গুগল ম্যাপ থেকে আয় করার উপায় – Best 5 ways

আপনি কি অনলাইনে আয় করতে চান? আপনার কাছে ভালো মানের কোনো কম্পিউটার নেই বলে আয় করতে পারছেন না? আপনি চাইলে খুব সহজেই মোবাইল অনলাইন জব করে গুগল ম্যাপ থেকে আয় করতে পারবেন এবং সাভলম্বী হতে পারবেন।

গুগল ম্যাপ থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা আয় করা যায়। গুগল ম্যাপে নতুন ইনফর্মেশন যুক্ত করে; লোকাল গাইডার হয়ে; টুরিস্ট গাইড লিখে; লোকাল এসইও সহ আরো বিভিন্ন উপায়ে টাকা আয় করা হয়।

অনলাইনে টাকা আয় করার সাইট অনেক রয়েছে। এবং, অনেকে অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করে টাকা ইনকাম করছে, আবার অনেকের কাছে ভালোমানের লেপটপ বা কম্পিউটার না থাকার কারনে আয় করতে পারছে না।

তাই, আজকের আর্টিকালটি তাদের জন্য, যাদের ভালোমানের কোনো কম্পিউটার বা লেপটপ নেই। তারা তাদের মোবাইল ব্যবহার করে গুগল ম্যাপ থেকে আয় করতে পারবেন।

Google Maps হলো লোকেশন খুঁজার একটি অ্যাপ। আমি এখন কোথায় আছি তা এক মুহূর্তেই গুগল ম্যাপের সাহায্যে জেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এটি থেকে টাকা আয় করা যায় বলে একে আপনি টাকা আয় করার apps দের মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

তো, কিভাবে Google Maps app থেকে টাকা earning করা যায়, তো চলুন তারই কয়েকটি উপায় বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক –

গুগল ম্যাপ থেকে টাকা আয়

গুগল ম্যাপ থেকে আয় করতে হয় কিভাবে? – Google maps earning

Google Maps যেন একটি নতুন পৃথিবীর মানচিত্রের নাম!

মানচিত্রই তো। এতে রয়েছে পুরো পৃথিবীর ম্যাপ , রাস্তার ম্যাপ এমনকি রাস্তা চিনিয়ে দেওয়ার মতো অত্যাধুনিক সিস্টেম।

গুগল ম্যাপ এর ব্যবহার কারই বা জানা নেই!

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে টাকা আয় করা যায়? সেটিও আবার ঘরে বসে আয়।

হ্যা বন্ধুরা, গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে আপনি শুধুমাত্র লোকেশন খোজে পাবেন এমনটি নয়, এটি ব্যবহার করে টাকা-পয়সা আর্নিং করতে পারবেন।

এর জন্য আপনার দরকার হলে একটি মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট কানেকশন এবং একটি গুগল একাউন্ট এর।

আগে আমরা একে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ হিসেবে জানতাম যেটি আমাদের অজানা পথ দেখাতে সাহায্য করে। কিন্তু এখন কিভাবে এর থেকে earning করা যায় সে বিষয়টি জানব।

অ্যাপটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করেন সেটি বলার আর অপেক্ষা রাখে না। আপনার কাছে যদি একটি এন্ড্রোইড ফোন থাকে তাহলে নিশ্চিতভাবে আপনিও এর একজন ব্যবহারকারী।

এখন প্রশ্ন হলো, সবাই কি তাহলে এটি থেকে টাকা আয় করে থাকে?

“অবশ্যই না”

কারন, আমরা আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনে অ্যাপটিকে ব্যবহার করে থাকি। কখনো এর থেকে টাকা আয়ের কথা চিন্তা করি না।

কিন্তু, গুগল ম্যাপ থেকে লোকাল এসইও করে, গুগল ম্যাপে নতুন ইনফর্মেশন যুক্ত করে, লোকাল গাইডার হয়ে, টুরিস্ট গাইড পাবলিশ করে, রিভিও বা রেটিংস জমিয়ে আয় করা যায়।

চলুন, গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে কি কি উপায়ে আয় করা যায় তা বিস্তারিত একে-একে দেখে নেই-

গুগল ম্যাপ থেকে টাকা আয় করার ৫ টি উপায়

গুগল ম্যাপস থেকে আয় করার অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে নিচে কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হলো। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ইনফরমেশন যুক্ত করা, লোকাল গাইড, টুরিস্ট গাইড, লোকাল এসইও, এবং রিভিউ জমানো। নিচে এই আর্টিকেলটি সুন্দর ভাবে পড়েনিন কেননা নিচে স্টেপ বায় স্টেপ online rewards আর্নিং করার বর্ণনা দিবো।

১। নতুন ইনফরমেশন যুক্ত করে গুগল ম্যাপ থেকে আয়

গুগল ম্যাপে কিভাবে নতুন লোকেশন, ছবি ইত্যাদি যুক্ত করতে হয় এ বিষয়টি বেশিরভাগ মানুষেরই অজানা। তাই, কেউ যদি নতুন দোকান দেয় তাহলে তার দোকানটি গুগল ম্যাপে যুক্ত করা প্রয়োজন হয়।

যাতে করে দোকানের কাস্টমার ঘরে বসে খুব সহজে দোকানটি খুঁজে পেতে পারে।

কিন্তু সবাই তো আর দোকানের ইনফরমেশন নিজে নিজে ম্যাপে যুক্ত করতে পারে না। সেজন্য বিভিন্ন নতুন ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বা বিজনেস প্লেস গুগল ম্যাপে যুক্ত করে নেওয়ার জন্য অন্য কাউকে খুঁজে থাকে।

তাই আপনি যদি কিভাবে গুগল ম্যাপে ঠিকানা যোগ করব তা জেনে থাকেন এরকম বিভিন্ন নতুন ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করে তাদের সাথে deal করতে পারেন। তাদের ব্যবসার ঠিকানা এবং এড্রেস গুগল ম্যাপে যুক্ত করে দিয়ে তাদের থেকে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন।

এখানে গুগল ম্যাপ থেকে আয় করার জন্য আপনাকে সরাসরি বিভিন্ন দোকানের মালিকদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় গুগলের সাহায্য ছাড়াই অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

তাই, আপনার আশপাশের থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দোকানের মালিকদের সাথে কন্টাক্ট করে গুগল ম্যাপে তাদের ব্যবসার নাম এবং ঠিকানা নথিভুক্ত করুন। তারপর, সেটি গুগল ম্যাপে আপলোড হওয়ার সাথে সাথে তাকে ভালো এমাউন্টের টাক-পয়সা চার্জ করুন। এই ধরুন, আপনি গুগল ম্যাপে নতুন ইনফরমেশন যুক্ত করে দেওয়ার জন্য ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা চার্জ করতে পারেন।

২। লোকাল গাইডার হয়ে গুগল ম্যাপ থেকে আয়

লোকাল গাইড (ইংরেজীঃ Local Guide) হচ্ছে Google Maps-এর একটি স্পেশাল প্রোগ্রাম যেখানে যেকোনো মানুষ যোগদান করতে পারে। এবং এখান থেকে একটি ভালো পরিমাণে টাকা উপার্জন বা আর্নিং করতে পারেন।

লোকাল গাইডার এর কাজ হলো বিভিন্ন স্থানে ভ্রমন করে সেখানকার বিভিন্ন তথ্য, বর্ণনা ও ছবি গুগল ম্যাপ এর মধ্যে সাবমিট করা।

যেমন মনে করুন, আপনি একটি নতুন রেস্ট্রোরেন্ট কিংবা শপে ভিজিট করলেন। তাহলে সেই রেস্ট্রোরেন্টটি কেমন বা তাদের সার্ভিস কেমন এ রিভিউ বা রেটিং দিতে হবে।

তাছাড়া, রেস্ট্রোরেন্ট এর আশেপাশের ছবি আপলোড করা, ঠিকনা অ্যাড করা সহ আরো অনেক বিষয়ের টাস্ক সম্পূর্ন করার মাধ্যমে গুগল ম্যাপ থেকে আর্নিং করতে পারবেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, আপনি যত বেশি টাস্ক সম্পূর্ন করবেন, গুগল ম্যাপ থেকে ইনকাম ততবেশি জেনারেট করতে পারবেন।

৩। টুরিস্ট গাইড এর মাধ্যমে আয়

পৃথিবীতে অনেক ভ্রমণ প্রিয়াসি মানুষ রয়েছে। তরা ভ্রমন করে বেড়াতে পছন্দ করে এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যায়। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেক বিদেশী মানুষ নতুন জায়গায় এসে ঘাবড়ে যায়।

তারা কিভাবে কি করবে বুঝে উঠতে পারে না।

আপনি চাইলে গুগল ম্যাপ এর সাহায্য নিয়ে তাদেরকে নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুরিয়ে দেখাতে পারেন। এবং এর জন্য টুরিস্টদের কাছ থেকে টাকা নিতে পারে। এভাবে আপনি টুরিস্টদের কাছ থেকে গুগল ম্যাপ এর মাধ্যমে থেকে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।

তবে, টুরিস্ট খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনাকে একটি প্রতিষ্ঠানমূলক সেবা বা এজেন্সি খুলতে হবে। এবং তার সঠিক মার্কেটিং করতে হবে।

৪। লোকাল এসইও করার মাধ্যমে আয়

এসইও (ইংরেজীঃ SEO) শব্দটির অর্থ হলো সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন। আর লোকাল এসইও বলতে বুঝায় নির্দিষ্ট একটি দেশে একটি প্রতিষ্ঠান বা কম্পানিকে গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথমে নিয়ে আসাকে।

অনেক সময় বিভিন্ন কম্পানির নাম লিখলে দেখতে পাবেন কম্পানির লোকেশন সহ কম্পানির যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, রেটিংস, রিভিও সবকিছু সামনে চলে আসে।

এটা সম্ভব হয় লোকাল এসইও করার কারনে।

আপনি যদি লোকাল এসইও জানেন তাহলে গুগল ম্যাপ এ একটি কম্পানিকে প্রথম দিয়ে নিয়ে আসার মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।

আর, বর্তমানে এসইও এর চাহিদা ব্যাপক। গুগল ইঞ্জিনকে ব্যবহার করে সার্চ করে আয় করতে চাইলে লোকাল এসইও-এর ভূমিকার জবাব নেই।

আরো পড়ুনঃ

৫। রিভিউ জমিয়ে গুগল ম্যাপ থেকে ইনকাম

রিভিউ জমিয়ে আপনি সরাসরি গুগল ম্যাপ থেকে আয় করতে পারবেন না। কিন্তু, আপনি আপনার একটি কম্পানি তৈরি করে সেখানে ভালো ৫ স্টার রিভিউ জমিয়ে ভালো বিজনেস করতে পারবেন।

যেমন, আপনি যদি ইন্টারনেট হোস্টিং এর একটি কম্পানি দেন, এবং আপনার কম্পানিটি গুগল ম্যাপে যুক্ত করে সেখানে ভালো রিভিউ নিয়ে আসেন তাহলে লোকজন আপনার কম্পানিকে বেশি বিশ্বাস করবে।

আর এভাবে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে আপনার প্রতিযোগীদের চেয়ে বেশি কাস্টমার নিয়ে আসতে পারবেন। ফলে আপনার বিজনেসের লাভ বেশি হবে। এবং বেশি পরিমানে আয় করতে পারবেন।

গুগল ম্যাপস থেকে টাকা কামানো কততা যুক্তিসংগত?

গুগলের আয় সম্পর্কে আপনাদের তো আর বলতে হবে না! গুগল অনেক বড় একটি প্লাটফর্ম এবং এখান থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা আয় করা যায়। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে টাকা উপার্জন করা কতটুকু যুক্তিসংগত?

আসলে, গুগল ম্যাপ থেকে টাকা আয় করার প্রক্রিয়াটা একটু সহজ হলেও সময়সাপেক্ষ ব্যপার। আপনি আয় করতে পারবেন ঠিকই কিন্তু সেখানে প্রয়োজন হবে অনেক ধৈর্যের।

আরেকটা কথা না বললেই নয়। লোকাল গাইডার হয়ে উপার্জিত পয়েন্টের বিনিময়ে গুগল কিন্তু আপনাকে কোনো টাকা দিবে না।

বরং, গুগলের বিভিন্ন মূল্যবান সার্ভিস আপনি এসব পয়েন্টের মাধ্যমে ফ্রিতে পেয়ে যাবেন। যা অবশ্যই অন্য মানুষের কাছে বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারবেন।

কিন্তু, আমার মতে টাকা আয়ের জন্য শুধু গুগল ম্যাপ নিয়ে বসে থাকলেই হবে না। বরং আপনাকে অন্য রাস্তাও দেখতে হবে।

সব মিলিয়ে বলবো, গুগল ম্যাপ থেকে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার কথা চিন্তা করা উচিত না। তবে আপনি যদি চান যে মোবাইলের মাধ্যমে সামান্য কিছু আয় করবেন তাহলে গুগল ম্যাপ যুক্তিসংগত।

গুগল থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় – গুগল থেকে ইনকাম করার আরো প্রক্রিয়া

আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন, যে গুগল থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা আয় করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে গুগল এডসেন্স থেকে টাকা আয়; গুগলে এসইও করার মাধ্যমে টাকা আয়; গুগল প্লে স্টোর থেকে আয়; গুগল এডস এর মাধ্যমে আয়; আরো অনেক উপায়।

গুগল থেকে টাকা আয়ের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ গুগল এডসেন্স পছন্দ করে। কারন, ইউটিউব কিংবা ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স পাওয়া অত্যন্ত সহজ এবং সেখান থেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করা যায়।

কিন্তু গুগল ম্যাপ থেকেও ইনকাম করা যায় যা আসলে একটু অন্যরকম এবং সময়বহুল।

Conclusion – গুগল ম্যাপ থেকে টাকা ইনকাম

গুগল ম্যাপকে ব্যাবহার করে টাকা উপার্জনের বিষয়গুলো ইতোমধ্যে আপনারা জেনে গেছেন। যদি আপনার কাছে একটি মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকে তাহলে আজকে থেকেই কাজ শুরু করে দিতে পারেন । এবং গুগল ম্যাপে নতুন ইনফরমেশন যুক্ত করে; লোকাল গাইডার হয়ে; টুরিস্ট গাইডার; লোকাল এসইও সহ বিভিন্নভাবে গুগল ম্যাপ থেকে আয় করা শুরু করে দিতে পারেন।

আজকের পোস্টটি যদি আপনার একটুও উপকার করে থাকে তাহলে কমেন্ট করে মন্তব্য জানানোর অনুরুধ রইল। আর যদি অনেক বেশি ভালো লেগে থাকে তাহলে পোস্টটি শেয়ার করে রাখুন।

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: