Wednesday, August 4, 2021
Homeওয়ার্ডপ্রেসওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম ২০২১

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম ২০২১

আপনি কি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন? কিন্তু এর কোনো নিয়ম আপনার জানা নেই? আপনি ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে জানতে চান? কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় তা জানতে চান? চিন্তার কোনো কারণ নেই। আজকের আর্টিকালে আমরা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটি সম্পূর্ন ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম বা পদ্ধতিসমূহ জানবো।

কিছুদিন আগে যখন ওয়ার্ডপ্রেস ছিল না, তখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হতো। সারা দিন-রাত প্ররিশ্রম করে কোডিং করে একটি ওয়েবসাইট বানাতে হতো।

তাছাড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কন্টেন্টগুলো ম্যানেজ করার কোনো সহজ উপায়ও তখন ছিল না। প্রতিটি কন্টেন্ট কিছু কোডিং এর ফাকে ফাকে রেখে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতো। তাই তখন ওয়েবসাইটের সংখ্যাও খুব কম ছিল।

কিন্তু যেই না ওয়ার্ডপ্রেসের আবিষ্কার হলো ওয়েবসাইট তৈরির সংখ্যা দিন দিন বাড়তে লাগলো। এখন ইন্টারনেটে কয়েক বিলিয়ন ওয়েবসাইট রয়েছে। এর সম্পূর্ন কৃতিত্ব ওয়ার্ডপ্রেসের।

ওয়ার্ডপ্রেস কি?

ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি CMS বা Content Management System. কোনো কোডিং ছাড়া ওয়েবসাইট বানানোর কাজে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে ৪০% এর বেশি ওয়েবসাইট এই ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে।

ওয়ার্ডপেস ব্যবহার করে খুব সহজেই যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট বানানো যায়। এছাড়া যার ইন্টারনেটে ধারনা খুবই সামান্য সেও চাইলে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে।

ওয়ার্ডপ্রেস কি এবং ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে বিস্তারিত আমি আরেকটি পোস্টে খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করেছি। আপনি চাইলে দেখে নিতে পারেন-

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ভালো মানের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে প্রথমেই লাগবে একটি ডোমেইন এবং একটি হোস্টিং। এবং তারপর দরকার হবে সেই ডোমেইনটি হোস্টিং-এর মধ্যে রেখে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল দেওয়া এবং ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করার মতো দক্ষতা।

বি.দ্রঃ আমি যখন নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করা শিখেছি তখন একটি ফ্রি ডোমেইন-হোস্টিং দিয়ে শুরু করেছিলাম। এর জন্য আমি ব্যবহার করেছিলাম ProfreeHost.

কারন, এখান থেকে ফ্রিতে একটি ডোমেইন এবং একটি হোস্টিং সি-প্যানেল পাওয়া যায়। সে সাথে সি-প্যানেল থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার সুযোগও রয়েছে।

তাই আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেস শিখার জন্য ফ্রি ডোমেইন এবং হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন কিংবা যেকোনো প্রোভাইডার থেকে টাকা দিয়ে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারেন।

ডোমেইন কি?

ডোমেইন হলো একটি ওয়েবসাইটে একক ঠিকানা। এটি লিখে সার্চ করা হলে ওয়েবসাইটটি পাওয়া যায়। যেমনঃ কেউ যদি techbdtricks.com লিখে সার্চ করে তাহলে সে আমাদের এই ওয়েবসাইটে চলে আসবে।

ডোমেইন
এটি হলো একটি ডোমেইন

কেও যদি একটি ডোমেইন ক্রয় করে ফেলে তাহলে সেই ডোমেইনটি আর অন্য কেউ ক্রয় করতে পারে না। যেমন আমাদের এই ওয়েবসাইটের ডোমেইনটি পৃথিবীর আর কেউই চাইলেও কিনতে পারবে না।

ডোমেইনের অনেকগুলো এক্সটেইনশন রয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে .com এক্সটেইশনটি আমাদের কাছে বেশি পরিচিত। তাছাড়া আরো ডোমেইন এক্সটেইশন হলোঃ .co, .net, .org, .edu, .site, ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের সবসময় .com ডোমেইন কেনার চেষ্ঠা করা উচিত।

হোস্টিং কি?

হোস্টিং হলো একধরনের জায়গা বা স্পেস যার মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটকে ইন্টানেটে লাইভ করানো হয়। হোস্টিং ছাড়া কখনোই একটি ওয়েবসাইট কল্পনা করা যায় না। আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইটকিকে যদি হোস্টিং-এ না রাখেন তাহলে কেউ আপনার ওয়েবসাইটটি খুজে পাবে না।

তাই আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে একটি ওয়েব হোস্টিং কিনতেই হবে। ইন্টারনেটে অনেক হোস্টিং প্রোভাইডার রয়েছে যাদের কাছ থেকে আপনি একটি হোস্টিং কিনে নিতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরির খরচ কত?

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের খরচ বলতে একটি ডোমেইন-হোস্টিং ক্রয় করাকেই বুঝায়। ডোমেইন-হোস্টিং কিনে ওয়েবসাইট তৈরি করতে সর্বনিন্ম ২ হাজার টাকার কাছাকাছি খরচ হতে পারে। এবং প্রতি বছরে বছরে এগুল আপনাকে রিনিউ করতে হবে। রিনিউ করতে আবার ৩ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে।

বাংলাদেশের কম্পানি থেকে হোস্টিং ক্রয় করলে সর্বনিন্ম ১৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা প্রতি বছরে খরচ করতে হবে। আর ইন্টারনেশনাল কম্পানিগুলোর দাম অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে আপনি যদি Bluehost থেকে ক্রয় করতে চান তাহলে সর্বনিন্ম ৩০০০ টাকা খরচ করতে হবে।

bluehost web hosting price
Bluehost hosting plans

ইন্টানেশনাল কম্পানির সার্ভিস অনেক ভালো। আপনার যদি মাস্টারকার্ড থেকে থাকে তাহলে ইন্টানেশনাল কম্পানি থেকে ডোমেইন-হোস্টিং কেনা উচিত।

বাংলাদেশের সেরা হোস্টিং কম্পানিগুলোর মূল্য তালিকাঃ

providerHosting priceHosting typeStorage.com Domain
1.Exon Host ২২৫০ টাকা/বছরBasic5gb৬৯৯ টাকা
2.Hostever ১৫০০ টাকা/বছরBasic5gb৭৫০ টাকা
3.Web Host BD১৫০০ টাকা/বছরBasic2gb৯৫০ টাকা
4.MyLightHost3000 টাকা/বছরBasic5gb৯৫০ টাকা
5.HostMight২০০০ টাকা/বছরstandard5gb৬৯৯ টাকা
ডোমেইন এবং হোস্টিং-এর মূল্য তালিকা

বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হোস্টিং সার্ভার হচ্ছে Exon Host এবং Hostever. এই দুটি কম্পানির সার্ভিস খুব ভালো। কিন্তু এদের মধ্যে Exon Host এর হোস্টিং-এর দাম একটু বেশি। তাই, আপনার যদি বাজেট একটু কম হয় এবং সার্ভিস ভালো চান তাহলে Hostever থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়?

বর্তমানে কোনো নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে কোনো ওয়েব ডেভেলোপারের প্রয়োজন পরে না। ঘরে বসে নিজে নিজেই ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করে নেওয়া যায়।

ব্লগার দিয়েও আপনি সহজে ফ্রিতে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। এটি গুগলেরই একটি সার্ভিস। মূলত ব্লগার বিনামূল্যে ওয়েবসাইট তৈরির জন্যই বেশি ব্যবহার করা হয়।

দেখে নিন – কিভাবে ব্লগার দিয়ে বিনামূল্যে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয়

তাছাড়া আরো কন্টেন্ট মেনেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে। যথাঃ

  1. Joomla
  2. Drupal
  3. Dolphin
  4. Laravel ইত্যাদি

কিন্তু এদের মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে সাইট খোলা সবচেয়ে সহজ এবং প্রস্তাবিত। তাই আমরা এটি ব্যবহার করেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবো। এখান থেকে শেষ পর্যন্ত একটি ওয়েবসাইট তৈরির নিয়ম নিয়েই আলোচনা হবে। চলুন শুরু করি-

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়মঃ

এখানে ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম হিসেবে ১০ টি ধাপ দেখানো হবে। এই ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারবেন।

১.একটি ডোমেইন ক্রয় করুন

ডোমেইন একটি ওয়েবসাইটের জন্য অপরিহার্য বিষয়। এটি হচ্ছে আপনার ব্রেন্ড। তাই আপনি যদি অরুচিকর ডোমেইন নেন, তাহলে কিছুদিন কাজ করে আপনার ওয়েবসাইটকে ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পর আর ভালো লাগবে না। তখন ডোমেইন পরিবর্তন করাও যাবে না।

তাই ভালো করে রিসার্চ করে একটি ভালো মানের ডোমেইন বাছাই করুন। ভালো মানের ডোমেইন বাছাই করতে আপনি এর সাহায্য নিতে পারেনঃ LeanDomainSearch

ডোমেইন ক্রয় করার আগে যা যা দেখে নিতে হবেঃ

  • কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ডোমেইন ক্রয় করছেন নাকি কম্পানি থেকে।
  • অবশ্যই বিশ্বাস্ত কম্পানি থেকে ডোমেইন ক্রয় করা উচিত।
  • আপনি ডোমেইনের সম্পূর্ন কন্ট্রোল পাবেন কিনা। ( অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ফোল কন্ট্রোল পেনেল না নিয়ে ডোমেইন ক্রয় করে ফেলে এবং পরবর্তীতে সেই সাইটটি হেক হয়ে যায়।)
  • তাই আপনার ডোমেইনের ফুল কন্ট্রোল পেনেল নিয়ে নিন।
  • ফুল কন্টোল প্যানেল না থাকলে আপনি নেম সার্ভার পরিবর্তন করতে পারবেন না।
  • ফলে অন্য কোনো ওয়েব হোস্টিং-এ সাইটটি ট্রান্সফার করতে পারবেন না।
  • অনেকে লোভনীয় অফারে ডোমেইন বিক্রি করে, তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • একটি .com ডোমেইনের মূল্য ৭০০ টাকার নিচে হওয়া সম্ভব নয়।

২.একটি হোস্টিং ক্রয় করুন

ডোমেইন ক্রয় করার পর আপনাকে হোষ্টিং কিনতে হবে। হোস্টিং ছাড়া শুধুমাত্র ডোমেইন দিয়ে ওয়েবসাইট লাইভ করানো সম্ভব নয়। আপনি চাইলে একই কম্পানি থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে পারবেন। তাহলে আপনার ঝামেলা কম হবে। আর যদি ভিন্ন ভিন্ন কম্পানি থেকে কিনেন তাহলে আবার DNS পরিবর্তন করতে হয়। তবে , আপনি হোস্টিং কম্পানির সাথে লাইভ চ্যাটে যোগাযোগ করলে তারা আপনাকে এগুলো করে দিবে।

হোস্টিং ক্রয় করার আগে যা যা দেখে নিতে হবেঃ

১) বাজেট: ওয়েবসাইট বানানোর আগে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতেই কেবল টাকা খরচ করতে হয়। এই সময়ে হোস্টিং এর পেছনে ভালো বাজেট করবেন। মোটকথা, হোস্টিং এর উপরের আপনার সাইটের কোয়ালিটি নির্ভর করে। তাই, value for money দেখে সেরা বাজেটে হোস্টিং ক্রয় করবেন।

২) হোস্টিং স্পেস: ওয়েবসাইট তৈরি করতে আপনার কত পরিমান স্পেস দরকার হবে সেটা ঠিক করুন। আপনি যদি ব্লগিং করার জন্য ২ জিবি স্পেসের একটি হোস্টি ক্রয় করেন, তাহলে সেখানে ২০০-২৫০ পোস্ট অনায়াসেই করতে পারবেন

৩) লিমিটিশন: আপনি যেকোনো প্যাকেজ কিনলে সেই প্যাকেজের সকল লিমিটেশন সেখানে উল্লেখ থাকবে। যেমন সেখানে কতটি ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারবেন, ব্যান্ডওইথ কত, কতটি ইমেইল একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন ইত্যাদি। ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে এই লিমিটেশন গুলো দেখে নিতে হবে।

৪) সার্ভার লোড: সার্ভার যদি ওভারলোড হয়ে থাকে তাহলে আপনার সাইট লোড হতে আনেক সময় নিবে। তাই, শেয়াড় হোস্টিং নেয়ার আগে সার্ভার লোড সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

৫) মানি ব্যক গ্যারান্টি: মানি ব্যক প্যারান্টি একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। আনেক কোম্পনি ৩০ দিনের মানি ব্যক গ্যারান্টি দিয়ে থাকে। অর্থাৎ আপনি যদি তাদের কাছ থেকে কিনেন, এবং কেনার পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো না লাগে তাহলে ৩০ দিনের ভেতরে টাকা ফেরত নিতে পারবেন। সাধারনত মানি ব্যক গ্যারান্টি দেয়া কোম্পানীগুলো সার্ভিস ভালো দিয়ে থাকে।

৬) সাপোর্ট: একটি ওয়েবসাইট কিনলে সেখানে বিভিন্ন সমস্যায় হোস্টিং প্রোভাইডার থেকে অনেকে সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ন বিষয়। সাপোর্ট পেতে যদি আপনাকে কয়েকদিন সময় লাগে তাহলে আপনি সাইটের লক্ষ লক্ষ ভিজিটর হারাবেন। তাই কম্পানি সাপোর্ত কেমন তা দেখে নিতে হবে।

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল করে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনলে আপনাকে ঠকতে হবে না। আশাকরি ভালো মানের হোস্টিং এবং ডোমেইন সার্ভিস পাবেন।

৩.cPanel এ লগিং করুন

একটি হোস্টিং কেনার পর আপনাকে সি-প্যানেলের এড্রেস , ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড ইমেইল করে দিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে সি-প্যানেলে প্রবেশ করে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিং করে নিবেন। কেননা সি-প্যানেল থেকে আপনাকে ওয়েবসাইটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হবে।

তাছাড়া আপনি চাইলে সরাসরি হোস্টিং কম্পানির ওয়েবসাইটের প্রোফাইল থেকে সি-প্যানেলে লগিন করতে পারবেন।

যদি সি-প্যানেলের পাসওয়ার্ড খুজে পেতে সমস্যা হয় হোস্টিং কম্পানির ওয়েবসাইটের Client Area থেকে সি-প্যানেলে প্রবেশ করুন।

৪.cPanel থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করুন

ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে গেলে প্রথমে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের হোস্টিং এর cPanel এ যেতে হবে ।

cPanel এ গেলে Softaculous নামে একটি অপশন পাবেন । সেখানে ক্লিক করলে WordPress চলে আসবে। এবং সেখান থেকে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে হবে ।

সিপ্যানেলে এ যান এবং সেখান থেকে ওয়ার্ডপ্রেস সিলেক্ট করুনঃ

তারপর ইন্সটলে ক্লিক করুনঃ

প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ( ইজারনেম, পাসওয়ার্ড সহ) নিচে ইন্সটল বাটনে ক্লিক করুনঃ

আপনার ওয়াবসাইট এর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করা হয়ে গেছে। এখন ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে আপনার সাইট আপনি কন্ট্রোল করতে পারবেন। যেমনঃ পোস্ট করা, ওয়েবসাইট নিজের ইচ্ছামতো সাজানো বা কাস্টোমাইজ করা , কমেন্ট এর রিপ্লাই দেওয়া ইত্যাদি, ইত্যাদি।

৫.WordPress Dashboard এ লগিন

ওয়েবসাইটে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার পর আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেসের ডেশবোর্ডে লগিন করতে হবে। তো এর জন্য যেকোনো ব্রাউজারে গিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের এড্রেসের পরে /Wp-admin লিখে সার্চ করতে হবে। যেমনঃ techbdtricks.com/wp-admin

এটি লিখে সাচ করলে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস লগিন পেইজে চলে যাবেন । তারপর , ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার সময় যে পাসওয়ার্ড দিয়েছিলেন, সেটি দিয়ে লগিন করতে হবে।

তারপর, লগিন বাটনে ক্লিক করলেই ওয়ার্ডপ্রেসের ডেশবোর্ডে প্রবেশ হয়ে যাবে।

৬.একটি WordPress Theme ইনস্টল করুন

আপনি এখন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে দেখবেন আপনার সাইটটি সুবিন্যাস্ত নয়। আপনার সাইটকে বিন্যাস্ত করতে গেলে আপনাকে একটি কাঠামো প্রদান করতে হবে।

আর ওয়ার্ডপ্রেসের ভাষায় একে বলা হয় ওয়ার্ডপ্রেস থিম (WordPress Theme). তারমানে আপনাকে একটি থিম ইন্সটল করে এক্টিবেট করতে হবে ।

  1. এর জন্য প্রথমে চলে যান appearance
  2. তারপর সেখান থেকে Theme এর উপর ক্লিক করুন।
  3. নতুন থিম ইন্সটল করার জন্য Add New তে করুন।
  4. যেকোনো একটি ফ্রি থিম বাছাই করুন
  5. থিমটি ইন্সটল করুন
  6. ইন্সটল হয়ে গেলে একটিবেট করুন ।

ওয়ার্ডপ্রেসে অনেক ফ্রী থীম রয়েছে আবার অনেক মার্কেটপ্লেস থেকে প্রিমিয়াম থিম কিনতে পাওয়া যায়। যেহেতো আপনারা নতুন সেহেতু আমার সাজেশন হলো ফ্রি থিম দিয়ে প্র্যাক্টিস করুন ।

ভালো রেস্পনসিব ফ্রি থিমের মধ্যে রয়েছে Astra, Sydney, Airi

এসব থীমগুলো থেকে যেকোনো একটি এক্টিবেট করে আপনার ওয়েবসাইটের কাঠামো গঠন করে ফেলুন।

৭.Wordpress Theme Customize করুন

আপনি যেই ডিফল্ট থিমটি সিলেক্ট করবেন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য যেখানে অনেক অপশন থাকতে পারে যা আপনার প্রয়োজন না।

মনে করেন সেখানে যেই মেনু থাকবে সেটা আপনার টপিক এর সাথে মিলে না। অর্থাৎ আপনি নিউজ রিলেটেড সাইট বানাবেন , কিন্তু সেখানে বিজনেস টপিকের মেনু দেওয়া আছে।

তো, আপনাকে তো অবশ্যই মেনু টি পরিবর্তন করতে হবে। তো এটি কিভাবে করবেন?

এতি করতে হলে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজেশন সম্পর্কে জানতে হবে

আমি এখানে কিছু কাস্টমাইজেশন সম্পর্কে বলছি। মনযোগ দিয়ে পড়ুন

৮. Menu তৈরি করুন

মেনু কাস্টমাইজেসনের জন্য প্রথমে appearance থেকে menu তে যেতে হবে । তারপর সেখান থেকে আপনি আপনার ইচ্ছামতো কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন।

ডিফল্ট ভাবে যেটি সেট করা আছে সেটা থেকে আপনি যেটা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন সেটি রিমোব করে দেন এবং যেকোনো ক্যাটাগরী অথবা পেইজকে মেনু হিসেবে সিলেক্ট করুন ।

আপনি চাইলে আপনার মেনু কোথায় প্রদর্শন করতে চান তা ও সিলেক্ট করতে পারেন।

৯. widget Customize করুন

widget হলো কোনো পেইজে যেকোনো কিছু একটা প্রদশর্ন করা যেমনঃ পপুলার পোস্ট, রিসেন্ট পোস্ট ইত্যাদি।

appearance থেকে widget এ গিয়ে আপনার ইচ্ছা মতো আপনি আপনার যেকোনো ওয়েবপেইজে অতিরিক্ত কি দেখাতে চান তা সেট করতে পারেন। এতি ও প্রায় মেনু সেট আপ করার মতোই।

আশা করি আপ্নারা কাজ করতে যাইলেই সব বুঝে যাবেন । আর যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করবেন।

আমি সবার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্ঠা করবো।

১০. পেইজ কাস্টমাইজেশন করুন

আপনি আপনার ইচ্ছা মতো আপনার ওয়েবসাইটের যেকোনো পেইজ সাজাতে পারেন। একেই ওয়েবপেইজ কাস্টমাইজেশন বলে ।

পেইজ কাস্টমাইজেশন এর জন্য আপনাকে একটি পেইজ বিল্ডার সেট করতে হবে। সবচেয়ে জনপ্রিয় পেইজ বিল্ডার হচ্ছে Elementor

আর এটি সেট করতে পারেন প্লাগিন থেকে।

  1. প্রথমে plugin এ যান
  2. তারপর Add New তে ক্লিক করুন
  3. সার্চ বাক্সে Elementor লিখে সার্চ করুন
  4. প্লাগিনটি ইন্সটল করুন
  5. ইন্সটল হয়ে গেলে এক্টিবেট করুন
  6. এইবার যে পেইজ কাস্টমাইজেশন করতে চাচ্ছেন সে পেইজ এর Edit এ ক্লিক করুন
  7. তারপর Edit with Elementor এ ক্লিক করে পেইজ বিল্ডার দিয়ে কাস্টমাইজেশন করা শুরু করে দিন।

আপনার সাইট এখন আর্টিকাল পাবলিশ করার জন্য মোটামোটি রেডি।

এখন আপনার কাজ হচ্ছে নিয়মিত আর্টিকাল পাব্লিশ করা।

আর্টিকাল পাবলিশ করুন

এর জন্য প্রথমে আপনাকে Post থেকে Add New তে চলে যেতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় হেডিং দিয়ে একটি পোস্ট লিখুন । কোয়ালিতি পোস্ট লিখার জন্য সাহায্যকারী টুলস হিসেবে yoast SEO প্লাগিন তি এক্টিবেট করে নিন

আর্টিকাল লেখা হয়ে গেলে পাবলিশ বাটনে ক্লিক করে দিন। আপনি চাইলে সিডিউল করে দিতে পারেন। অর্থাৎ একটি টাইম সেট করে দিতে পারেন যেন ঐ সময় হলে আর্টিকাল অটোমেটিক পাব্লিশ হয়ে যায়।

Tech BD Trickshttp://techbdtricks.com
তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর সবার আগে পেতে চাইলে Tech BD Tricks এর সাথেই থাকুন। দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং টেকনোলজি বিষয়ক তথ্য মানুষের কাছে সঠিকভাবে পোছে দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
RELATED ARTICLES

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recenty published

error: Content is protected !!