভারের কন্টোল প্যানেল, যার মাধ্যমে সার্ভার নিয়ন্ত্রন করা যায়।

যেমনঃ কোনো সফটওয়ার ইন্সটল করা, ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো ম্যানেজ করা, এক সার্ভার থেকে অন্য সার্ভারে ওয়েবসাইট ট্রান্সফার করা ইত্যাদি।

আপনি যখন কোনো কম্পানি থেকে হোস্টিং কিনবেন তখন তারা আপনাকে একটি সি-প্যানেল দিবে।

কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হয়

সি প্যানেল থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হয়। আপনি যদি কোনো কম্পানি থেকে হোস্টিং কিনেন তাহলে সেই কম্পানি আপনাকে একটি সি-প্যানেল দিবে। আপনি সেই সি-প্যানেলে প্রবেশ করে নিচে গেলেই দেখতে পাবেন ওয়ার্ডপ্রেস নামক একটি অপশন রয়েছে।

এবং সেখানে ক্লিক করে ইন্সটল বাটলে ক্লিক করতে হবে। তারপর আপনাকে একটি ইমেইল এড্রেস, ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে হবে।

সার্চ করে কিংবা নিচে স্ক্রল করে WordPress এ ক্লিক করতে হবে। তারপর সেখানে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য তথা ইউজার নেম, ইমেইল এড্রেস এবং পাস-ওয়ার্ড দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেসের ডেশবোর্ডে লগিন করবো কিভাবে

আপনি যেই ডোমেইনের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করেছেন তার পরে wp-admin লিখে কোনো ব্রাউজারে ইন্টার করার পর ওয়ার্ডপ্রেস ডেসবোর্ডে লগিন করার জন্য পাসওয়ার্ড চাইবে। যেমনঃ techbdtricks.com/wp-admin

ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার সময় যেই পাসওয়ার্ড দিয়েছিলেন, সেটি দিয়ে এখানে লগিং করে নিতে হবে। এবং ওয়ার্ডপ্রেসে লগিন করার পর আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত কন্ট্রোল এখান থেকে করতে পারবেন

ওয়ার্ডপ্রেস থিম কি?

সহজ কথায় বলতে গেলে, ওয়ার্ডপ্রেস থিম (ইংরেজিঃ WordPress Theme) হলো একটি ওয়েবসাইটের ডিজাইন।

আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে থিম ইন্সটল করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট দেখতে হুবহু সেই ডিজাইনের মতো হয়ে যাবে। এবং সেটি আপনার ইচ্ছামতো সাজিয়ে নিতে পারবেন।

এটি আগে থেকে কোনো ডেভেলোভার তৈরি করে রাখে। আপনি চাইলে সেই টেমপ্লেট ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড দিয়ে কিংবা সরাসরি ওয়ার্ডপ্রেস থেকে আপনার সাইটে সে সকল থিম ইন্সটল করতে পারেন।

বিস্তারিত পড়ুনঃ ওয়ার্ডপ্রেস থিম কি ? WordPress Theme সম্পর্কে বিস্তারিত

কিভাবে থিম ইন্সটল করতে হয়?

অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের থিম রয়েছে। যেমনঃ নিউজপেপার থিম, মেগাজিন থিম, পোর্টফোলিও থিম, বিজনেস থিম ইত্যাদি। আবার এদের মধ্যে কিছু রয়েছে ফ্রি এবং কিছু পেইড।

ফ্রি থিমগুলো আপনি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু এতে সকল সুবিধা পাবেন না।

কিন্তু পেইড থিমগুলো তে অনেক ধরনের বাড়তি সুবিধা থাকে। একটি পেইড থিম ক্রয় করতে ৬০ ডলারের মতো লাগতে পারে যা আপনি ইন্টারনেশনাল অনেক মার্কেটপ্লেস থেকে কিনতে পারবেন।

থিম ইন্সটল করার নিয়মঃ

ওয়ার্ডপ্রেসের ডেসবোর্ডে লগিং করার পর বামপাশে Appearance মেনু থেকে Theme এ যেতে হবে এবং সেখান থেকে পছন্দ মতো একটি থিম বাছাই করে ইন্সটল করতে হবে। এবং সেটি এক্টিবেট করতে হবে। তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি দেখতে হুবহু সেই থিমের মতো হয়ে যাবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, কোনো থিমের ক্ষেত্রে আপনাকে ডেমো ইমপোর্ট করতে হতে পারে।

এবং আপনার ওয়েবসাইটের যেকোনো পেইজকে আপনার মতো করে সাজিয়ে নিতে হবে একটি পেইজ বিল্ডার প্লাগিন ইন্সটল করতে হবে। যেমনঃ Elementor.

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন কি?

ওয়ার্ডপ্রেসকে আরো বেশি সয়ংক্রিয় করে তুলার জন্য প্লাগিনের ব্যবহার করা হয়। প্লাগিন ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে বাড়তি অনেকে ফিচার যুক্ত করা যায়। যেমন ধরুন, আপনি চাচ্ছেন আপনার ওয়েবসাইটে একটি প্রশ্নউত্তর সিস্টেম যুক্ত করতে তাহলে আপনাকে প্লাগিনের ব্যবহার করতে হবে।

অথবা, আপনি আপনার সাইটের পোষ্টগুলোর মধ্যে শেয়ার বাটন যুক্ত করতে চাচ্ছেন। তাহলেও আপনাকে প্লাগিনের সাহায্য নিতে হবে।

আপনি Elementor নামক প্লাগিনটির মাধ্যমে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের যেকোনো ধরনের পেইজ তৈরি করে নিতে পারবেন

আসলে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে সকল ধরনের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্লাগিন রয়েছে।

WordPress .Org এবং WordPress .Com এর মধ্যে পার্থক্য কি?

আমি এতক্ষন যা নিয়ে কথা বললাম তা হল WordPress.org যা সি-প্যানেল থেকে এক ক্লিকের মাধ্যমেই ইন্সটল করে ফেলা যায়। কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেসের আরেকটি সার্ভিস রয়েছে যা হলো WordPress.com। এটি হলো মূলত একটি ফ্রি হোস্টিং পোভাইডর। আপনি চাইলে WordPress.com ব্যবহার করে ফ্রি ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন আপনি সেখানে মেইন ডোমেইন ব্যবহার করতে পারবেন না। আপনাকে wordpress.com এর সাব ডোমেইন ব্যবহার করতে হবে। যেমনঃ techbdtricks.wordpress.com

সার-সংক্ষেপঃ

আসলে ওয়ার্ডপ্রেস কি এ বিষয়ে আপনারা অবগত হয়েছেন আশা করি। তারপরও যদি এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে নির্দ্বীধায় নিচে কমেন্ট করতে পারেন। আর আমাদের ফেসবুকে গ্রুপে জয়েন হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরূধ করছি। আশা করি এ থেকে আপনারা একদিন উপকৃত হবেন।

আমাদের ফেসবুক গ্রপঃ https://www.facebook.com/groups/techbdtricks

আর অবশ্যই পোস্টটি শেয়ার করে দিবে যাতে করে অন্য মানুষের উপকার হয়। আর কমেন্টে আপনার মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না যেন।

ভালো থাকবেন।

Tech BD Trickshttp://techbdtricks.com
তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর সবার আগে পেতে চাইলে Tech BD Tricks এর সাথেই থাকুন। দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং টেকনোলজি বিষয়ক তথ্য মানুষের কাছে সঠিকভাবে পোছে দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
RELATED ARTICLES

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recenty published

error: Content is protected !!