ব্লগিং

ব্লগিং শুরু করার আগে কি কি দরকার

ব্লগিং বর্তমানের সেরা পেশাগুলোর একটা। এমন কোনো মানুষ নেই যে কিনা ব্লগিং কে পেশা হিসেবে গ্রহন করে অন্তত মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করছে না। অনেকে এনেক জায়গা থেকে সন্ধান পেয়ে ব্লগিং করায় আগ্রহী হয়ে থাকেন।

তো যারা নতুন ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন, আজকের আর্টিকালটি তাদের জন্য সহায়ক হবে বলে আশা করি।

ব্লগিং শুরু করার আগে কি কি স্টেপ নিতে হবে তা ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলোঃ

ওয়েবসাইট

যেখানে ব্লগিং এর কথা আসে সেখানের প্রথম যে একটি কথা আসে তা হলো ওয়েবসাইট। মূলত ব্লগিং বলতে বোঝায় ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখালিখি করাকেই। তো আপনি যদি ব্লগিং করতে চান তাহলে প্রথমে আপনাকে একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে।

আর এখন খুব সহজে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট বানানো যায়। আপনি ইউটুব ভিডিও দেখে শিখে কিংবা কারো কাছ থেকে সহজেই একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারেন।

আর যদি তা না পারেন তাহলে নিচে কমেন্ট করবেন , আমি আপনাকে ওয়েবসাইট বানিয়ে দিতে চেষ্ঠা করবো।

আপনি চাইলে ফ্রিতে ব্লগারের মাধ্যমেও এটি শুরু করতে পারেন। কিন্তু এটি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া একটু কষ্টকর।

ডোমেইন এন্ড হোস্টিং

আপনি যদি ভেবে থাকেন আপনি একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করবেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের অবশ্যই একটি ডোমেইন নাম এবং ডোমেইন নামটি রাখার জন্য একটি হোস্টিং লাগবে।

এটি আপনি কোনো ইন্টানেশনাল সাইট যেমন Blue host, godaddy ইত্যাদি থেকে কিনে নিতে পারেন।

তাছাড়া বাংলাদেশে ও অনেক হোস্টিং প্রোভাইডার আছে । গুগলে সার্চ করে দেখে নিবেন।

আর যদি বলেন কোথায় থেকে হোস্টিং কিনলে ভালো হবে এর উপযোক্ত উওর আমার কাছে নেই।

কারন আমি একমাত্র বাংলাদেশের Code for Host থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিয়েছি, আর কোনোটা ব্যবহার করতে হয়নি।

ডোমেইন এবং হোস্টিং কানেক্ট করে সাইট লাইভ করা এবং ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করা

আপনার ডোমেইন এবং হোস্টিং কেনা হয়ে গেলে এখন প্রশ্ন আসে , সাইট লাইভ করানো , এটি আপনারা নিজে নিজেই পারবেন ইউটুব ভিডিও দেখে । তারপরও যদি না পারেন তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন , আমি পরবর্তীতে এটি নিয়ে আরেকটি আর্টিকাল লিখবো।

ডোমেইন হোস্টিং এ লাইভ করানোর পরে সেই ডোমেইনে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হবে ।

হোস্টিং নেওয়ার পর আপনাকে যে একটি সিপ্যানেল দেওয়া হবে সেখান থেকে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হবে।

এটি বলা যায়, একটি ফেসবুক একাঊনট খুলার মতোই সহজ, তারপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে করবেন। আমি সাহায্য করার চেষ্ঠা করবো।

এসইও সম্পর্কে সম্পূর্ন ধারনা

এসইও এর মানে হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেন। অর্থাৎ আপনার সাইটকে বা কোনো নির্দিষ্ট সাইকে এমন ভাবে সাজানো যেন কেউ কোনো নির্দিষ্ট কি-ওয়ার্ড লিখে সার্চ করলে আপনার সাইটি প্রথমে আসে।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন। এসইও ছাড়া আপনি সাইটে বেশি ভিজিটর পাবেন না। হ্যা, পাওয়া যায়, অনেকে ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সাইটে অনেক ভিজিটর আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু মনে রাখবেন গুগল অর্গানিক ট্রাফিক বেশি পছন্দ করে। (অর্গানিক ট্রাফিক মানে হলো গুগলে সার্চ করে যে ট্রাফিক বা ভিজিটর সাইটে ভিজিট করে)।

আপনি যদি মনে করে থাকেন যে শুধু ফেসবুক পেইজ কিংবা অন্য কোনো সোসাল মিডিয়া থেকে সাইটে ভিজিটর এনে ব্লগিং করে আয় করবেন তাহলে অনেক সমস্যায় ও পড়তে পারেন।

তাই এসইও না শিখে ব্লগিং করার সিদ্ধান্ত না নেওয়াই শ্রেয় বলে আমি মনে করি। আপনারা যদি রেসপন্স করেন তাহলে আমি এসইও নিয়েও লিখবো।

সাইটে আর্টিকাল পাবলিশ করা

তো আপনি যখন ব্লগিং করা শুরু করবেন দেখবেন অনেক কাজ করতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম কাজ হচ্ছে সাইটের এসইও করা। আপনি যদি নিতান্তই একা ব্লগিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে এতো কিছু করার পর্যাপ্ত সময় আপনি পাবেন না, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।

তাই , আমার সাজেশন হলো অন্তত ২০ টা আর্টিকাল আগে থেকে জোগার করে রাখুন। প্রতিদিন ১ টা করে ২০ দিনে ২০ টা আর্টিকাল পাবলিশ করুন এবং নিয়মিত সাইটের এসইও করুন । দেখবেন কাজ করে বোরিং ফিল করবেন না।

আর, আর্টিকাল পাবলিশ করার সময় কিছু কথা মাথায় রাখবেন.

  • ১০০% ইঊনিক আর্টিকাল লেখার চেষ্ঠা করবেন[ duplichecker.com দিয়ে চেক করে নিবেন]
  • আর্টিকাল কখনো স্পিন কিংবা রিরাইট সফটওয়ার দিয়ে তৈরি করবেন না।
  • ইনফরমেটিব আর্টিকাল লিখবেন যেন, সকলে এটি পরে কিছু না কিছু উপকার পায়।

সারসংক্ষেপ

এসকল বিষয় থাকলেই আপনি ব্লগিং শুরু করতে পারেন। কিন্তু পরবর্তিতে আরো অনেক কিছু লাগতে পারে যখন সাইটটি মনিটাইজ করে টাকা উপার্জন করতে যাবেন। যেনমঃ আইডি কার্ড, ব্যাংক একাউন্ট ইত্যাদি।

ওয়েবসাইট মনিটাইজ করার অনেক পদ্ধতি আছে । এ নিয়ে পরবর্তী আরেকটি আর্টিকালে লিখবো ইনশাআল্লাহ।

কিছু কথা

সাইটটিতে তেমন ভিজিটর বা রেস্পন্স না থাকায় অনেক কিছু লিখার ইচ্ছা থাকার শর্তেও লিখতে পারি না না লিখতে মন চায় না। তাই আপনাদের অনুরোধ করবো , যদি ভালো কিছু শিখতে চান তাহলে সাইটি সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন এবং ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে রেখবেন।

যাতে করে, নতুন কিছু লিখলে সবার আগে পেয়ে যান। ইনশা আল্লাহ উতসাহ পেলে সামনে ভালো কিছু নিয়ে আসবো।
ফেসবুক লিংকঃ https://www.facebook.com/techbdtricks.update

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close