দরখাস্ত লেখার নিয়ম, নমুনা ও উদাহরন 2024

দরখাস্ত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অনুসঙ্গ। সে জন্য আমাদের প্রত্যেকের দরখাস্ত লেখার নিয়ম খুব ভালভাবে আয়ত্ত করে রাখা উচিত।

দরখাস্ত বা আবেদনপত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ application. স্কুলে, কলেজে কিংবা কর্মক্ষেত্রে নানা প্রয়োজনে দরখাস্ত লিখতে হয়।

দরখাস্ত কিভাবে লিখতে হয় তা জানাটা খুবই জরুরী। দরখাস্ত বা আবেদনপত্র কিংবা এপ্লিকেশন কিভাবে লিখতে হয় তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন। 

আজকের ব্লগ পোস্টে আপনি জানবেন দরখাস্ত লেখার যাবতীয় বিস্তারিত নিয়ম। Dorkhasto lekhar niyom. Dorkhasto lekhar jabotiyo niyom জানতে এক্ষুণি পড়ে ফেলুল আমাদের এই ব্লগ পোস্টটি।  

দরখাস্ত লেখার আগে জেনে নিই চলুন দরখাস্ত কি সে বিষয়ে। dorkhasto ki. What is an application?

দরখাস্ত কি?

কিছু নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো বিশেষ বা নির্দিষ্ট বিষয়ে যে আবেদন করা হয় বা যে চিঠি পাঠানো হয় তাকে দরখাস্ত বলে। দরখাস্তকে অফিসিয়াল চিঠিও বলা হয়। ইংরেজিতে এটাকে বেশিরভাগ সময়ই ফরমাল লেটার বলা হয়ে থাকে।

কি কি বিষয়ে দরখাস্ত লেখা হয়:

মন চাইলেই দরখাস্ত লেখা যায় না। আসলে দরকার পড়ে না। সাধারণত নিজের বিশেষ প্রয়োজন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতেই এর দরকার পড়ে। ki ki bishoye dorkhasto lekha jay. Dorkhasto lekhar niyom jante chai. স্কুল-কলেজে নানাভাবে দরখাস্ত লেখা শিখানো হয়। সেই সূত্রে আমরা দরখাস্ত লেখার অনেক গুলো প্রকারভেদ সম্পর্কেই জানি। এছাড়া আরো যেসব বিষয়ে দরখাস্ত লেখা যায় তার একটা তালিকা করে দিচ্ছি :

  • জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন।
  • উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তার কাছে আবেদন।
  • উপবৃত্তির জন্য আবেদন।
  • জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন 
  • পত্রিকায় চাকরির জন্য আবেদন। 
  • পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আবেদন।
  • চাকরির জন্য আবেদন। 
  • হঠাৎ ছুটির জন্য আবেদন।
  • অগ্রিম ছুটির জন্য আবেদন।
  • ছাড়পত্রের জন্য আবেদন।
  • ছাত্রাবাসে আসন চেয়ে আবেদন। 
  • বনভোজনে যাওয়ার জন্য আবেদন।
  • ক্যান্টিন বা কমনরম চালু কিংবা চালু থাকলে তার সুবিধা বৃদ্ধির জন্য আবেদন।
  • মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আবেদন।

এছাড়া আরো অনেক বিষয়েই দরখাস্ত লেখা যায়। তা ব্যক্তির প্রয়োজনের সাথে সামন্জস্যপূর্ণ হয়ে থাকে সাধারণত।

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম নিয়ে একটি আর্টিকেলে আলোচনা করেছি এখন চলুন দরখাস্ত লেখার যাবতীয় সকল নিয়ম-কানুন দেখে নেওয়া যায়।

দরখাস্ত লেখার নিয়ম:

পূর্বেই বলেছি যে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যে অফিসিয়াল চিঠি তাই মূলত দরখাস্ত। তাই এখন আপনাদের জানিয়ে দিবো দরখাস্তের মূল নিয়ম গুলো। যা আপনি যেমন দরখাস্তই লিখেন না কেন সবক্ষেত্রেই অনুসরণ করতেই হবে। দরখাস্তে যেসব বিষয় থাকতেই হবে তা হলো:

  • আবেদনের তারিখ: দরখাস্ত লেখার নিয়মের মধ্যে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই যে পাতায় দরখাস্ত লিখবেন তার সবার প্রথমে, একদম বাম পাশে সঠিক ভাবে সেদিনের তারিখটি লিখতে হবে। 
  • প্রাপকের পদবি ও ঠিকানা: দরখাস্ত লেখার নিয়মে এর পরেই আসবে প্রাপকের তথ্য। অর্থাৎ আপনি কার কাছে লিখছেন দরখাস্তটি তার তথ্য। আপনি যার কাছে লিখছেন তার পদবী এবং ঠিকানা লিখতে হবে। এই ঠিকানা কিন্তু প্রাপকের বাসার ঠিকানা না, সাবধান। বরং প্রাপক যেখান কার বা যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান সেখানের ঠিকানা দিতে হবে।
  • দরখাস্তের বা আবেদনের বিষয়: এরপর লিখতে হবে যে বিষয়ে আপনি দরখাস্ত করছেন সে বিষয়। অর্থাৎ,  একটু আগেই যে বললাম কি কি বিষয়ে আবেদন করা যায় সেখান থেকে কোনো বিষয়( স্ক্রল করে একটু উপরে গেলেই পাবেন) বা আপনার যে বিষয়ে প্রয়োজন তা উল্লেখ করবেন। দরখাস্ত লেখার নিয়মে এটা তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
  • সম্ভাষণ: এবার আপনি মূল লেখা শুরু করতে যাচ্ছেন। সম্ভাষণে অনেকেই একটা সাধারণ ভুল করে থাকে যেমন ম্যাডাম, জনাবা কিংবা মহাশয়া এসব লিখে। বর্তমানে এসব আর তেমন ব্যবহার হয় না। বরং এসব ব্যবহারকে দৃষ্টিকটু হিসেবে দেখা হয়। তাই কর্তৃপক্ষ যে-ই হোক না কেন সবার ক্ষেত্রেই সাধারণ ভাবে জনাব ব্যবহার করাই শ্রেয়।
  • আবেদনের মূল অংশ: এই পয়েন্টে এসে আপনি আপনার যা প্রয়োজন বা আপনি যে জন্য আবেদনটি করছেন তা সংক্ষিপ্ত অথচ গঠনমূলক ভাবে লিখবেন। যত অল্প কথায় গুছিয়ে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবেন তত মানসম্মত হবে আপনার দরখাস্ত। এই অংশে সাধারণত দুইটা প্যারা অনুসরণ করে লিখা হয়। প্রথম পেরায় আপনার সমস্যা উল্লেখ করতে হবে এবং পরবর্তী পেরায় আপনার আবেদনটা থাকবে। তবে লেখার পরিমাণ হবে খুবই অল্প এবং গোছানো।
  • আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা: এটা দরখাস্ত লেখার সর্বশেষ নিয়ম। দরখাস্তের মূল লেখার শেষে বিনীত বা নিবেদক কিংবা দুইটা একসাথে করে বিনীত নিবেদক কথাটি লিখে আপনার নাম, পরিচয় উল্লেখ করবেন। আপনি স্কুল বা কলেজের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোনো দরখাস্ত লিখলে তাতে আপনার নাম, রোল, শ্রেণী, শাখা, শিফট এসব লিখবেন। আর যদি কোনো অফিসের জন্য লিখে থাকেন তাহলে আপনার নামের পর আপনার পদবী উল্লেখ করে দিতে পারেন।

এই তো! এইসব নিয়ম অনুসরণ করে আপনি একদম সঠিক ভাবে একটি দরখাস্ত লিখে ফেলতে পারবেন। দরখাস্ত লেখার নিয়ম আরো একটু ভালো ভাবে বুঝতে পারার জন্য আমরা এখানে একটা দরখাস্তের নমুনা দিয়ে দিচ্ছি :

তারিখ: 

১ জানুয়ারি, ২০২৪। 

(তবে হ্যা, এখানে কিন্তু তারিখ কথাটি উল্লেখ করা যাবে না। বরং, সরাসরি ১ জানুয়ারি, ২০২৪ লিখতে হবে। আধুনিক দরখাস্ত গুলোতে সালের পর ইং বা খ্রিস্টাব্দ বা ইসায়ী এই কথা গুলো লেখার প্রচলন তেমন নেই। এগুলো মাথায় রাখতে হবে।)

বরাবর,

প্রাপকের পদবি (প্রধান শিক্ষক/ অধ্যক্ষ/ এমডি)

প্রতিষ্ঠানের নাম (স্কুল /কলেজ/ যেকোনো)

প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ( বেশির ভাগ সময় জেলা বা শহরের নামই লেখা হয়ে থাকে, তবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সেটা হতে পারে চাকুরি কিংবা ব্যবসা সম্পর্কিত, সেসবের ক্ষেত্র পূর্ণ ঠিকানা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। যেমন: কখগ, বনানী, ঢাকা-১২১২)

বিষয় ( আবেদনের বিষয়… যা পূর্বেই বলা হয়েছে)

সম্ভাষণ ( সবসময় জনাব লিখতে হবে)

মূল লেখা

সবিনয় নিবেদন এই যে…এভাবে শুরু করে অল্প কথায় আবেদন জানাতে হবে।

বিনীত নিবেদক

প্রেরকের নাম ঠিকানা।

চাকরির দরখাস্তের কিছু তথ্য:

এই এতক্ষণ ধরে যা যা বললাম তা হলো প্রাতিষ্ঠানিক দরখাস্ত লেখার নিয়ম। এখন একটু বলবো চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম নিয়ে।

চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম

chakrir dorkhasto lekhar niyom. Kivabe likhte hoy chakrir dorkhasto. ঘাবড়ানোর দরকার নেই!  ভয়েরও কিছু নেই! এইটাও প্রাতিষ্ঠানিক দরখাস্তের মতোই। 

তবে আলাদা করে বলার কারণ হলো এটায় ভাষাগত একটু বিনয়ের ভাব থাকতে হবে। চাকরিটি যে আপনার একান্তই প্রয়োজন তা সংশ্লিষ্ট মহল অবধি পৌঁছে দিতে হবে। 

প্রাতিষ্ঠানিক দরখাস্ত কোনো সোর্সের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু এই দরখাস্তে আপনি কোন সূত্রে চাকরির খবরটি জেনেছেন তা উল্লেখ করতে হবে। 

আর প্রাপকের ঠিকানা এবং বিশেষ করে পদবী যেনে ঠিক হয় সে বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। তা না হলে সব ঠিক থাকার পরেও চাকরি নামের সোনার হরিণ হাতছাড়া হয়ে যেয়ে পারে। 

চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়মের আওতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দরখাস্ত সুন্দর করে লিখার পর তার সাথে যোগ করে দিতে হবে আপনার সিভি বা বায়োডাটা। যার বাংলা জীবন বৃত্তান্ত। এর সাথে লাগবে 

  • আপনার পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, 
  • আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের অনুলিপি  এবং 
  • জাতীয় পরিচয় পত্রের অনুলিপি।

আর বাকি সব নিয়ম একই ধরনের।

দরখাস্ত লেখার নিয়ম নিয়ে আমাদের শেষকথা:

দরখাস্ত লেখার মেজর দুই ধরনের নিয়মের বিস্তর আলোচনা আজকের ব্লগ পোস্টটিতে করা হলো। আমাদের আজকের এই পোস্ট টি মন দিয়ে পড়ে থাকলে আশা করি আপনার মনে দরখাস্ত লেখার নিয়ম নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। 

এবার আপনার পালা! কি ধরনের দরখাস্ত আপনার প্রয়োজন তা বাছাই করুন এবং আমাদের দেয়া নিয়ম অনুসরণ করে লিখে ফেলুন প্রয়োজনীয় দরখাস্ত।  

Leave a Comment