হেলথ টিপস

ধূমপায়ীর ফুসফুস পরিষ্কারের প্রাকৃতিক উপায়

ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি ধূমপান মৃত্যু ঘটায়। আপনার যারা ধূমপান করি তাদের ফুসফুসসহ শরীরের অনেক যন্ত্র নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ধূমপানের আমাদের শরীরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ফুসফুসের। এটি আমাদের ফুসফুসকে পুড়ে ফেলে এবং ফুসফুসে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ তৈরি করে।

তাই, যারা ধূমপায়ী তাদের অধিকাংশই শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকেন। ধূমপান যাদের নেশায় পরিণত হয়েছে তাদের পক্ষে এটি ছাড়াও সম্ভব হয়ে ওঠে না। এবং তারা প্রতিনিয়ত আরো অধঃপতনের দিতে যায়। তাই, আজকের আর্টিকালে আমি এমন কিছু টোটকা শেয়ার করবো যেগুলো মেনে একজন ধূমপায়ী তার ফুসফুস পরিষ্কারের চেষ্ঠা করতে পারেন। নিয়মগুলো মেনে চললে মারাত্মক বিভিন্ন ব্যাধির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

গ্রিন টি বা সবুজ চা পান করুন

শারীরিক সুস্থতাযর জন্য এই গ্রিন টি বা সবুজ চায়ের কোনো বিকল্প নেই। এতে অনেক পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফুসফুস সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফুসফুসের বিভিন্ন টিস্যুগুলো ধূমপান করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। গ্রিন টি’তে থাকা এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো এই ক্ষতি থেকে আপনার ফুসফুসকে রক্ষা করবে। তাই, ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের নিয়মিত গ্রিন টি পান করা উচিত।

The Journal of Nutrition প্রকাশিত এক গবেষণায় গ্রিন টি’র সক্ষমতার বিষয়ে জানানো হয়েছে। এক হাজার কোরিয়ান প্রাপ্তবয়স্কের উপর এই গবেষণা চালিয়ে দেখা যায় যে গ্রিন টি না খাওয়া ব্যক্তিদের ফুসফুসের তুলনায় যারা নিয়মিত এটি খেয়েছেন; তাদের ফুসফুস বেশি ভালো থাকে।

অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি খাবার: 

অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি খাবারের মধ্যে রয়েছে হলুদ, সবুজ শাক-সবজি, চেরি, ব্লুবেরি, জলপাই, আখরোট, মটরশুটি ও মসুর ডাল।বিশেষজ্ঞদের মতে শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করলে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত । এসব খাবারের মধ্যে থাকা বিভিন্ন উপাদান আপনার ফুসফুসকে ভালো রাখবে।তাছাড়া এই জাতীয় খাবারগুলো সর্দি-কাশি বিরুদ্ধেও লড়াই করে আপনাকে সুস্থ রাখে। তাই বেশি করে এ ধরনের খাবারগুলো বেশি করে খাওয়া শুরু করুন। আশা করা যায় এতে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

স্টিম থেরাপি বা গরম পানির ভাঁপ নিন

স্টিম থেরাপি বা গরম পানির ভাঁপ নতুন কিছু নয়। ফুসফুসের চিকিৎসাসহ সর্দি-কাশি সহ অনেক উপকারের জন্যই এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়ে আসছে আদি কাল থেকেই। গরম পানির ভাঁপ সরাসরি ফুসফুসের এলবিউলাইকে এটাক করে এবং ফুসফুসে থাকা বিভিন্ন জীবানু বা ভাইরাসকে ধ্বংস করে দেয়। তাই, ফুসফুসকে সতেজ রাখতে হলে আব শ্বাসকষ্ট, হাপানি থেকে রক্ষা পেতে হলে সঠিক নিয়মে আমাদের নিয়মিত ভাপ নিতে হবে।

নিয়মগুলো নিন্মরূপঃ

  • প্রথমে পানিকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন।
  • এরপর গরম পানি যেকোনো একটি বাটির মধ্যে ঢেলে মুখমণ্ডলকে গরম পানির ওপর বরাবর রাখুন।
  • সতর্ক থাকতে হবে যেন মুখমণ্ডল গরম পানির সংস্পর্শে না আসে।
  • পানি এবং মুখমন্ডলের মধ্যে যেন ৫-৬ ইঞ্চি দূরত্ব থাকে তা নিশ্চিত করুন।
  • মাথার ওপর একটি তোয়ালে ধরে রাখুন।
  • এবার নাক দিয়ে জোরে জোরে ভাপ টানতে থাকুন, যেন তা ফুসফুসে পৌঁছতে পারে।

প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার এই নিয়মে ভাঁপ নিতে পারেন এবং প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট এভাবে ভাপ নিন। কতদিন পরে আপনার ফুসফুসের ক্রিয়াকলাপ আগে থেকে ভালো অনুভব করবেন বলে আশা করা যায়।

মধু খাওয়া শুরু করুন

কাশি কমাতে মধু খেতে পারেন। ফুসফুসে জমা শ্লেষ্মা দূর করতে মধু সাহায্য করে। কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে কাশির প্রকোপ কমে। মধুতে রয়েছে জীবাণুনাশক উপাদানসমূহ, যা সংক্রমণ রোধ করে।

গাজর: 

গাজরের রস শুধু ফুসফুস নয়, শরীরের নানা দূষিত পদার্থকেও বাইরে বের করে দেয়। প্রতিদিন অল্প করে গাজরের রস খেলে শরীর অনেক চাঙা থাকে। গাজরের সঙ্গে আপেল বা আঙুরের রসও খেতে পারেন। এতেও উপকার পাবেন।

শরীরচর্চা: 

ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে শারীরিক কসরতের বিকল্প নেই। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায়। ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি কমে।

ফুসফুসের সুস্থতায় নিশ্বাসের ব্যায়ামগুলো করার বিকল্প নেই। ব্রিদিং এক্সারসাইজের মাধ্যমে ফুসফুসের জটিলতা দূর করা সম্ভব। বুক ভরে শ্বাস নেওয়ায় শরীরে অক্সিজেনের সাপ্লাই বাড়ে। যারা সিওপিডি, সিসটিক ফাইব্রোসিস বা অ্যাজমার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য ব্রিদিং এক্সারসাইজ সবচেয়ে কার্যকরী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close