ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার ১০ উপায়

অফলাইনের মতো অনলাইনেও কাজ করে টাকা আয়ের ২ টি পথ রয়েছে। একটি হচ্ছে চাকরী করা আরেকটি হচ্ছে ব্যাবসা করা। একটি ওয়েবসাইট হতে পারে আপনার অনলাইন ব্যবসা এবং ঘরে বসে আয় করার সুযোগ। ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। আজকের পোস্টে কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখান থেকে ব্যাবসা করে টাকা আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার ইনভেস্টমেন্ট দরকার হবে। সে দিকে বিবেচণা করে অবশ্যই ব্যবসায় নামা উচিত।

আমার দেখা অনেকে রয়েছে যারা একটি ওয়েবসাইট খুলে ১ বছর সেখানে শ্রম দিয়ে সাইটটির এমন উন্নতি করেছে যে এখন প্রতিমাসে তাদের ১ লক্ষ টাকা আয় হয়।

আবার অনেকে রয়েছে যারা ২ বছর প্ররিশ্রম করে, খাটাখাটনি করেও কিছু করতে পারে নি। এতে কি বুঝা যায়?

অবশ্যই যারা ব্লগিং করার সঠিক নিয়মগুলো জানতো এবং সঠিকভাবে টাকা ইনভেস্ট করতে পেরেছে তারাই সফল হয়েছে।

তো আজকের পোস্টে ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার সম্পূর্ন গাইডলাইন থাকবে যেটা অনুসরন করে আপনি সফল হতে পারেন।

ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রসেস

বর্তমানে ওয়েবসাইট তৈরি করা কঠিন কোনো কাজ নয়। ওয়ার্ডপ্রেস কিংবা ব্লগার দিয়ে খুব সহজেই ৫-১০ মিনিটেই একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে নেওয়া যায়।

এবং সেজন্য একটি কম্পানি থেকে আপনাকে ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করে নিতে হবে। এবং বছরে বছরে এর ভাড়া দিতে হবে।

ডোমেইন হোস্টিং কেনা হয়ে গেলে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট খুব সহজেই ম্যানেজ করা যায় এবং এর জন্য কোনো প্রকার কোড করতে হয় না।

ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার ১০ টি উপায়

ওয়েবসাইট থেকে আয় করার অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে যে ১০ টি সহজ উপায় রয়েছে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো। এগুলো ছাড়াও আপনার ওয়েবসাইটের ধরনের উপরে ভিত্তি করে আয়ের আরো পদ্ধতি থাকতে পারে।

1.গুগল এডসেন্স

গুগল এডসেন্স হলো গুগলের এইটি বিজ্ঞাপন প্রচার প্রোগ্রাম যার মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করা যায়।

২০০৩ সালের জুন মাস থেকেই গুগল এডসেন্স তাদের প্রোগ্রামটি প্রথম চালু করে।

ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার জন্য গুগল এডসেন্স এপ্রোভাল প্রয়োজন।

ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স এপ্রোভাল পেয়ে গেলে সে ওয়েবসাইটে এডসেন্স এর বিজ্ঞাপন দেখানো যায়।

যখন সে ওয়েবসাইটের ভিজিটররা বিজ্ঞাপন দেখবে এবং বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে তখন গুগল এডসেন্স একাউন্টে ডলার জমা হবে।

এখাবে ১০০ ডলার জমা হয়ে গেলে যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে ডলারগুলো নিজ দেশের মুদ্রায় রূপান্তর করে উপার্জন করা যায়।

আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে পর্যাপ্ত ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি প্রতিমাসে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করতে পারবেন হ্যান্ডসাম একটি এমাউন্ট।

আপনি জানলে অবাক হবেন, Pete Cashmore তার ওয়েবসাইট mashable.com-এ শুধু মাত্র গুগল অ্যাডসেন্স থেকে প্রতি মাসে আয় করেন ৪ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা।

2.শাখা বিপণন

ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় আরেকটি মাধ্যমে হলো অনলাইনে শাখা বিপণন বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

শাখা বিপণনের হার দিন দিন বাড়ছে। কারন, এখানে কম ভিজিটরে অধিক বিক্রি সম্পাদন করা যায় এবং প্রতিটি বিক্রির জন্য গুগল এডসেন্স এর চেয়েও বেশি কমিশন পাওয়া যায়।

আপনার যদি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে প্রতিনিয়তই অনেক ভিজিটর আসে তাহলে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। এবং এই শাখা বিপণন করার মাধ্যমে মাসিক লক্ষ টাকা অধিক আয় করতে সক্ষম হতে পারেন।

এটি করার জন্য প্রথমে আপনাকে যেকোনো Affiliate ওয়েবসাইটটে জয়েন করে নিতে হবে। এবং সেখান থেকে পণ্যগুলোর Affiliate Link পাবেন। এই লিংকগুলোই আপনাকে প্রচার করতে হবে।

কেউ যদি আপনার এফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে কোনো কিছু ক্রয় করে তাহলে সেখান থেকে আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন।

তো আপনি প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের পর্যালোচনা লিখবেন এবং সেখানে পণ্যটির বিক্রির লিংক যুক্ত করে দিবেন। কেউ যদি আপনার উল্লেখিত লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করে তাহলে আপনি সেখান থেকে কমিশন পেয়ে যাবেন।

তো আপনি চাইলে আজকেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে শাখা বিপনন করার মাধ্যমে আয় করা শুরু করে দিতে পারেন।

3.স্পন্সর রিভিও

আপনার ওয়েবসাইটটি যদি খুব জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট হয় তাহলে আপনি এখানে অর্থের বিনিময়ে পর্যালোচনা লিখতে পারেন। অর্থাৎ, যদি প্রতিদিন ৪-৫ শত ভিজিটর আপনার সাইটে আসে এবং আপনার লেখা পর্যালোচনাগুলো সময় নিয়ে পড়ে, তাহলে আপনি বিভিন্ন কম্পানির সাথে সরাসরি চুক্তি করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পণ্যের পর্যালোচনা লিখতে পারেন।

তারা, তাদের পণ্যের পর্যালোচনা লিখে দেওয়ার জন্য আপনাকে টাকা দিবে। কেননা এতে করে তাদের কম্পানির বেশি বেশি প্রচার হবে। ফলে তাদের পণ্য বা সার্ভিস বেশি বেশি বিক্রি করতে পারবে।

এভাবে ওয়েবসাইটে পর্যালোচনা লিখার মাধ্যমেও আয় করা যায়।

4.ব্যাকলিংক বিক্রি

যারা SEO সম্পর্কে জানেন তারা অবশ্যই Backlink শব্দটি শুনেছেন। Backlink বলতে মূলত অন্য ওয়েবসাইটের মধ্যে থাকা আপনার ওয়েবসাইটের লিংকগুলোকে বুজায় যা সার্চ ইঞ্জিনের রেংকিং-এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।

তো আপনার ওয়েবসাইটটি যদি রেংকিং-এ ভালো পজিশনে থাকে এবং ডোমেইন অথরিটি খুব ভালো হয়, তাহলে আপনি আপনার সাইটে অন্য সাইটের একটি লিংক দেওয়ার জন্য ১০ ডলার থেকে ১০০ ডলারও পেতে পারেন।

আসলে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ভালো পর্যায়ে যাওয়ার পর এর ৮০% আয় কেবলমাত্র এসইও সার্ভিসের মাধ্যমে করা সম্ভব। যেমনঃ ব্যাক-লিংক বিক্রি, গেস্ট পোস্টিং, ট্রাফিক সেল সহ ইত্যাদি।

আপনি যদি এসইও সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন- SEO কি এবং কিভাবে ওয়েবসাইটের এসইও করবো ?

5.পরিষেবা বিক্রি

আপনার যদি কোনো পরিষেবা থেকে থাকে যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন বা ডেভেলোপমেন্ট, আর্টিকাল রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও ইত্যাদি তাহলে আপনি আপনার ব্লগের ভিজিটরদের কাছে তা বিক্রি করে ভালো অর্থ আয় করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনার কোনো ব্যাবসা থাকলে সেই ব্যাবসার পণ্য নিয়েও এই কাজটি করতে পারেন নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে।

এটি খুব সহজ একটি ব্যপার। আপনি যদি উপরে উল্লিখিত কোনো বিষয়ে দক্ষ হন তাহলে সেই বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। আর আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর নিয়মিত আপনার আর্টিকালগুলো পরবে এবং এ থেকে আপনি তাদের বিশ্বাস অর্জন করে ফেলবেন।

তখন আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের যদি যেকোনো সার্ভিসের প্রয়োজন হয় তাহলে সে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এবং সার্ভিসটি সে আপনাকে দিয়েই করিয়ে নিতে চাইবে। কেননা আপনার লেখাগুলো পড়েই সে বিষয়গুলো জানতে পেরেছে।

আর এভাবেই ওয়েবসাইটে পরিষেবা বিক্রি করে আয় করা যায়। আপনি চাইলেও আজ থেকেই শুরু করতে পারেন।

6.নিজ ব্যাবসার বিজ্ঞাপন

বিশ্বের অনেক বড় বড় কম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের সুবিধার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং সেখানে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে ব্লগ লিখে থাকে।

কোনো ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানের ব্লগ লেখার প্রধান উদ্দেশ্য হলো গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথমে জায়গা দখল এবং গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সেবা প্রধানের মাধ্যমে সেখান থেকে অর্থ আয় করা।

তো আপনারও যদি কোনো বিজনেস থাকে তাহলে সেই বিজনেস সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনিস নিয়ে পর্যালোচনা লেখালেখি করে গ্রাহকদের সেবা প্রধান করতে পারেন এবং আপনার বিজনেসটি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেশি বেশি প্রচার করতে পারেন ।

পর্যালোচনাগুলোতে আপনার বিজনেস সম্পর্কে ধারণামূলক বিজ্ঞাপন রাখতে পারেন এবং সে সকল পর্যালোচনাগুলোর এসইও করে সার্চ ইঞ্জিনে জায়গা দখল করতে পারেন। এর ফলে আপনার বিজনেস এর গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং এতে আপনি বেশি লাভবান হবেন।

7.বিজ্ঞাপনের জন্য জায়গা বিক্রি

আপনার ওয়েবসাইটে যদি পর্যাপ্ত পাঠক আসে এবং পেইজ ভিউ করে তাহলে আপনি বিজ্ঞাপনের জায়গা বিক্রির বিষয় নিয়ে বিভিন্ন কম্পানির সাথে কিংবা যেকোনো বিজ্ঞাপনদাতার সাথে কথা বলতে পারেন। অর্থাৎ, চুক্তি করতে পারেন।

আপনার ওয়েবসাইট যদি অনেক জনপ্রিয় হয় তাহলে বিভিন্ন কম্পানির প্রোমোশনাল বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আপনার ওয়েবসাইটের একটি জায়গা বহাল রাখতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইতে তখন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপণ প্রকাশের জন্য একটু অতিরিক্ত জায়গা রাখবেন এবং প্রতিটি জায়গায়ই বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে অর্থ রাখবেন। খুব সিম্পল।

আর এভাবেই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য অন্য কম্পানি থেকে টাকা নিয়ে আয় করতে পারেন।

8.অতিথি পোস্ট / গেস্ট পোস্ট

আপনি হয়তো জানেন, অনলাইনে কাউকে দিয়ে যদি কোনো পর্যালোচনা বা আর্টিকাল লেখাতে হয় তাহলে বেশ কিছু টাকা খরচ করতে হয়। কেমন হবে যদি কেউ আপনার সাইটে আপনাকে ফ্রি ফ্রি একটি আর্টিকাল লিখে দেয় এবং এর সাথে আপনাকে ২৫ ডলার দিয়ে দেয়?

আপনি যেই আর্টিকাল টাকা দিয়ে লেখাতেন সেই আর্টিকাল ফ্রিতে পাচ্ছেন আবার সাথে ২৫ ডলারও পাচ্ছেন।

হ্যা। অবাক লাগারই বিষয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে মন দিয়ে কাজ করেন এবং সাইটের এসইও করে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে অনেক জায়গা দখল করতে পারেন।

অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটকে পাওয়ারফুল করতে পারেন, ডোমেইন অথরিটি বাড়াতে পারেন তাহলে আপনার সাইটে লোকজন টাকা দিয়ে আর্টিকাল লিখবে। যাকে আপনা guest blogging বা guest posting বলে থাকি।

9. ইমেইল লিষ্ট তৈরি

আপনার ওয়েবসাইটের যখন প্রতিনিয়ত অনেক ভিজিটর আসতে থাকবে তখন আপনি চাইলে একটি কাজ করতে পারেন। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ই-মেইল সাবমিট করার জন্য একটি অপশন চালুন করতে পারেন। এবং সেখানে আপনার ভিজিটররা ইমেইল সাবমিট করলে সেই ইমেইলের একটি লিস্ট তৈরি করতে পারেন। এবং সেগুলো বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করে দিতে পারেন।

এভাবেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইমেইল লিষ্ট তৈরি করে খুব সহজেই ঘরে বসে আয় করা যায়।

10. ওয়েবসাইট বিক্রি

আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং সেখানে লেখালেখি করেন তাহলে পরবর্তিতে চাইলে আপনার সাইটটি বিক্রি ও করে দিতে পারবেন। তাই এখানে কোনো ভয় নেই।

মনে করুন, আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে উপরোক্ত কোনো উপায়েই আয় করতে পারলেন না। তখন কি আপনি হেরে গেলেন? কখনই নয়।

যদি আপনার সাইটের কোনো খারাপ রেকর্ড তৈরি না হয় তাহলে আপনার সাইট অনায়েসেই বিক্রি করে দিতে পারবেন। আর কষ্ট করে একটি সাইটকে রেংক করালে পরবর্তীতে সেই সাইট খুব ভালো দামেই বিক্রি করা যায়।

FAQs

ওয়েবসাইট তৈরি করে কত টাকা আয় করা যায়?

ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতি মাসে অনেক মানুষ লাখ-লাখ টাকা আয় করে। তবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে আপনি সেখান থেক কত টাকা আয় করতে পারবেন তা সম্পূর্নই নির্ভর করে আপনার উপর। আপনি যদি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং সেখানে দৈনিক ৫-৬ ঘন্টা করে সময় দেন তাহলে ৪-৫ মাসের মধ্যেই আপনার প্রথম ইনকাম শুরু হতে পারে।
অনেকে ৫-৬ ঘন্টা সময় দিয়ে ৪-৫ মাস পর ২০০+ ডলার আয় করতে পারে । আবার অনেকে ২-৩ ঘন্টা সময় দিয়েই মাসে ৫০০ ডলার আয় করতে পারে। তো এখানে মেধা এবং দক্ষতাই প্রধান বিষয়।

কোন ধরনের ওয়েবসাইট থেকে বেশি আয় করা যায়?

আসলে সব ধরনের ওয়েবসাইট থেকেই আয় করা যায়। কিন্তু বেশি পরিমানে আয় করতে হলে আপনার বেশি সময় দিতে হবে, বেশি পুঁজি দরকার হবে, এবং ইউনিক মেধা লাগবে।
আপনি যদি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে সেখানে পণ্য ও বিক্রি করতে পারবেন আবার বিভিন্ন পণ্যে বিজ্ঞাপনও দিতে পারবেন। তাছাড়া গুগল এডসেন্স এর হয়েও কাজ করতে পারবেন।

ব্লগ ওয়েবসাইট বলতে কি বুঝায়?

অনেক ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে। কিন্তু যেই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে প্রতিদিন ইনফরমেটিভ আর্টিকাল প্রকাশিত হয় তাকে ব্লগ ওয়েবসাইট বলে। গুগল কোনো কিছু জানার জন্য সার্চ করলে মূলত ব্লগ ওয়েবসাইটের লিংকগুলো-ই প্রথমে চলে আসে। কেননা ব্লগ ওয়েবসাইটের মধ্যে অনেক ইনফরমেশন থাকে।
বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় 600 মিলিয়ন ব্লগ ওয়েবসাইট রয়েছে।

বাংলা ভাষার ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে কত আয় করতে পারবো?

আপনি যদি বাংলা সাইট নিয়ে কাজ করেন তাহলে সব ভিজিটর বাংলাদেশ থেকে আপনার সাইটে আসবে।
তাই বাংলা সাইট থেকে ইংরেজী সাইটের ইনকাম অবশ্যই বেশি হয়। কিন্তু ইংরেজী ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রতিযোগীতাও অনেক বেশি। ইংরেজী সাইট নিয়ে কাজ করতে গেলে আপনার ভালো মার্কেটিং-এর জ্ঞান থাকতে হবে।
আবার অনেকক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের-এর আয় দায় ওয়েবসাইটের টপিক বা নিশ এর উপর নির্ভর করে । কোনো কোনো টপিকের কি-ওয়ার্ড রয়েছে যার CPC অনেক কম আবার কোনোটার বেশি । তো যেই টপিকের CPC বেশি সেই টপিকের ব্লগ থেকে বেশি অর্থ আয় করা যাবে।

বাংলা ওয়েবসাইটে কি গুগল এডসেন্স থেকে আয় করা যায়?

হ্যা, অবশ্যই।
কয়েক বছর আগে গুগল এডসেন্স বাংলা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানোর অনুমতি দিত না। কিন্তু ২০২১ সালে আপনি চাইলে বাংলা ওয়েবসাইট দিয়েও গুগল এডসেন্সের সাথে কাজ করতে পারেন।

সর্বশেষ কথা

ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় সে উপায়গুলো আশা করি আপনি ইতোমধ্যে খুব ভালো করে জানতে পেরেছেন এবং কিভাবে সেখান থেকে আয় করবেন তার একটি পরিপূর্ন গাইডলাইন পেয়েছেন। ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করা নিয়ে যদি আরো কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন।

3 thoughts on “ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার ১০ উপায়”

  1. ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান কমেন্ট করার জন্য।

    Reply
  2. আসসালামু আলাইকুম।
    আপনার আর্টিকেল আমার খুব ভালো লেগেছে।
    আমার প্রশ্ন হলো আমি ব্লগ খুলেছি, এই ব্লগ সাইট থেকে আয় করা যাবে কি?
    এবং আমার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট আছে।
    একটু পরামর্শ চাই।

    Reply
    • ব্লগ খুলা যতটা সহজ, সেখান থেকে আয় করা ততটা সহজ না।

      তবুও আমি বলবো, যদি আপনি আয়ের আশা বাদ দিয়ে নিয়মিত ব্লগিং এর নিয়ম মেনে কাজ করে যান, তাহলে এটি ২-১ বছর পর আপনার ক্যারিয়ার হতে পারে।

      Reply

Leave a Comment