ইন্টারনেট বাণিজ্য শুরুর পূর্বে যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা প্রয়োজন

ইন্টারনেট বাণিজ্য শুরুর পূর্বে যে বিষয়গুলো অবশ্যই জানা প্রয়োজন

ইন্টারনেট বাণিজ্য : আপনি ইন্টারনেটে এমন অনেক ছবি দেখতে পাবেন যেখানে মানুষ তোদের কাজের বা উপার্জনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে থাকে। বিভিন্ন কাজ সম্পর্কিত তাদের সফলতা শেয়ার করে। অন্যান্যদের মত আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে তারা হয়তো এমন কিছু জানে যার ফলে তারা এসব করতে পারে। এই আর্টিকেলটিতে ইন্টারনেটভিত্তিক কাজগুলো সম্পর্কে আলোচনা করবো। আমি আমি এমন কিছু তথ্য আপনাদেরকে জানবো যা পূর্বে আশা করি আপনাকে কেউ বলেনি।

সমান সুযোগ



ইন্টারনেটের অন্যতম একটি বিষয় হচ্ছে এটি সবার জন্য সমান সুযোগ এনে দিয়েছে। কার ব্যাকগ্রাউন্ড কি বা কোথায় থাকে, বয়স, অভিজ্ঞতা কেমন হলো সেটা কোনো বাধা নয়। কিন্তু চাকুরী ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায় যাদের অনেক অর্থ, ক্ষমতা বা পরিচিতি রয়েছে তারাই সুফল ভোগ করে থাকে। আর অন্যান্যদের প্রতিভা ও যোগ্যতা থাকা সত্তেও তারা কাজ পায় না। কিন্তু ইন্টারনেটে আপনার প্রতিভা কে ব্যবহার করে যেকোনো সময় আপনার পছন্দের কাজটি শুরু করতে পারেন। এর জন্য কারো অনুমতির জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই বা বাধা দেয়ার কেউ নেই।

যেহেতু ইন্টারনেট সবার জন্যই উন্মুক্ত সেহেতু উন্নত দেশের একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে উপার্জন করছে ঠিক একইভাবে আপনিও এটিকে ব্যবহার করতে পারছেন। ইন্টারনেটে আপনার প্রতিভা ও দক্ষতার সমান মূল্যায়ন পাবে। যা অফলাইনে অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়ে ওঠেনা। ইন্টারনেটভিত্তিক কাজগুলোর কোনো ধরাবাধা সময় নয়। আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে দিনের একটি নির্দিষ্ট ধরাবাধা সময় পর্যন্ত কাজ করেন বা করতে হয়। কিন্তু অনলাইন বাণিজ্য বা ফ্রিল্যান্সিং যেহেতু স্বাধীন পেশা তাই এর কোনো ধরাবাধা সময় নেই।(ইন্টারনেট বাণিজ্য)


আপনি যে কোনো সময় কাজ করতে পারবেন। কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে কখন কাজ করবেন তা আপনার উপর নির্ভর করবে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে একই সময়ে চুক্তি হতে পারে, তখন আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হতে পারে। ফ্রিলান্সিং কে চাকরি হিসাবে গণ্য করলেও মূলত এটি বাণিজ্যের মধ্যে পড়ে। একজন ফ্রিল্যান্সার মূলত একজন ব্যবসায়ী। তারা তাদের সেবাগুলোর মাধ্যমে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করে থাকে। যত বেশি কাজ করবেন ততই উপার্জন বৃদ্ধি হবে। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

তবে এর পুরো নিয়ন্ত্রণ আপনার কাছে থাকায় আপনি চাইলে কাজ কমিয়ে নিয়ে ইচ্ছা মত ছুটি কাটাতে পারেন। যেহেতু বেশি কাজে বেশি উপার্জনের সুযোগ রয়েছে তাই বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সারই অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করতে দ্বিধা করেনা। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

ইন্টারনেটের সুযোগগুলো মেয়েদের জন্য উপযুক্ত। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থল গুলো অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই প্রতিভা থাকলেও পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে মেয়েরা কাজ করতে পারে না। কিন্তু ইন্টারনেটে কাজ গুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি একদম ভিন্ন। মেয়েরা তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে কাজ করতে পারে। যেহেতু সরাসরি প্রতিষ্ঠান যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তাই বাইরে যাতায়াত না করেও বাড়িতে থেকেই তারা কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারে। যা পরিবারের উন্নয়নের অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।(ইন্টারনেট বাণিজ্য)

পণ্য-সেবা বিক্রয় না করে উপার্জন করার মাধ্যম। অনলাইনে আয় করার অন্যতম প্রচলিত একটি মাধ্যম হলো পণ্য বা সেবা অফার করা। একটি পরিসংখ্যান সংস্থা ইমার্কেটারের তথ্য মতে বিশ্বব্যাপী অনলাইনে প্রায় 3.5 বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য-সেবা বিক্রয় হয়েছে। আপনি ইকমার্স বাণিজ্যের মাধ্যমে আপনার পন্য গুলোকে বিক্রি করার মাধ্যমে যেমন উপার্জন করতে পারেন ঠিক তেমনি কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছে যারা ফ্রিল্যান্সিং করে উপার্জন করতে পারেন। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

কিন্তু অনলাইনের অনেকগুলো কাজের মধ্যে এগুলো উপার্জনের মাত্র দুটি উপায়। আপনি চাইলে পণ্য বিক্রি না করেও কাজ করতে পারেন। যার মধ্যে গুগল এডসেন্স অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। ইন্টারনেট প্রচার-প্রচারণায় অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকে। ইমার্কেটারের পরিসংখ্যান মতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয় করেছেন 333 বিলিয়ন ডলার। অন্যান্য খাতের মতো বিজ্ঞাপনের অনেক বড় একটি বাজার রয়েছে। গুগল এ বাজারে প্রথমে রয়েছে। যারা গুগল এডসেন্স নিয়ে কাজ করছেন তারাই মূলত এই সেক্টরের সাথে সম্পর্কিত। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

ওয়েবসাইট বা ইউটিউব কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে আপনি এই সেক্টরে কাজ করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে পণ্য-সেবা বিক্রয় না করেও আপনি উপার্জন করতে পারবেন। যত ভাল কনটেন্ট আমি প্রকাশ করবেন মানুষ মাত্রই আপনার কন্টাক্ট এর সাথে যুক্ত থাকবে। সে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে বিজ্ঞাপন দাতাদের থেকে আয় করতে পারবেন। যারা পূর্ণসেবা বিক্রয় করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এটি দারুণ একটি পদ্ধতি হতে পারে। এখানে মাসে নির্দিষ্ট আয়েরর কোন গ্যারান্টি নেই। আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে মাসে আপনার নির্দিষ্ট উপার্জন নিশ্চিত।

কিন্তু ইন্টারনেটের কাজের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন। এখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ উপার্জনের কোন গ্যারান্টি নেই। বলতে পারেন এটি অনলাইন কাজগুলোর নেতিবাচক। কোখনো আপনার উপার্জন হবে কয়েকগুন আবার কখনো কম। বিষয়টি নির্ভর করে কি পরিমান মানুষকে বা সংস্থাকপ পরিষেবা দিতে পারছেন। তার ওপর যদি মন্দ পণ্য বা সেবা প্রদান করেন বিশ্বাস হারাবেনা। আর্থিকভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে। তবে ভালো পণ্য বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে তারা বারবার আপনার সেবা গ্রহণ করবে। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

এতে আপনার উপার্জনের এটি নিশ্চয়তা থাকবে। শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন কাছে কাজ করেন সেখানেও বিষয়টি প্রযোজ্য হবে। যত ভালো কন্টেন্ট প্রকাশ করবেন মানুষ যতই আপনার কনটেন্ট এর সাথে যুক্ত থাকবে এবং ধীরে ধীরে উপার্জন বৃদ্ধি হবে। গ্যারান্টি নেই বিধায় এই সুযোগগুলো থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। যাই করো না কেন সেটা ভালোভাবে করুন। দেখবেন অন্যান্য পেশার তুলনায় উপার্জন কোন অংশে কম হবে না।

ব্রান্ডিং। অনলাইনে বাণিজ্য হোক অথবা চাকুরী, ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন কিছু দোকানে ক্রেতারা লাইন ধরে পণ্য সেবা নিচ্ছে আর অনেকে ডাকাডাকি করে ক্রেতা পাচ্ছে না। কেও চাকরি পাচ্ছে না আবার কারো কাছে চাকুরীর কোন অভাব নেই। কেও একটি চাক্রি গেলে অন্যটি পেয়ে যায় কিন্তু অনেকেই রয়েছে যোগ্যতা থাকা সত্বেও কাজ পাচ্ছে না। এই ভিন্নতার কারণ আর কিছুই নয়। সেটি হচ্ছে ব্র্যান্ডিং। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড পরিচিতি যত বেশি তাদের গ্রাহক ও ততো বেশি। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

তাই যে পেশায় কাজ করেন না কেন ব্র্যান্ড পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করুন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবেন। বেশিরভাগ মানুষ প্রতিযোগিতার জালে জড়িয়ে শেষে হতাশ হয়ে পড়ে। এই প্রতিযোগিতার জাল থেকে বের হওয়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে ব্র্যান্ডিং। অন্য সবার থেকে আপনার কাজ বা প্রতিষ্ঠানকে ভিন্ন করে তুলবেন। ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করলে কেমন হয় কমেন্টে জানাবেন।

নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করুন



ইন্টারনেট হচ্ছে প্রযুক্তির দুনিয়া। যা খুব দ্রুত বদলাতে থাকে। নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন আসছে। যদি ইন্টারনেটে আপনার অবস্থান শক্তিশালী করতে চান তাহলে নতুন নতুন গ্যাজেটের ব্যবহার শিখে যেতে হবে।

অনলাইনে এমন অনেক গ্যাজেট আছে জেগুলার কাজ আপনাকে শিখে যেতে হবে। এছাড়াও অন্যান্য কাজ বা সার্ভিা দেওয়ার কাজ করার পাশাপাশি আপনার নিজের বাণিজ্য সেগুলো কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে থাকতে পারবেন। ইন্টারনেটে নিজের অবস্থান ধরে রাখার নতুন গ্যাজেটের কাজ শেখার কোনো বিকল্প নেই। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

এক্সপার্টদের সাহায্য নিন



আপনি যদি কোনো সাবজেক্টে দূর্বল হন তাহলে আপনি কি করেন? সেই বিষয়ে শিক্ষক বা এক্সপার্ট নিয়োগ দেন। যেন তাদের সহযোগিতায় সেই বিষয়ক সমস্যা গুলোর সমাধান করতে পারেন। বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। আপনি একা সবকিছুতে এক্সপার্ট হতে পারবেন না। যে বিষয়গুলোতে আপনি দুর্বল সেগুলোতে এক্সপার্টদের সাহায্য নিন, আর আপনি যে বিষয়টি ভালো করেন সেটি তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে বলা হয়। আউটসোর্সিং দক্ষতা কি ধরনের পণ্য সেবা অফার করতে হবে বা কিভাবে পণ্য উৎপাদন করতে হবে তা আপনি ভালো পারেন কিন্তু লাইসেন্স কিভাবে নিতে হবে তার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে তা আপনি জানেন না। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

ডিজিটালি পণ্যগুলো কিভাবে প্রচার করতে হবে বানানোর জন্য অ্যাপস ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করতে হবে তা আপনি জানেন না। অনেকেই সব কিছু নিজে নিজে করতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যায় এবং বিষয়গুলো জটিল করে ফেলে। অনলাইনে এমন অনেক এক্সপার্ট দের আপনি পেয়ে যাবেন যাদের সাহায্যে জটিল কাজগুলো কিছু অর্থ খরচ করার মাধ্যমে সম্পন্ন করে ফেলতে পারবেন। যা অনেক কিছুই আপনার একার পক্ষে করা সম্ভব হবেনা। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)



উপার্জনের একাধিক পন্ধতি তৈরি করুন



শুধুমাত্র একটি উপার্জনের ওপর নির্ভর থাকা কখনই উচিত নয়। একাধিক পদ্ধতিতে উপার্জনের পথ খুজে বের করুন। বর্তমানের প্রযুক্তির সাহায্যে একাধিক উপার্জনের পন্থা তৈরি করা সম্ভব। আপনি যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে সেটি দ্বারা ফ্রিল্যান্সিং করার পাশাপাশি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড এবং ওয়েবসাইটে আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারেন। আপনার পণ্যগুলো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রয় করতে পারেন এবং এমন আরো অনেক উপায় রয়েছে কোন একটি বিষয়ে এত অভিজ্ঞ হলে সেটিকে নানাভাবে ইন্টারনেটের সাহায্যে কাজে লাগাতে পারেন। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

শৃঙ্খলা ও অনুপ্রেরণা


ইন্টারনেট বাণিজ্যঃ অনলাইনে স্বাধীনভাবে কাজ করলে সময় নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে থাকবে। যদি সঠিকভাবে সময়কে ব্যবহার করতে না পারেন তাহলে সময় অযথাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই একটি রুটিন বা কাজের ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করে সেই রুটিন মোতাবেক কাজ করুন। একা একা কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় একাকী অনুভব হতে পারে। অনেক সময় হতাশা চলে আসতে। পারে তাই অন্যান্যদের থেকে অনুপ্রেরণা নিন। অবশর সময়ে দেশি-বিদেশি আপনার কাজ সম্পর্কিত ওয়েবসাইট গুলো পড়ুন। এতে অন্যরা কিভাবে কাজ করছে ও কি ধরনের সফলতা পাচ্ছে তার সম্পর্কে জানতে পারবেন। যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে ও এগিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করবে। (ইন্টারনেট বাণিজ্য)

আশা করি অনেক কিছু জানতে পারলেন এই আর্টিকেলটি পরে। ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

 

আরো পডুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link