ব্লগিং

ব্লগ থেকে আয় করার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী উপায়

ব্লগ কি? এটা আমরা আগেই জেনেছি । ব্লগ হচ্ছে লেখালেখি করে অর্থ উপার্জনের একটি মাধ্যম বা ওয়েবসাইট। আমরা অনেকেই আছি লেখালেখি করতে অনেক পছন্দ করি। কিন্তু সেই লেখালেখি করে যে ব্লগ থেকে আয় করা যায়, তা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা।

কিছুদিন আগে ব্লগিং করাকে শখ হিসেবে নেওয়া হতো। তখন মানুষ অবসর সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালিখি করতো। তখন তারা শুধু সময় কাটানোর জন্য বা পছন্দ করা থেকেই করতো। এর থেকে অর্থ আয়ের কথা তখন চিন্তা করতো না।

কিন্তু সময় যত আধুনিক হতে লাগলো, মানুষ ততই এসব লেখালেখি থেকে অর্থ আয়ের কথা চিন্তা করলো। কিভাবে ব্লগিং করে আয় করা যায়, এ বিষয় নিয়ে মাতামাতি শুরু হলো এবং অনেকেই এই ব্লগিং এর দিকে ঝুকে পরে। এবং এর মধ্যে অনেকের সফল হয়েছে আবার অনেকেই ঝরে পরে গেছে।

যাই হোক আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো, ব্লগিং করে একটি ব্লগ থেকে কত উপায়ে এবং কত টাকা আয় করা যায়।

ব্লগিং করে প্রতি মাসে কত টাকা আয় করা যায়?

ব্লগিং করে প্রতি মাসে আপনি কত আয় করতে পারবেন এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে

  • আপনার উপর ,
  • আপনার মেধার উপর এবং
  • এর পিছনে কতটুকু সময় ব্যয় করতেছেন এর উপর
  • আপনার সাইটেরর কন্টেন্ট এবং টপিকের উপর
  • সাইটের ভিজিটরের উপর

এখন আপনি যদি দৈনিক ৫-৬ ঘন্টা সময় দেন এবং মেধা খাটিয়ে কাজ করেন তাহলে শুরু করার ৬-৭ মাস পর আপনার আয় ২০০+ ডলার হতে পারেন । আবার অনেকে আছে ২-৩ ঘন্টা সময় দিয়েও মাসে ৫০০ ডলার ইনকাম করতে পারে। তো এখানে মেধা এবং দক্ষতাই মেইন বিষয়।

আপনি যদি বাংলা সাইট নিয়ে কাজ করেন তাহলে সব ভিজিটর বাংলাদেশ থেকে আপনার সাইটে আসবে। আর যদি ইংরেজি সাইট নিয়ে কাজ করেন তাহলে অনেক ইউরোপিয়ান আমেরিকান ভিজিটর আপনার সাইটে আসবে। তো এক্ষেত্রে সাইটের কন্টেন্ট এবং ভিজিটরের উপর আপনা ব্লগের আয় অনেকটা নির্ভরশীল।

আবার অনেকক্ষেত্রে ব্লগ-এর আয়-দায় ওয়েবসাইটের টপিক বা নিশ এর উপর নির্ভর করে । কোনো কোনো টপিকের কি-ওয়ার্ড রয়েছে যার CPC অনেক কম আবার কোনোটা বেশি । তো যেই টপিকের CPC বেশি সেই টপিকের ব্লগ থেকে বেশি অর্থ আয় করা যাবে।

যদি সাধারনভাবে বলি, ব্লগিংকে যদি পেশা হিসেবে নেন এবং ২ বছর যদি এটির পেছনে সময় ব্যয় করেন তাহলে এর পর থেকে ৮০০-১০০০ ডলার বা ৬০ হাজার-৮০ হাজার টাকা কোনো প্ররিশ্রম ছাড়াই মাসিক ইনকাম করা সম্ভব।

আপনি জানলে অবাক হবেন, Pete Cashmore তার ওয়েবসাইট mashable.com-এ শুধু মাত্র গুগল অ্যাডসেন্স থেকে প্রতি মাসে আয় করেন ৪ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। আরো অনেক উপায় তো রয়েছেই ব্লগিং করার মাধ্যমে আয় করার।

তো চলুন জেনে নেওয়া যাক, কি কি উপায়ে একটি ব্লগ থেকে আয় করা যায়ঃ

গুগল এডসেন্স থেকে আয়ঃ

গুগল এডসেন্স হলো গুগলের এইটি বিজ্ঞাপন প্রচার প্রোগ্রাম। এখানে বিজ্ঞাপন দাতার কাজ থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে প্রচারকের বা পাবলিশার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। এবং এই কাজের জন্য যদি বিজ্ঞাপন দাতার কাছ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয় তাহলে বিজ্ঞাপন প্রচারককে ৬৮ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়।

তো আপনি যদি ব্লগিং করেন তাহলে খুব সহজেই গুগল এডসেন্সের পাবলিশার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এবং এডসেন্স থেকে প্রতিমাসে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।

গুগল এডসেন্স এর জন্য কাজ করার কতগুলো শর্ত রয়েছে, এবং এই শর্ত মেনে আবেদন করে এডসেন্সের পাবলিশার হতে হবে। দ্রুত গুগল এডসেন্সের এপ্রুভাব পেতে, নিচের আর্টিকালটি পড়ুন।

পড়ুনঃওয়েবসাইটে দ্রুত গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়

শাখা বিপণন বা Affiliate Marketing:

শাখা বিপণন বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কেননা, এই শাখা বিপণন করার মাধ্যমে আপনি চাইলেও মাসিক লক্ষ টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হতে পারেন।

এটি করার জন্য আপনাকে একটি পণ্যের পর্যালোচনা লিখতে হবে এবং সেখানে পণ্যটির বিক্রির লিংক যুক্ত করে দিতে হবে। কেউ যদি আপনার উল্লেখিত লিংকে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করে তাহলে আপনি সেখান থেকে কমিশন পেয়ে যাবেন।

শাখা বিপণন বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বিভিন্ন উপায়ে করা যায়। আপনি যদি প্রোফেশনালভাবে এটি করতে চান এবং এখান থেকে ভালো টাকা রোজগার করতে চান তাহলে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে তারপর সেখানে এই শাখা বিপণনের কাজ করতে হবে। তাছাড়া ফ্রিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও চাইলে এটি করতে পারেন।

অর্থ প্রদত্ত পর্যালোচনা লেখা বা Sponsor Review:

আপনার ব্লগটি যদি পরিচিত(well-known) একটি ওয়েবসাইট হয় তাহলে আপনি এখানে অর্থের বিনিময়ে পর্যালোচনা লিখতে পারেন। অর্থাৎ, যদি প্রতিদিন ৪-৫ শত ভিজিটর আপনার সাইটে আসে এবং আপনার লেখা পর্যালোচনাগুলো পড়ে এবং বিশ্বাস করে, তাহলে আপনি বিভিন্ন কম্পানির সাথে সরাসরি চুক্তি করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পণ্যের পর্যালোচনা লিখতে পারেন।

তারা, তাদের পণ্যের পর্যালোচনা লিখে দেওয়ার জন্য আপনাকে টাকা দিবে কেননা এর এর তাদের কম্পানি বেশি বেশি ক্রেতা পাবে এবং বেশি বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এটি একটি বিজ্ঞাপনের মতোই কাজ কর এবং একে ইংরেজীতে Sponsor Review বলতে পারেন।

ব্যাক-লিংক(Backlink) বিক্রয়ঃ

যারা SEO সম্পর্কে জানেন তারা অবশ্যই Backlink শব্দটি শুনেছেন। Backlink বলতে মূলত অন্য ওয়েবসাইটের মধ্যে থাকা আপনার ওয়েবসাইটের লিংকগুলোকে বুজায় যা সার্চ ইঞ্জিনের রেংকিং-এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন।

তো আপনার ওয়েবসাইটটি যদি রেংকিং-এ কোনো পজিশনে থাকে এবং ডোমেইন অথরিটি খুব ভালো হয়, তাহলে আপনি আপনার সাইটে অন্য সাইটের একটি লিংক দেওয়ার জন্য ১০ ডলার থেকে ১০০ ডলারও পেতে পারেন।

নিজের পরিষেবা বিক্রয়ঃ

আপনার যদি কোনো পরিষেবা থেকে থাকে যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন বা ডেভেলোপমেন্ট, আর্টিকাল রাইটিং ইত্যাদি তাহলে আপনি আপনার ব্লগের ভিজিটরদের কাছে তা বিক্রি করে ভালো অর্থ আয় করতে পারবেন।

এটি খুব সহজ একটি ব্যপার। আপনি যদি এসব ক্যাটাগরি নিয়ে লেখালেখি করেন এবং লোকজন যদি আপনার লেখালেখিগুলো পছন্দ করে, এককথায় আপনি যদি আপনার রিডারের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেন তাহলে সেখান থেকে অনেক ভালো কিছুই করা সম্ভব।

নিজ ব্যাবসার বিজ্ঞাপন

বিশ্বের অনেক বড় বড় কম্পানিগুলো তাদের গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ব্লগ লিখে থাকে। যেমনঃ ahref, Yoast, Moz, ইত্যাদি।

কোনো ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানের ব্লগ লেখার প্রধান উদ্দেশ্য হলো গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথমে জায়গা দখল এবং গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সেবা প্রধান।

তো আপনার যদি কোনো বিজনেস থাকেন তাহলে সেই বিজনেস সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনিস নিয়ে পর্যালোচনা লেখালেখি করে গ্রাহকদের সেবা প্রধান করতে পারেন।পর্যালোচনাগুলোতে আপনার বিজনেস এর সম্পর্কে ধারণামূলক বিজ্ঞাপন রাখতে পারেন এবং সে সকল পর্যালোচনাগুলোর এসইও করে সার্চ ইঞ্জিনে জায়গা দখল করতে পারেন। এর ফলে আপনার বিজনেস এর গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং এতে আপনি বেশি লাভবান হবেন।

বিজ্ঞাপনের জায়গা বিক্রয়

আপনার ব্লগে যদি পর্যাপ্ত পাঠক আসে এবং পেইজ ভিউ করে তাহলে আপনি বিজ্ঞাপনের জায়গা বিক্রির বিষয় নিয়ে বিভিন্ন কম্পানির সাথে কিংবা যেকোনো বিজ্ঞাপনদাতার সাথে কথা বলতে পারেন।

আপনার ব্লগ যদি আকর্ষনীয় হয়, অর্থাৎ ব্যবহারকারী খুব সহজে সবকিছু ব্যবহার করতে পারে বা পড়তে পারে তাহলে আপনি বিজ্ঞাপনের যায়গা বিক্রি করার মাধ্যমে এর থেকে আয় করতে পারবেন। আপনার ব্লগে তখন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপণ প্রকাশের জন্য একটু অতিরিক্ত জায়গা রাখবেন এবং প্রতিটি জায়গায়ই বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে অর্থ রাখবেন।

অতিথি পোস্টের মাধ্যমে ব্লগ থেকে আয়

আপনি হয়তো জানেন, অনলাইনে কাউকে দিয়ে যদি কোনো পর্যালোচনা বা আর্টিকাল লেখাতে হয় তাহলে বেশ কিছু টাকা খরচ করতে হয়।

কেমন হবে যদি কেউ আপনার সাইটে আপনাকে ফ্রি ফ্রি একটি আর্টিকাল লিখে দেয় এবং এর সাথে আপনাকে ২৫ ডলার দিয়ে দেয়?

আপনি যেই আর্টিকাল টাকা দিয়ে লেখাতেন সেই আর্টিকাল ফ্রিতে পাচ্ছেন আবার সাথে ৫-৫০ ডলার পর্যন্ত পাচ্ছেন।

হ্যা। অবাক লাগারই বিষয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার ব্লগে মন দিয়ে কাজ করেন এবং সাইটের এসইও করে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে অনেক জায়গা দখল করতে পারেন। অর্থাৎ, আপনার ব্লগটিকে পাওয়ারফুল করতে পারেন, ডোমেইন অথরিটি বাড়াতে পারেন তাহলে আপনার সাইটে লোকজন টাকা দিয়ে আর্টিকাল লিখবে। হয়তো, এখন আপনি পুরো বিষয়টা বুঝবেন না। আগে এসইও এর কাজ শিখুন, ব্লগিং করা শুরু করেন তারপর সব বুঝবেন।

সর্বশেষ কথা

ব্লগ থেকে যে কত উপায়ে আয় করা যায় তা আপনি ব্লগিং করা শুরু না করে বুঝতে পারবেন না। আপনাকে ব্লগিং করার জন্যই যে আমরা উতসাহ করছি তা নয়। আপনি অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করে অর্থ আয় করতে পারবেন কিন্তু ব্লগিং করার একটি সুফল হচ্ছে এখানে ১-২ বছর সময় দেওয়ার পর আর বেশি সময় দেওয়ার দরকার হয় না।

তো আপনি যদি ব্লগিং শুরু করতে চান আপনাদের সম্পূর্ন গাইডলাইন পাবেন-

এখানে

তাছাড়া যেকোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে করতে পারেন

facebook group: https://www.facebook.com/groups/techbdtricks

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close