প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায় – সহজেই ইনকাম হবে

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান আমাদের জীবনের প্রধান অংশ হলেও টাকা ছাড়া এদের কোনোটিই জুটে না। বেচে থাকা কিংবা জীবন পরিচালনার জন্য আপনাকে টাকা কামাতেই হবে। তাই আজকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায় নিয়ে হাজির হলাম।

আজকের আর্টিকালে ৩০ হাজার টাকা প্রতিমাসে ইনকাম করার রাস্তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। কিন্তু আপনি যদি কোনো একটি রাস্তা বেছে নিয়ে ঠিকঠাক মতো কাজ করে যেতে পারেন তাহলে কয়েক দিন যাওয়ার পর ত্রিশ হাজার টাকার অধিক আয় করতে পারবেন।

চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করার রাস্তা দেখে নিই।

মাসে ৩০ হাজার টাকা কিভাবে আয় করবো?

মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার অনেক উপায় আছে। কিন্তু কেউ যদি আপনাকে ৩০ হাজার টাকা আয় করার একটি ব্যবসা সম্পর্কে বলে যেটা শুরু করতে আপনাকে ১০ লাখ টাকা ইনভেস্ট করতে হবে তাহলে অবশ্যই আপনি সেটি করবেন না।

কারন, ১০ লাখ ইনভেস্ট করে আপনি মাসে ৩০ হাজার কেনো, এর বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

তো কিভাবে কম খরচে বেশি লাভবান হওয়া যায় তারই কয়েকটি উপায় আজকের পোস্টে তুলে ধরবো। কম টাকা ইনভেস্ট করে কিভাবে অফলাইনে এবং অনলাইনে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা যায় সে সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করার উপায়

অনলাইন কাজ করে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায়

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চাকরী পাওয়া মানে “সোনার হরিণ” পাওয়ার সমান। তাই, অধিকাংশ মানুষ এখন অনলাইন আয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাহলে কিভাবে অনলাইনে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার যায় তার কয়েকটি উপায় চলুন দেখে নিন।

ব্লগিং

বাংলাদেশে অনেক মানুষ আছে যারা বাংলায় ব্লগিং করে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করছে। আবার অনেক ব্লগার আছে ব্লগিং করে প্রতি মাসে লাখ টাকার বেশি ইনকাম করে। তারা টাকা আয় করার জন্য ইংরেজী ব্লগিং-কে বেছে নিয়েছে। তো, আপনারও যদি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ঘরে বসে ইনকাম করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি ব্লগিং করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং

একটি হ্যান্ডসাম ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং অত্যান্ত ট্রান্ডিং একটি পেশা। গতকালও একটি ভিডিও দেখেছি যে এক ফ্রিল্যান্সার 3D Animation করে এক মাসে আয় করেছে ২৭ হাজার ডলার। যা বাংলা টাকায় ২৭ লাখ টাকার কাছাকাছি। তো, আপনিও যদি নতুন অবস্থায় মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার টার্গেট নেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং এর অনেক সহজ কাজ আপনি পেয়ে যাবেন।

ডাটা এন্ট্রি

বিভিন্ন তথ্য কম্পিউটারে এন্ট্রি করিয়ে অর্থাৎ অনলাইনে ডাটা এন্ট্রির কাজ করে মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা ইনকাম করছে এরকম ফ্রিল্যান্সার আমাদের দেশে প্রচুর রয়েছে। সহজ সহজ কাজ যেমন কপি-পেস্ট, ট্রান্সলেশন, স্পেলিং চেক, ই-কমার্স প্রোডাক্ট লিস্ট ইত্যাদি ডাটা এন্ট্রির কাজ করে খুব সহজেই ঘরে বসে আয় করা যায়। এমনকি কম্পিউটার ছাড়াই এই ডাটা এন্ট্রির কাজ করা যায়।

সিপিএ মার্কেটিং

বাংলাদেশে পুরুষদের পাশাপাশি অনলাইন ইনকাম করার ক্ষেত্র হিসেবে অনেক মহিলারাও এই সিপিএ মার্কেটিং-কে বেছে নিয়েছে। এখন সিপিএ মার্কেটিং করে বাংলাদেশের অনেক মেয়েরাও ঘরে বসে মাসে ৩০-৮০ হাজার টাকা আয় করার সুযোগ পাচ্ছে। তাই, আপনি যদি ভেবে থাকেন সহজ উপায়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করবেন তাহলে সিপিএ মার্কেটিং করতে পারেন। সিপিএ মার্কেটিং খুব সহজ কারন এখানে কোনো কিছু বিক্রি করতে হয় না বরং লিড জেনারেট করেই ইনকাম করা যায়।

এসইও

এসইও শব্দটি শুনলে অনেকের কাছেই মনে হতে পারে এটি আবার কি জিনিস! এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। এই যে অনলাইনে এতো এতো ওয়েবসাইট দেখেন সেগুলো গুগল সার্চ র‍্যাংকিং-এ প্রথমে আসার জন্য এসইও এর সাহায্য নিতে হয়। অর্থাৎ, প্রতিটি ওয়েবসাইটের মালিক তাদের ওয়েবসাইটকে প্রথম দিকে র‍্যাংক করানোর জন্য এসইও এক্সপার্ট হায়ার করে থাকে। তাই, আপনি যদি এসইও এর কাজ শিখেন তাহলে মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করা আপনার জন্য পানি-ভাত হয়ে যাবে।

অফলাইন ব্যবসা করে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায়

প্রশ্ন যখন টাকা আয় করা তখন ব্যবসার সাথে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। পৃথিবী যত মানুষ ধনী হয়েছে তারা অবশ্যই কোনো না কোনো ব্যবসার সাথে জড়িত। তো কিভাবে অনলাইন ব্যাতীত অর্থাৎ অফলাইনে ব্যবসা করে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করা যায় সে বিষয়গুলো চলুন এক নজরে দেখে নিন।

কাপড়ের ব্যবসা

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, কিন্তু কৃষিপণ্যের সাথে সাথে এদেশে গার্মেন্টস শিল্পের বিপ্লব ঘটেছে অস্বাভাবিক। ধারনা করা হয় এখন গার্মেন্টস এবং রেমিটেন্স এর উপর বাংলাদেশ টিকে আছে। তাই, আপনি আপনার সংসার চালানোর জন্য মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার লক্ষে শুরু করতে পারেন কাপড়ের ব্যবসা। প্রথমে বেশি পুঁজি না থাকলে অল্প পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং প্রতিমাসে লাভের অংশ থেকে টাকা জমিয়ে ব্যবসাকে আরো বড় করে তুলতে পারেন। কাপড়ের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা হতে পারে যেমনঃ শাড়ি বিক্রি, টি-শার্ট বিক্রি, গজ-কাপড় বিক্রি, জার্সি বিক্রি, গ্রে-কাপড়ের ব্যবসা, ইত্যাদি।

স্ট্রিট ফুড

খেয়াল করে দেখবেন, আগে যে খাবারগুলো পেতে আমাদের বড় কোনো রেস্ট্রোরেন্ট এ যেতে হতো সে খাবারগুলো এখন রাস্তার পাশে ছোট একটি দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এলাকার ছোট একটি বাজারে ৫-৬ টি স্ট্রিট ফুডের দোকান। এই দোকান দিতে বেশি টাকা খরচ হয় না কারন দোকানের ভাড়া দিতে না। অল্প টাকা খরচ করে প্লাস্টিকের বক্স অর্ডার দিয়ে বানিয়ে ফাঁকা পজিশন দেখে দোকান বসিয়ে ফাস্ট ফুড, বাদাম, চিকেন ফ্রাই, ইত্যাদি খাবার বানিয়ে অনায়াসেই আপনি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়া।

কসমেটিকস এর ব্যবসা

আপনি যদি বেশি লাভের কোনো ব্যবসা খুজেন তাহলে কসমেটিকস এর ব্যবসার দিকে নজর দিতে পারেন। এটিতে প্রায় সমান সমান লাভ। অর্থাৎ, আপনি যদি ৩০ হাজার টাকা পুজি নিয়ে ব্যবসায় নামেন তাহলে এই ৩০ হাজার টাকার কসমেটিক পণ্য বিক্রি করলে আপনার ৩০ হাজার টাকাই লাভ হবে।

এই ব্যবসা করার জন্য পণ্যের কোয়ালিটি এবং দোকানের পজিশন ঠিকঠাক হতে হবে। যদি বড় কোনো মার্কেটে কসমেটিকের দোকান দিতে পারেন তাহলে মাসে লাখ টাকা আয় করা ব্যাপার না। আর স্কুল/কলেজের সামনে ছোট আকারে এই কসমেটিক ব্যবসা দিলে আপনি মাসে ত্রিশ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

পাখি পালন

পাখির ডাক! কার না শুনতে ভালো লাগে। তাও যদি হয় সেটি বিদেশী পাখি তাহলে পাখির রঙ, শরীরের গঠন একটি বাংলাদেশী মানুষকে আকর্ষন করবেই।

আপনারও যদি থাকে সে পাখি পালার শখ, তাহলে সে শখকে ব্যবসায় পরিণত করে মাস শেষে কামাতে পারেন ৩০ হাজার টাকা।

এটিতো বললাম ছোট আকারে পাখির ব্যবসা করে টাকা কামানোর কথা। কিন্তু যখন এই ব্যবসা বড় আকার ধারন করবে তখন প্রতিটি পাখি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে মাসে কামাতে পারবেন লাখ টাকার বেশি।

এমনই একটি গল্প শুনিয়েছেন নওগা জেলার জিল্লুর রহমান তার শখ থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালনের গল্প

কোচিং সেন্টার

এখন মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায় যেটি বলবো তার জন্য আপনার নূন্যতম পড়াশোনা জানতে হবে।

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, কিন্তু এই শিক্ষাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে অনেক প্রকারের ব্যবসা। তেমনি একটি ব্যবসার নাম কোচিং সেন্টার ব্যবসা। আপনার যদি পূর্বে ছাত্রছাত্রী পড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনার জন্য কোচিং সেন্টার ব্যবসা চালু করা সহজ হবে।

আর যদি কোনো অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে স্কুল কলেজের পাশে ৩/৪ টি কক্ষ সহ একটি বাড়ি অথবা এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়ে বেতন দিয়ে শিক্ষক রেখে চালু করতে পারেন এই ব্যবসাটি। শুরু করার ১ বছর পর যদি ছাত্রদের একটি ভালো ফলাফল এনে দিতে পারেন তাহলেই সবকিছু বাদ দিয়ে মাসে ৩০ হাজার টাকা থাকবে আপনার পকেটে।

পরিশেষে

পরিশেষে বলতে চাই, আপনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায় জেনে নিলেন কিন্তু কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করলেন না তাহলে যে সময় নিয়ে প্রবন্ধটি পড়ে পুরোটাই বৃথা।

পরিশ্রম নিয়ে আরেকটা কথা বলতে চাই, সঠিক পরিকল্পনা এবং একাগ্রতা থাকলে মানুষের পরিশ্রম কখনও বিফলে যায় না। তাই আপনাকে সব ভুলে কঠিন পরিশ্রম করে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন।

Leave a Comment