অনলাইন ইনকামব্লগিং

ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করার উপায় ২০২১

ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করা বর্তমানে খুব পরিচিত একটি বিষয়। তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে মানুষ অনলাইন থেকে বিভিন্ন উপায়ে আয় করার দিকে ধাবিত হচ্ছে। অনেকে অনেক ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করার মাধ্যমে আয় করছে। আবার অনেকে আয় করার জন্য বেছে নিয়েছে ইউটুব কিংবা ফেসবুক। অনলাইন থেকে যে কত উপায়ে আয় করা যায় সে বিষয়ে আপনার কোনো ধারনাই নেই।

ভয় নেই। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি যে শুধুমাত্র একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখান থেকে কত উপায়ে আয় করা যায়। সে সাথে আর্টিকালের শেষে থাকবে আমাদের চিরচেনা কিছু প্রশ্নের উত্তর।

মনযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইলো।

ওয়েবসাইট কি?

ইন্টারনেটে যা কিছু রয়েছে তা সবকিছুই ওয়েবসাইট। এর মধ্যে কোনোটিকে আমরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চিনি, কোনোটিকে ব্লগ হিসেবে চিনি আবার কোনোটিকে অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসেবে জানি। আসলে এগুলোর সবগুলোই ওয়েবসাইট।

আমরা যে ফেসবুক ব্যবহার করি সেটিও একটি ওয়েবসাইট। কিন্তু সেই ওয়েবসাইটের আবার মোবাইল অ্যাপ্লিকেশান-ও রয়েছে। আমরা মোবাইলে যেটি ব্যবহার করি সেটি হলো Facebook app আর কোনো ব্রাউজার দিয়ে যদি ওপেন করি সেটি হলো Facebook website

তাছাড়া গুগল সার্চ করলে আমরা হাজার হাজার ওয়েবসাইটের দেখা পাই। আর এই প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের মালিক-ই কোনো না কোনো উপায়ে আয় করছে।আজকের পর থেকে আপনারা ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করতে পারবেন যদি ট্রিকসগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেন।

ওয়েবসাইট তৈরি করে কত টাকা আয় করা যায়?

ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতি মাসে অনেক মানুষ লাখ-লাখ টাকা আয় করছে। কিন্তু আপনি আজকে ওয়েবসাইট বানিয়ে কালকে থেকেই আয় করা শুরু করে দিবেন এরকমটা নয়। বরং একটি সাইট বানানোর পর সেই সাইটে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। একটা সময় যখন সাইটটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন থেকে ইনকাম হওয়া শুরু হয়।

তবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে আপনি সেখান থেক কত টাকা আয় করতে পারবেন তা সম্পূর্নই নির্ভর করে আপনার উপর। আপনি যদি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং সেখানে দৈনিক ৫-৬ ঘন্টা করে সময় দেন তাহলে ৪-৫ মাসের মধ্যেই আপনার প্রথম ইনকাম শুরু হতে পারে। তবে এটি সম্পূর্নই নির্ভর করে আপনার মেধার উপর।

অনেকে ৫-৬ ঘন্টা সময় দিয়ে ৪-৫ মাস পর ২০০+ ডলার আয় করতে পারে । আবার অনেকে ২-৩ ঘন্টা সময় দিয়েই মাসে ৫০০ ডলার আয় করতে পারে। তো এখানে মেধা এবং দক্ষতাই প্রধান বিষয়।

কোন ধরনের ওয়েবসাইট থেকে বেশি আয় করা যায়?

আসলে সব ধরনের ওয়েবসাইট থেকেই আয় করা যায়। কিন্তু আপনি যদি এমন ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন যেখানে আয় করার মাধ্যম বেশি তাহলে সেখান থেকে বিভিন্ন উপায়ে আয় হতে থাকবে।

যেমন মনে করুন আপনি যদি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে সেখানে পণ্য ও বিক্রি করতে পারবেন আবার বিভিন্ন পণ্যে বিজ্ঞাপনও দিতে পারবেন। আবার যদি ই-কমার্স সাইট তৈরি করেন তাহলে এর প্রচারনার খরচ অনেক বেশি কিন্তু আয় করর মাধ্যম অনেক কম।

কিন্তু জেনে রাখা ভালো কম খরচে ভালো পরিমানে আয় করতে চাইলে ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। কেননা ব্লগ ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট হয় এবং বিভিন্ন নতুন নতুন তথ্য যুক্ত হয়। তাই ব্লগ ওয়েবসাইটের ভিজিটরের সংখ্যাও অনেক বেশি হয়। আর ভিজিটর বেশি মানেই ইনকাম বেশি।

ব্লগ ওয়েবসাইট বলতে কি বুঝায়?

অনেক ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে। কিন্তু যেই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে প্রতিদিন ইনফরমেটিভ আর্টিকাল প্রকাশিত হয় তাকে ব্লগ ওয়েবসাইট বলে। গুগল কোনো কিছু জানার জন্য সার্চ করলে মূলত ব্লগ ওয়েবসাইটের লিংকগুলো-ই প্রথমে চলে আসে। কেননা ব্লগ ওয়েবসাইটের মধ্যে অনেক ইনফরমেশন থাকে।

কিছুদিন আগে ব্লগিং করাকে মানুষ শখ হিসেবে নিতো। তখন মানুষ অবসর সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতো। কিন্তু, একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্লগিং করার মাধ্যমে যে আয় করা যায় সে সস্পর্কে তাদের ধারনাই ছিল না।

কিন্তু সময় যত আধুনিক হচ্ছে মানুষ ততই ব্লগিং এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় 600 মিলিয়ন ব্লগ ওয়েবসাইট রয়েছে এবং প্রত্যেকটি ব্লগের মালিক-ই কোনো না কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন করছে।

বাংলা ভাষার ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে কত আয় করতে পারবো?

আপনি যদি বাংলা সাইট নিয়ে কাজ করেন তাহলে সব ভিজিটর বাংলাদেশ থেকে আপনার সাইটে আসবে। আর যদি ইংরেজি সাইট নিয়ে কাজ করেন তাহলে অনেক ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকান ভিজিটর আপনার সাইটে আসবে। সেক্ষত্রে একটি ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান ভিজিটরের যত মূল্য রয়েছে বাংলাদেশি ভিজিটরদের কিন্তু সেই মূল্য নেই।

আপনি চাইলেই বাংলাদেশি একজনকে দিয়ে ৫০০টাকার বিনিময়ে সারাদিন কাজ করাতে পারবেন। কিন্তু আমেরিকার একজনকে দিয়ে কিন্তু এত কম টাকায় কাজ করাতে পারবেন না।

তাই বাংলা সাইট থেকে ইংরেজী সাইটের ইনকাম অবশ্যই বেশি হয়। কিন্তু ইংরেজী ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রতিযোগীতাও অনেক বেশি। ইংরেজী সাইট নিয়ে কাজ করতে গেলে আপনার ভালো মার্কেটিং-এর জ্ঞান থাকা উচিত

আবার অনেকক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের-এর আয় দায় ওয়েবসাইটের টপিক বা নিশ এর উপর নির্ভর করে । কোনো কোনো টপিকের কি-ওয়ার্ড রয়েছে যার CPC অনেক কম আবার কোনোটার বেশি । তো যেই টপিকের CPC বেশি সেই টপিকের ব্লগ থেকে বেশি অর্থ আয় করা যাবে।

কিভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়?

বর্তমান ২০২১ সালে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কোনো কোডিং নলেজের প্রয়োজন হয় না। আপনি চাইলেই খুব সহজে ওয়ার্ডপ্রেস কিংবা ব্লগার দিয়ে ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারবেন। এবং ফেসবুকে যেমন ভাবে পোষ্ট করতে পারেন ওয়েবসাইটেও ঠিক তেমন ভাবেই পোষ্ট করতে পারবেন এবং পোস্ট গুলো ম্যানেজও করতে পারবেন।

ওয়েব সাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটি উচ্চমানের ডোমেইন(.com, .net, .org) কিনে তারপর ভালো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে। অর্থাৎ টাকা দিয়ে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে হবে। এবং বছরে বছরে এর ভাড়া দিতে হবে। আবার চাইলে আপনি ফ্রি-তেও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন ব্লগারের মাধ্যমে ।

দেখে নিন- বিনামূল্যে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়

ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনতে কত টাকা লাগে?

ডোমেইন এবং হোস্টিং আপনি বিভিন্ন কম্পানির কাছ থেকে বিভিন্ন দামে পাবেন। কিন্তু ভালো কোনো কম্পানি থেকে আপনাকে ডোমেইন হোস্টিং কিনতে হবে। ডোমেইন হোস্টিং ইন্টারনেশনাল কম্পানি থেকে কিনলে বেশি ভালো হয়। কেননা ইন্টারনেশনাল কম্পানিগুলোর সার্ভিস অনেক ভালো মানের হয়। তাদের সার্ভারের লোডিং স্পিড অনেক বেশি থাকে।

আর লোডিং স্পিড একটি সাইটকে গুগলে রেংক করে দিতে অনেক সহয়তা করে। বাংলাদেশেও অনেক কম্পানি রয়েছে যেখান থেকে আপনি ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করতে পারেন। এদের মধ্যে আবার অনেকে আছে খুব কম দামে এইগুলো সেল দেয়। তাদের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ রইলো।

বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো হোস্টিং কম্পানি হলোঃ

  • ExonHost
  • Code For Host (বর্তমানে Hostever)

ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখান থেকে আয় করার অনেক উপায় রয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে আমি ১০ কার্যকারী উপায় তুলে ধরেছি। আশা করছি এই উপায়গুলো অনুসরন করার মাধ্যমে আপনি যেকোনো একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে প্রতিমাসে ভালো টাকা রোজগার করতে পারবেন।

আর ৫-৬ মাস কষ্ট করে কাজ করে আপনার ওয়েবসাইটকে জনপ্রিয় করার পর আপনার আয় হতেই থাকবে। একবার জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ার পর তখন আপনাকে এতো বেশি কষ্ট করতে হবে না। তখন সাইটে কোনো কাজ না করলেও আপনার ইনকাম হবে। যাকে । যাকে আমরা বলি Passive Income.

1.গুগল এডসেন্স(Google AdSense) থেকে আয়

গুগল এডসেন্স হলো গুগলের এইটি বিজ্ঞাপন প্রচার প্রোগ্রাম। ২০০৩ সালের জুন মাস থেকেই গুগল এডসেন্স তাদের প্রোগ্রামটি প্রথম চালু করে। এখানে কাজ করতে হলে আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে। এবং সেই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য গুগল থেকে অনুমতি নিতে হবে।

আপনার ওয়েবসাটের মধ্যে গুগল এডসেন্সের অনুমতি পেয়ে গেলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। এবং আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটররা যখন বিজ্ঞাপন দেখবে এবং ক্লিক করবে তখন আপনার এডসেন্সে একাউন্টে ডলার জমা হবে।

সেখানে ১০০ ডলার জমা হয়ে গেলে যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে ডলারগুলো টাকায় রূপান্তর করে হাতে নিয়ে আসতে পারবেন। গুগল যদি বিজ্ঞাপন দাতার কাছ থেকে ১০০ ডলার নেয় তাহলে নিজে ৩৮ ডলার রেখে বিজ্ঞাপন প্রচারককে ৬৮ ডলার দিয়ে দেয়।

আপনি যদি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করতে চান তাহলে খুব সহজেই গুগল এডসেন্সের পাবলিশার হিসেবে কাজ করতে পারেন। তাহলে শুধুমাত্র এডসেন্স থেকে প্রতিমাসে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।

আপনি জানলে অবাক হবেন, Pete Cashmore তার ওয়েবসাইট mashable.com-এ শুধু মাত্র গুগল অ্যাডসেন্স থেকে প্রতি মাসে আয় করেন ৪ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা।

অবশ্যই পড়ুনঃ

2.শাখা বিপণন (Affiliate Marketing) করে আয়

অনলাইনে শাখা বিপণন বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুব জনপ্রিয় একটি কাজ। এর হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কমিশন পাওয়ার আশায় কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিংবা সার্ভিস প্রচার করাকে শাখা বিপনন বলা হয়ে থাকে।

আপনার যদি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে প্রতিনিয়তই অনেক ভিজিটর আসে তাহলে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। এবং এই শাখা বিপণন করার মাধ্যমে মাসিক লক্ষ টাকা অধিক আয় করতে সক্ষম হতে পারেন।

এটি করার জন্য প্রথমে আপনাকে যেকোনো Affiliate ওয়েবসাইটটে জয়েন করে নিতে হবে। এবং সেখান থেকে পণ্যগুলোর Affiliate Link পাবেন। এই লিংকগুলোই আপনাকে প্রচার করতে হবে। কেউ যদি আপনার এফিলিয়েট লিংকে ক্লিক করে কোনো কিছু ক্রয় করে তাহলে সেখান থেকে আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন।

তো আপনি প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের পর্যালোচনা লিখবেন এবং সেখানে পণ্যটির বিক্রির লিংক যুক্ত করে দিবেন। কেউ যদি আপনার উল্লেখিত লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করে তাহলে আপনি সেখান থেকে কমিশন পেয়ে যাবেন।

তো আপনি চাইলে আজকেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে শাখা বিপনন করার মাধ্যমে আয় করা শুরু করে দিতে পারেন।

3.অর্থ প্রদত্ত পর্যালোচনা লেখা বা Sponsor Review:

আপনার ওয়েবসাইটটি যদি খুব জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট হয় তাহলে আপনি এখানে অর্থের বিনিময়ে পর্যালোচনা লিখতে পারেন। অর্থাৎ, যদি প্রতিদিন ৪-৫ শত ভিজিটর আপনার সাইটে আসে এবং আপনার লেখা পর্যালোচনাগুলো সময় নিয়ে পড়ে, তাহলে আপনি বিভিন্ন কম্পানির সাথে সরাসরি চুক্তি করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পণ্যের পর্যালোচনা লিখতে পারেন।

তারা, তাদের পণ্যের পর্যালোচনা লিখে দেওয়ার জন্য আপনাকে টাকা দিবে। কেননা এতে করে তাদের কম্পানির বেশি বেশি প্রচার হবে। ফলে তাদের পণ্য বা সার্ভিস বেশি বেশি বিক্রি করতে পারবে।

এভাবে ওয়েবসাইটে পর্যালোচনা লিখার মাধ্যমেও আয় করা যায়।

4.ব্যাক-লিংক(Backlink) বিক্রয়ঃ

যারা SEO সম্পর্কে জানেন তারা অবশ্যই Backlink শব্দটি শুনেছেন। Backlink বলতে মূলত অন্য ওয়েবসাইটের মধ্যে থাকা আপনার ওয়েবসাইটের লিংকগুলোকে বুজায় যা সার্চ ইঞ্জিনের রেংকিং-এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।

তো আপনার ওয়েবসাইটটি যদি রেংকিং-এ ভালো পজিশনে থাকে এবং ডোমেইন অথরিটি খুব ভালো হয়, তাহলে আপনি আপনার সাইটে অন্য সাইটের একটি লিংক দেওয়ার জন্য ১০ ডলার থেকে ১০০ ডলারও পেতে পারেন।

আপনি যদি এসইও সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে জেনে নিন- SEO কি এবং কিভাবে ওয়েবসাইটের এসইও করবো ?

5.নিজের পরিষেবা বিক্রয়ঃ

আপনার যদি কোনো পরিষেবা থেকে থাকে যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন বা ডেভেলোপমেন্ট, আর্টিকাল রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও ইত্যাদি তাহলে আপনি আপনার ব্লগের ভিজিটরদের কাছে তা বিক্রি করে ভালো অর্থ আয় করতে পারবেন।

তাছাড়া আপনার কোনো ব্যাবসা থাকলে সেই ব্যাবসার পণ্য নিয়েও এই কাজটি করতে পারেন নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে।

এটি খুব সহজ একটি ব্যপার। আপনি যদি উপরে উল্লিখিত কোনো বিষয়ে দক্ষ হন তাহলে সেই বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করতে পারেন। আর আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর নিয়মিত আপনার আর্টিকালগুলো পরবে এবং এ থেকে আপনি তাদের বিশ্বাস অর্জন করে ফেলবেন।

তখন আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের যদি যেকোনো সার্ভিসের প্রয়োজন হয় তাহলে সে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এবং সার্ভিসটি সে আপনাকে দিয়েই করিয়ে নিতে চাইবে। কেননা আপনার লেখাগুলো পড়েই সে বিষয়গুলো জানতে পেরেছে।

আর এভাবেই ওয়েবসাইটে পরিষেবা বিক্রি করে আয় করা যায়। আপনি চাইলেও আজ থেকেই শুরু করতে পারেন।

6.নিজ ব্যাবসার বিজ্ঞাপন

বিশ্বের অনেক বড় বড় কম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের সুবিধার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং সেখানে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে ব্লগ লিখে থাকে।

কোনো ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানের ব্লগ লেখার প্রধান উদ্দেশ্য হলো গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথমে জায়গা দখল এবং গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সেবা প্রধানের মাধ্যমে সেখান থেকে অর্থ আয় করা।

তো আপনারও যদি কোনো বিজনেস থাকে তাহলে সেই বিজনেস সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনিস নিয়ে পর্যালোচনা লেখালেখি করে গ্রাহকদের সেবা প্রধান করতে পারেন এবং আপনার বিজনেসটি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেশি বেশি প্রচার করতে পারেন ।

পর্যালোচনাগুলোতে আপনার বিজনেস সম্পর্কে ধারণামূলক বিজ্ঞাপন রাখতে পারেন এবং সে সকল পর্যালোচনাগুলোর এসইও করে সার্চ ইঞ্জিনে জায়গা দখল করতে পারেন। এর ফলে আপনার বিজনেস এর গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং এতে আপনি বেশি লাভবান হবেন।

7.বিজ্ঞাপনের জায়গা বিক্রয়

আপনার ওয়েবসাইটে যদি পর্যাপ্ত পাঠক আসে এবং পেইজ ভিউ করে তাহলে আপনি বিজ্ঞাপনের জায়গা বিক্রির বিষয় নিয়ে বিভিন্ন কম্পানির সাথে কিংবা যেকোনো বিজ্ঞাপনদাতার সাথে কথা বলতে পারেন। অর্থাৎ, চুক্তি করতে পারেন।

আপনার ওয়েবসাইট যদি অনেক জনপ্রিয় হয় তাহলে বিভিন্ন কম্পানির প্রোমোশনাল বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আপনার ওয়েবসাইটের একটি জায়গা বহাল রাখতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইতে তখন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপণ প্রকাশের জন্য একটু অতিরিক্ত জায়গা রাখবেন এবং প্রতিটি জায়গায়ই বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে অর্থ রাখবেন। খুব সিম্পল।

আর এভাবেই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য অন্য কম্পানি থেকে টাকা নিয়ে আয় করতে পারেন।

8.অতিথি পোস্টের মাধ্যমে ব্লগ থেকে আয়

আপনি হয়তো জানেন, অনলাইনে কাউকে দিয়ে যদি কোনো পর্যালোচনা বা আর্টিকাল লেখাতে হয় তাহলে বেশ কিছু টাকা খরচ করতে হয়। কেমন হবে যদি কেউ আপনার সাইটে আপনাকে ফ্রি ফ্রি একটি আর্টিকাল লিখে দেয় এবং এর সাথে আপনাকে ২৫ ডলার দিয়ে দেয়?

আপনি যেই আর্টিকাল টাকা দিয়ে লেখাতেন সেই আর্টিকাল ফ্রিতে পাচ্ছেন আবার সাথে ২৫ ডলারও পাচ্ছেন।

হ্যা। অবাক লাগারই বিষয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে মন দিয়ে কাজ করেন এবং সাইটের এসইও করে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে অনেক জায়গা দখল করতে পারেন।

অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটকে পাওয়ারফুল করতে পারেন, ডোমেইন অথরিটি বাড়াতে পারেন তাহলে আপনার সাইটে লোকজন টাকা দিয়ে আর্টিকাল লিখবে। যাকে আপনা guest blogging বা guest posting বলে থাকি।

9. ইমেইল লিষ্ট তৈরি করে আয়

আপনার ওয়েবসাইটের যখন প্রতিনিয়ত অনেক ভিজিটর আসতে থাকবে তখন আপনি চাইলে একটি কাজ করতে পারেন। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ই-মেইল সাবমিট করার জন্য একটি অপশন চালুন করতে পারেন। এবং সেখানে আপনার ভিজিটররা ইমেইল সাবমিট করলে সেই ইমেইলের একটি লিস্ট তৈরি করতে পারেন। এবং সেগুলো বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করে দিতে পারেন।

এভাবেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইমেইল লিষ্ট তৈরি করে খুব সহজেই ঘরে বসে আয় করা যায়।

10. ওয়েবসাইট বিক্রি করে টাকা আয়

আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন এবং সেখানে লেখালেখি করেন তাহলে পরবর্তিতে চাইলে আপনার সাইটটি বিক্রি ও করে দিতে পারবেন। তাই এখানে কোনো ভয় নেই।

মনে করুন, আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে উপরোক্ত কোনো উপায়েই আয় করতে পারলেন না। তখন কি আপনি হেরে গেলেন? কখনই নয়।

যদি আপনার সাইটের কোনো খারাপ রেকর্ড তৈরি না হয় তাহলে আপনার সাইট অনায়েসেই বিক্রি করে দিতে পারবেন। আর কষ্ট করে একটি সাইটকে রেংক করালে পরবর্তীতে সেই সাইট খুব ভালো দামেই বিক্রি করা যায়।

সর্বশেষ কথা

ওয়েবসাইট থেকে যে কত উপায়ে আয় করা যায় তা আপনি শুরু না করে বুঝতে পারবেন না। আপনি অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করে অর্থ আয় করতে পারবেন কিন্তু ব্লগিং করার একটি সুবিধা হচ্ছে এখানে ১-২ বছর সময় দেওয়ার পর আর বেশি সময় দেওয়ার দরকার হয় না।

Join in our facebook group: https://www.facebook.com/groups/techbdtricks

আরো পড়ুনঃ

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!
Close