ইউটিউব থেকে আয় করবেন যেভাবে – Advanced Guide

বর্তমানে ইউটিউব ব্যবহার করেন না এমন লোক খুবই কম আছেন। আমরা প্রায় অনেকেই দিনের কিছু না কিছু সময় ইউটিউবে কাটিয়ে থাকি। কেউ কেউ বিনোদনের জন্য ইউটিউবে সময় কাটিয়ে থাকেন আবার কেউ কেউ ইনকামের জন্য ইউটিউব ব্যাবহার করে থাকেন। ইউটিউব কে ব্যবহার করে অনেকে অনেক ভাবে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করে নিচ্ছে। আজকের এই আর্টিকেলে ইউটিউব থেকে আয় করবেন যেভাবে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করবো। তো এর জন্য অবশ্যই আপনাদেরকে আমাদের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি বিস্তারিত এবং মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে:-

ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য যা যা প্রয়োজন

আপনারা যদি চান যে ইউটিউব থেকে আয় করবেন তাহলে আপনাকে কয়েকটি উপায় অবলম্বন করতে হবে। ইউটিউব থেকে ইনকাম করার জন্য আসলে বেশ কয়েকটি উপকরণের প্রয়োজন হয়। তবে, আপনারা শুধুমাত্র স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেও ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন। আর ইউটিউব থেকে উপার্জনের জন্য অবশ্যই ইউটিউবে একটি চ্যানেল থাকতে হবে। তাই ইউটিউব চ্যানেলটি চালানোর জন্য একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকলে খুবই ভালো হয়। এর মাধ্যমে ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও গুলো খুবই ভালভাবে কাস্টমাইজ করা যায়।

আরো পড়ুনঃ

তাছাড়া ইউটিউব এ কাজ করার জন্য অবশ্যই আপনাদের ডিভাইসে ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। ডিভাইসে ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলে কোনোভাবেই ইউটিউব এ কাজ করা যাবে না। এই উপকরণগুলোর মাধ্যমে আপনারা খুব সহজে ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

তাহলে চলুন এবার ইউটিউব থেকে আয় করার ৫টি উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাকঃ

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায় ২০২২

গুগল এডসেন্স থেকে আয়

বর্তমান সময়ে যারা ইউটিউবিং করে থাকেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ইউটিউবারই গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করে থাকেন। এই পদ্ধতিতে অবশ্যই আপনার ইউটিউবে একটি চ্যানেল থাকা লাগবে এবং এই চ্যানেলটি মনিটাইজ করে সেখানে গুগল এডসেন্সের এড ব্যবহার করে আয় করা যাবে।

বর্তমানে এমন অনেক ইউটিউবার রয়েছে যারা শুধুমাত্র তাদের ইউটিউব চ্যানেলে গুগল এডসেন্সের এড ব্যবহার করে সেখান থেকে প্রতিমাসে হাজার ডলার ইনকাম করে নিচ্ছে। তাই আপনারা ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করে সেই চ্যানেলটিকে মনিটাইজ করে তার পরে সেখান থেকে আয় করতে পারেন। ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার এটি হচ্ছে খুবই জনপ্রিয় একটি উপায়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার আরেকটি সেরা উপায় হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়। এই পদ্ধতিতে ইউটিউব থেকে অনেকে হাজার হাজার ডলার আয় করছে।

আমার দেখা এমন অনেক ইউটিউবার আছে তারা শুধুমাত্র তাদের ইউটিউব চ্যানেলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যমেই নিজেদের উজ্জল ক্যারিয়ার গড়েছে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল আপনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলকে ব্যবহার করে কোন কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিবেন এবং সেই বিকৃত প্রোডাক্টের লাভ থেকে নির্দিষ্ট অংশে কোম্পানিটি আপনাকে কমিশন হিসেবে দিবে।

এইভাবে আপনারা নিজের চ্যানেলটিকে ব্যবহার করে যত বেশি প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন ততবেশী আফিলিয়েট কমিশন পেয়ে যাবেন। আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি যদি অধিক বড় হয়ে থাকে তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যমে এখান থেকে ভালো উপার্জন করা সম্ভব।

নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করে আয়

আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি যদি অধিক বড় হয়ে যায় এবং আপনার চ্যানেল টি তে যদি সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা অধিক হয়ে থাকে তাহলে এটাকে ব্যবহার করে নিজের কোন কোম্পানি বা কোন দোকানের প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন।

অনলাইনের মাধ্যমে আপনি প্রচুর পরিমাণে কাস্টমার পেয়ে যাবেন যা অনলাইনের মাধ্যমে সম্ভব নয়।সঠিক ভাবে প্রচার করার মাধ্যমে অনেক কাস্টমার আপনার প্রোডাক্ট কিনবে।এতে করে খুব ভালো পরিমাণ অর্থ শুধুমাত্র ইউটিউব চ্যানেল থেকে এই প্রোডাক্ট বিক্রি করার মাধ্যমে উপার্জন করা সম্ভব।তবে প্রোডাক্ট বিক্রি আগে অবশ্যই একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার প্রোডাক্ট গুলো কিনে আপনার ভিউয়াররা উপকৃত হয় না হলে তারা আপনার ইউটিউব চ্যানেল কে বর্জন করবে।

বিভিন্ন কোর্স করিয়ে আয়

আপনি যদি নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে খুবই দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে সেই বিষয়ে আপনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কোর্স করিয়ে সেখান থেকে উপার্জন করতে পারেন। ধরুন আপনি ইংরেজিতে খুবই ভালো। এখন কমবেশি সকলেই ইংরেজি শিখতে চাই।

আপনারা এমন কিছু লোককে টার্গেট করতে পারেন যারা ইংরেজি শিখতে চাই।তারপরে তাদেরকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের কোর্সের বিষয়ে বলুন এবং সেখান থেকে তাদের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি নিন।

এইভাবে যত বেশি ছাত্র-ছাত্রী আপনার কোর্সে ভর্তি হবে আপনি ততো বেশি উপার্জন করতে পারবেন। এমন অনেক ইউটিউবার আছে যারা শুধুমাত্র তাদের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কোর্স বিক্রি করে মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করে থাকেন।

ভিডিও এডিটিং সার্ভিস দিয়ে ইউটিউব থেকে আয়

বর্তমানে আমরা যারা প্রফেশনালভাবে ইউটিউব চ্যানেল চালিয়ে থাকি তাদের অনেকেরই ভিডিও এডিটরের প্রয়োজন হয়ে থাকে। তারা ভিডিও এডিটরের সাহায্য নিয়ে সুন্দর সুন্দর ভিডিও তৈরি করে থাকেন বা ভিডিওগুলো কাস্টমাইজ করে থাকেন।

তাই অনলাইনে ভিডিও এডিটর দিন প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে।তাই আপনি একটি ভিডিও এডিটরের টিম তৈরি করতে পারেন এবং সেই টিমের ব্যাপারে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করতে পারেন।

তারপর যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে কেউ আপনার টিম থেকে ভিডিও এডিটর হায়ার করবেন তখন সেখান থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আপনাকে নিতে হবে। এইভাবে নিজের ইউটিউব চ্যানেল কে কাজে লাগিয়ে ভিডিও এডিটিং সার্ভিস দেওয়ার মাধ্যমে ইউটিউব থেকে ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

স্পনসর্ড কনটেন্ট এর মাধ্যমে ইউটিউব থেকে আয়

আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি যদি অধিক বড় হয়ে থাকে এবং আপনার চ্যানেল টি দের যদি অধিক পরিমাণে সাবস্ক্রাইবার থেকে থাকে তাহলে আপনি স্পনসর কন্টেন্ট তৈরীর মাধ্যমে সেখান থেকে আয় করতে পারবেন।

সাধারণত চ্যানেলটি বড় হয়ে গেলে অনেক কোম্পানি স্পনসর্ড কনটেন্ট এর জন্য অফার করে থাকেন। অর্থাৎ তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির প্রচারের জন্য কনটেন্ট তৈরি করতে বলবে এবং সেই কনটেন্ট আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করতে হবে।

এর জন্য সেই সকল কোম্পানিগুলো আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে।আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি যত বেশি বড় হবে আপনার আএর পরিমাণটা ও এই ক্ষেত্রে ততবেশি বাড়বে।তাই যারা বর্তমানে ইউটিউব থেকে ইনকাম করছেন তাদের জন্য এই স্পনসর্ড কনটেন্ট  থেকে আয় করার উপায়টি ও সেরা একটি মাধ্যম।স্পন্সর কনটেন্টের মাধ্যমে অনেক ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যারা লাখ টাকাও আয় করে থাকেন।

ইউটিউব প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয়?

ইউটিউব তার ভিডিও দেখার জন্য কত টাকা দেয় তা সঠিক করে বলা সম্ভব নয়। কারন, দেশভেদে ইউটিউবের উপার্জন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

উদাহরনস্বরূপ, আপনি যদি বাংলা ভাষায় ভিডিও তৈরি করেন তাহলে বাংলাদেশ থেকে আপনার ভিডিও-তে ভিউস বেশি আসবে। ফলে আপনার ইনকাম কম হবে। এক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ ভিউতে আপনি সর্বোচ্চ ১ ডলার পেতে পারেন।

কিন্তু, ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে প্রতি ১০০০ ভিউয়ের জন্য ইউটিউব মাঝে মাঝে ১০ ডলারও দিয়ে থাকে। তাই, এখানে কোন দেশ থেকে ভিজিটর আসতেছে তার উপর নির্ভর করে আপনার ইনকাম।

অনেকের মনে আবার প্রশ্ন আসতে পারে, বাংলাদেশ থেকে ইউটিউব মনিটাইজেশন পাওয়া যায় কিনা। হ্যা, অবশ্যই পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ

আমাদের শেষ কথা

বর্তমানে ইউটিউব এর জনপ্রিয়তা হয়ে গিয়েছে আকাশচুম্বী। ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। তাই সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করে ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করে সঠিকভাবে যদি কাজ করে যেতে পারেন তাহলে বর্তমানে ইউটিউব থেকে ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

আশা করি আজকের পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা ইউটিউব থেকে আয় ২০২২ এর সেরা কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।তার পরেও যদি কোন বিষয় সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আমাদেরকে সরাসরি কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে পারেন।পোস্টটি পড়ে যদি আপনারা উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করবেন।

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: