ব্লগিং

ব্লগ কি? ২০২১ সালে ব্লগ সম্পর্কে বিস্তারিত

ব্লগ হলো মূলত নিজের একটি ওয়েবসাইট যেখানে প্রতিদিন আর্টিকাল পাবলিশ করা হয়। আর ব্লগিং হলো মূলত লেখালেখির করার একটি পেশা। আজকের আর্টিকালটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনি জানতে পারবেন,ব্লগ তৈরি করার নিয়ম কি এবং কিভাবে ২০২১ সালে আপনি ব্লগিং করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আজকে আমি আপনাদের ব্লগিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো।

ব্লগিং মূলত কি?

ব্লগিং হলো লেখালেখি করার পেশা। কিন্তু সে লেখালেখিটা হতে হবে অনলাইনে। ওয়েবলগ নামক শব্দ থেকে ব্লগ এর উৎপত্তি

অনলাইনে নিজের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা এবং সে থেকে একটি অংশ আয় করাকে ব্লগিং বলে। অর্থাৎ, ব্লগিং হলো একটি অনলাইন বিজনেস, যেটার মাধ্যমে আপনি আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। আর যিনি ব্লগিং করেন, তাকে বলা হয় ব্লগার।

মনে রাখবেন, অন্য কারো ওয়েবসাইটে লেখালেখি করাকে ব্লগিং বলে না। মনে, করেন আপনি মার্ক জাকারবার্গের তৈরি করা ফেসবুক নামক ওয়েবসাইটে লেখালেখি করেন, তাহলে আপনি আপনাকে ব্লগার বলতে পারবেন না। ব্লগিং করার জন্য, আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে।

ব্লগিং করতে কি কি লাগে?

আগেই যেহেতু বলেছি ব্লগিং করতে একটি ওয়েবসাইটের প্রয়োজন হয়, তো এখন চলুন জেনে নিই একটি ওয়েবসাইট বানাতে কি কি প্রয়োজন হয়।

অনেক আগে যখন ওয়ার্ডপ্রেস নামন কন্টেন্ট মেনেজমেন্ট সফটওয়ার ছিল না, তখন একটি ওয়েবসাইট বানানো খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেস আবিষ্কারের পর থেকে যে কেউই একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলতে পারে খুব সহজে।

তো যাদের কাছে কিছু পুঁজি আছে তারা টাকা দিলে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে প্রোফেশনালভাবে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু আপনি চাইলে ফ্রিতে ও ওয়েবসাইট বানিয়ে ব্লগিং করতে পারেন। কিন্তু এতে উপার্জন করতে করতে কিছুটা দেরী হয়ে যায়।

এক নজরে ব্লগিং করতে কি কি প্রয়োজনঃ

  • ওয়েবসাইট
    • ডোমেইন
    • হোস্টিং
    • আর্টিকাল/ কন্টেন্ট
  • ধৈর্য
  • টাকা উপার্জন করার মানসিকতা

২০২০ এ কিভাবে ব্লগিং শুরু করতে পারেন

ব্লগিং শুরু করা একদম এ সহজ কাজ। আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকলেই আপনি ব্লগিং করতে পারছেন। চাইলে ফ্রিতে আপনি একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন সাইট থেকে।

যেমনঃ

আশা করি আপনারা পারবেন। আর যদি না পারেন তাহলে নির্দ্বীধায় কমেন্ট করতে পারেন। অথবা আমাদের সাথে কন্টাক্ট করতে পারেন। আমরা আপনাকে সাহায্য করায় সচেষ্ট থাকিব।

আর আপনি যদি চান তাহলে একটি হাই লেভেলের ডোমেইন কিনেও ব্লগিং শুরু করতে পারেন । এতে করে আপনার কাজটি আরো বেশি প্রোফেশনাল মনে হবে এবং খুব সহজেই উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

ডোমেইন হোস্টিং কিনে কিভাবে ওয়েবসাইট বা ব্লগ বানাবো?

ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনার পর আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে আপনার কেনা ডোমেইনটি একটি হোস্টিং এ রাখা। আপনি যেই কম্পানি থেকে হোস্টিং কিনবেন তাদেরকে বললেই তারা এটি করে দিবে। আপনি চাইলে বাংলাদেশি অনেক কম্পানি থেকেই ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে পারেন। গুগলে সার্চ দিলেই বাংলাদেশি কম্পানি পেয়ে যাবেন।

[বলে রাখা ভাল, এসব কম্পানি থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনার মানে এই নয় যে সারাজীবনের জন্য আপনি ডোমেইন/ হোস্টিংটি কিনে নিলেন। এর মানে হলো নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে আপনি তাদের কাছ থেকে এটি এক বছরের/ আরো বেশি সময়ের জন্য ভাড়া নিলেন।]

তো ডোমেইন হোস্টিং সেটাপ করার পর আপনার কাজ হলো ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করা।

কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে ব্লগ বানাবেন?

আপনি যখন একটি হোস্টিং কিনবেন তখন আপনাকে একটি সিপেনেল দেওয়া হবে। সেই সিপেনেল থেকে আপনি আপনার ওয়েবসাইট কন্ট্রোল করতে পারবেন। যেহেতো ওয়েবসাইটের বাহ্যিক দিক কন্ট্রোল করতে ওয়ার্ডপ্রেসের দরকার হয়, সেহেতু সিপেনেল থেকে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে হবে ।

এর জন্য নিচে গেলে ওয়ার্ডপ্রেস নামক একটি অপশন আপনারা দেখতে পারবেন। শুরু আপনাকে সেখানে ক্লিক করে আপনার ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে হবে।

কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেসে লগিন করবেন এবং ব্লগ ডিজাইন করবেন?

ওয়েবসাইটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করা হয়ে গেলে সি পেনেলের আর তেমন বেশি একটা দরকার পরে না। তখন আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে আপনার সম্পূর্ণ সাইট কন্ট্রোল করতে পারেন।

এর জন্য আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেসে লগিন করতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেসে লগিন করার জন্য আপনার সাইটের এড্রেসের পর wp-admin লিখে যেকোনো ব্রাউজারের উ-আর-এল বক্সে সার্চ করতে হবে । যেমন www.Abcd.com/wp-admin

তারপর ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার সময় যেই পাসওয়ার্ড দিছিলেন তা দিয়ে লগিন করতে হবে।

এখন লগিন তো হয়ে গেলো কিন্তু আপনার সাইট এখনও তৈরি হয় নি। কারন আপনার সাইটের কোনো কাঠামো আপনি ঠিক করেন নি।

তাই সাইটের কাঠামো ঠিক করার জন্য আপনার সাইটে একটি Theme ইন্সটল করতে হবে।

থিম ইন্সটল করার জন্য appearance থেকে Theme অপশনে চলে যান এবং একটি তিম বাছাই করে ইন্সটল করে এক্টিবেট করে ফেলুন।

ব্যাস, হয়ে গেলো আপনার সাইট। এখন এখান থেকে Post অপশন থেকে বিভিন্ন পোস্ট করতে পারেন, কিংবা পেজে ক্রিয়েট করতে পারেন।

ব্লগিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

এবার হচ্ছে মূল পাঠ। কারন, আপনি একটি ব্লগ খুলে রেখে দিলেন কিন্তু সেখান থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। এটা তো আর হয় না। তাই আপনাকে আয় করতে হবে। তো কিভাবে ব্লগিং করে আয় করা যায় তা বিস্তারিত আমি আরেকটি আর্টিকালে লিখবো। এখন শুধু বলে দিচ্ছি যে কি কি উপায়ে আয় করা যায়।

  1. গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে
  2. ডিজিটাল মার্কেটিং করে
  3. এফিলিয়েট মার্কেটিং করে
  4. ব্যাকলিংক বিক্রি করে
  5. সাইটের এসইও করে
  6. অন্যান্য সাইটের জন্য ক্লায়েন্ট জোগার করে দিয়ে
  7. স্পন্সর বিজ্ঞাপন দিয়ে । ইত্যাদি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close